শিরোনাম
 কেয়া গ্রুপের এমডি খালেক পাঠান গ্রেফতার  অবশেষে টেস্ট দলে মুমিনুল  পোশাক শ্রমিকদের ছুটি শুরু ২৮ আগস্ট  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২২:৫১:১৩

ষড়যন্ত্র হচ্ছে, রুখতে হবে: তোফায়েল

সমকাল প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, দেশীয় ও আন্তজাতিক একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি বলেই চক্রান্ত করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধু হত্যার ধারাবাহিকতায় সে ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও বারবার হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে।

এ সময় স্বাধীনতা এবং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য অনেক অজানা তথ্য সামনে নিয়ে আসেন তোফায়েল আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।স্মৃতিময় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। প্রবীণ এই নেতার এই বক্তব্য নতুন প্রজন্মের অনেক সাংবাদিক গভীর মনোযোগে শুনেছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙলার মানুষ ও বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তার জীবনের ৪ হাজার ৬৮২ দিন অর্থাৎ ১২ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্রান্তের মাধ্যমে ষড়য্ন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারলেও তার আদর্শ হত্যা করতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ থাকবে, বাঙালি জাতি ও বাংলার মাটি থাকবে- ততদিন মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় জাতির পিতার নাম চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, কেউ যদি বাংলাদেশের ক্ষতি করে থাকেন, জিয়াউর রহমানই সেটি করেছেন। তিনি সরাসরি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত।

এ প্রসঙ্গে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে জাতির পিতাকে ছোট করে প্রধান বিচারপতির ‘কারও একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি’- এমন মন্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করে দেশকে স্বাধীন করেছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রধান বিচারপতি যে কথা বলেছেন, তা অসাংবিধানিক, অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য। সংসদ সার্বভৌম ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। সেই সংসদকে ‘অপরিপকক্ক’ বলে এর অবমাননা করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, কেউ যদি বাংলাদেশের ক্ষতি করেন, তিনি জিয়াউর রহমান। জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের আপিলে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানিতে অংশ নেওয়া ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের সমালোচনা করে তোফায়েল বলেন, এরা চতুর। এরা চালাক। এরা চতুরতার সঙ্গে কথা বলে সত্যকে আড়াল করতে চান।

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যা বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। যারা নেপথ্যের ষড়ন্ত্রকারী তাদের বিচারও অবিলম্বে শুরু করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে গোলাম সারওয়ার বলেন, তার নিরাপত্তার প্রশ্নে শৈথিল্যের সুযোগ নেই।

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে হলে সেই সময়ের রাজনীতিবিদ, সেনা কর্মকর্তা, আমলা, উগ্র চীনপন্থি ও জাসদের ভূমিকাও তুলে আনতে হবে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, বিচার বিভাগ বিচার করবে। কিন্তু যে পর্যবেক্ষণ তারা দিয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে অসম্মানিত করা হয়েছে, তা নিন্দনীয়।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, একজন প্রধান বিচারপতির রায়ে স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বকে মুছে ফেলা যাবে না। ইতিহাস বিকৃত করে নতুন তথ্য উত্থাপনের চেষ্টা, সেটি প্রধান বিচারপতি কিংবা জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিরা যারাই করুন না কেন, সফল হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিরা কোনো কথা বলেনি। আজও তারা পাকিস্তানি ধারার রাষ্ট্রসীমা গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে। বাংলাদেশ এখন পঁচাত্তরের চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।  

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, পঁচাত্তরের হত্যা ও ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা আজও অব্যাহত আছে। তা না হলে প্রধান বিচারপতির রায়ে কীভাবে বলা হয়, একজনের নেতৃত দেশ স্বাধীন হয়নি। রায়ের পর্যবেক্ষণে অনেকের মধ্যে একজন করার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তাকে অসম্মানিত করা হয়েছে।

প্রথম আলোর যুগ্মসম্পাদক আবদুল কাইয়ুম মুকুল বলেন, বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন, সেই বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। 

মূল প্রবন্ধ সাংবাদিক-গবেষক সৈয়দ বদরুল আহসান বঙ্গবন্ধু হত্যার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন. এখন সময় এসেছে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা কারা জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে সামনে আনার। ৪২ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে বলে আমরা তৃপ্তি পাচ্ছি। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে না, সেটি বলা যায় না। তাই সতর্ক থাকতে হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ঘাপটি মেরে বসে আছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের জন্যই আজ আমরা ভীতসশস্ত্র। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সেমিনার উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি সাইফুল আলম এবং আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। ধন্যবাদ প্রদান করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved