শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৯:১৪:০৯ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৯:৫০:০০

৩০ বছর পর মিলল পুরুষ সঙ্গী

রাজশাহী ব্যুরো
দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিরহ কাটলো রাজশাহী চিড়িয়াখানার দুটি নারী ঘড়িয়ালের।

শনিবার ঢাকা চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয রাজশাহীর একটি নারী ঘড়িয়াল। আর রোববার সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহী চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়েছে একটি পুরুষ ঘড়িয়াল। এতে দুই নারীই দীর্ঘ ৩০ বছর পর পেয়েছে পুুরুষ সঙ্গী।

রাজশাহী চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ উদ্দিন জানান, রাজশাহী চিড়িয়াখানায় দুটি নারী এবং ঢাকা চিড়িয়াখানায় চারটি পুরুষ ঘড়িয়াল ছিল ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। দুটি চিড়িয়াখানার কোনটাতেই নারী পুরুষের কোনও জোড়া ছিল না। তাই বংশবৃদ্ধিও বন্ধ ছিল।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে রাজশাহী চিড়িয়াখানার একটি নারী ঘড়িয়াল আটক করে ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। শনিবার সকালে সেটি ঢাকা চিড়িয়াখানার জলাশয়ে মুক্ত করা হয়। সেখানে রয়েছে চারটি পুরুষ ঘড়িয়াল। এর মধ্যে একটি পুরুষ ঘড়িয়াল ধরে আনা হয়েছে রাজশাহীতে। অবশিষ্ট তিনটি পুরুষের মধ্যে একটির সঙ্গে নারী ঘড়িয়ালটি মিলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে আনা পুরুষ ঘড়িয়ালটি রোববার সকালে এনে ছাড়া হয়েছে রাজশাহী চিড়িয়াখানার জলাশয়ে।

তিনি আরও জানান, পানিতে ছাড়ার পর প্রথমে দুটি একটু দুরত্ব বজায় রাখে। পরে তাদের কাছাকাছি হয়ে এক সঙ্গে ভাসতে দেখা গেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মাঝে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তারপরও তাদের নজরদারিতে রেখে গতিবিধি ও আচরণ বোঝার চেষ্টা চলছে।

ফরহাদ উদ্দিন জানান, ঢাকা চিড়িয়াখানার তিনটি ঘড়িয়ালের মধ্যে যেটি বেশি শক্তিশালী তার সঙ্গেই মিলিত হবে রাজশাহীর নারী ঘড়িয়ালটি। আগামী ডিসেম্বর- জানুয়ারি মাস ঘড়িয়ালের প্রজননের মাস। মার্চ-এপ্রিল মাসে তারা ৪০ থেকে ৪৫ টি পর্যন্ত ডিম দেয়। কিন্তু পুরুষ সঙ্গির অভাবে তারা এতোদিন ডিম দেয়নি। এখন সঙ্গী মেলায় আশা করা হচ্ছে আগামী মৌসুমেই তারা মিলিত হবে এবং বাচ্চা উৎপাদন করবে।

চিড়িয়াখানার সূত্র জানায়, আবারো ঘড়িয়ালকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইইউসিএন এর উদ্যোগে দেশের চিড়িয়াখানাগুলোতে থাকা বিলুপ্তপ্রায় ঘড়িয়ালের জোড়া মিলিয়ে প্রজননের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার মহাখালীতে আইইউসিএন এর উদ্যোগে দেশের সবগুলো চিড়িয়াখানার কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, এসব ঘড়িয়ালগুলোর জোড়া মেলানোর মাধ্যমে প্রকৃতিতে ঘড়িয়াল ফিরিয়ে আনার। জোড়া মেলার পর এসব ঘড়িয়াল যেসব বাচ্চা উৎপাদন করবে তা পদ্মানদীতে ছাড়া হবে। তৈরি করা হবে ঘড়িয়ালের অভয়ারণ্য।

সূত্র জানায়, একটি ঘড়িয়াল সাধারণত বদ্ধ জলাশয়ে ৪৫ বছর বেঁচে থাকে। তারা প্রজননের উপযোগী হয় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সে। সেই বিবেচনায় রাজশাহীর ঘড়িয়াল দুটির যৌবনপ্রায় শেষের দিকে। তারপরও তাদের পুরুষ সঙ্গী দিয়ে বাচ্চা উৎপাদনের চেষ্ট করা হবে।

এশিয়া মহাদেশের বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল আর পাকিস্তানের বড় নদীতে ঘড়িয়ালের বসবাস। এরমধ্যে পদ্মার নদীর অববাহিকাতে এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যেতো। কুমিরের একটি প্রজাতি হলেও এটা কুমিরের চেয়ে অনেক নিরিহ প্রাণী। এরা মাংসাসী নয়। শুধু মাছ খেয়ে জীবনধারণ করে বলে এর আরেকটি নাম মেছো কুমির। ইংরেজীতে বলা হয় গাভিয়াল। এছাড়া ঘাড়েল, বাইশাল নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম গ্যাভিয়ালিস গ্যাঙ্গেটিকাস।

এক সময় রাজশাহী অঞ্চলের পদ্মায় দেখা যেতো হাজার হাজার ঘড়িয়াল। জেলেরা কারণে অকারণে মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়ই ঘড়িয়াল হত্যা করেছে। তাছাড়া পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এই প্রাণীটি এখন মহাবিপন্ন। তাই বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) একে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীতে মাত্র ২০০টির মতো ঘড়িয়াল রয়েছে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved