শিরোনাম
 সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলি  একের পর এক সিইও পদত্যাগ করায় ট্রাম্পের ব্যবসায়ী পরিষদ বিলুপ্ত
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৫:১৯:১৭ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৭:৩৪:৫২

ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি

ফরহাদ আলম সুমন, লালমনিরহাট
তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতি ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যার চেয়েও ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের।

বন্যায় লালমনিরহাট সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালীগঞ্জের ভোটমারী, তুষভাণ্ডার ও কাকিনা ইউনিয়নও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পানি পরিমাপক) আমিনুর রশীদ জানিয়েছেন, রোববার সকালে তিস্তা ব্যারাজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজ স্থাপনের পর থেকে এ পর্যন্ত তিস্তায় বিপৎসীমার এতো ওপর দিয়ে পানি প্রবাহের রেকর্ড নেই জানিয়ে তিনি বলেন, পানি আরও বাড়তে পারে।

প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ আরও জানান, পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী বাজার থেকে তিস্তা ব্যারাজের আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত ৫০০ মিটার 'ফ্লাড বাইস' মহাসড়কটি ভেঙে গেছে। এতে নীলফামারীর সাথে লালমনিরহাটের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত চার দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের ধরলা, তিস্তা ও সানিয়াজান নদীসহ ছোট-বড় নদ-নদীতে পানি বেড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকার লোকজনের পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। গত তিন-চারদিন ধরে রোপা আমন ক্ষেত পানির নিচে রয়েছে। তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেতও।

হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন জানান, তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণকাল থেকে এমন বন্যা আর কখনো হয়নি। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, ‘শনিবার সারারাত ঘুমাতে পারিনি। তিস্তা পাড়েই ছিলাম। চোখের সামনে স্থানীয় লোকজনের ঘরবাড়ি-গাছপালা নদীগর্ভে বিলিন হতে দেখেছি। এমনকি রাতের মধ্যে তিস্তা ফ্লাড বাইপাস মহাসড়কটি ভেঙে গেছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার ক্যাম্প ও পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নীলফামারীর সঙ্গে লালমনিরহাটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চারদিকে পানি আর পানি এবং অনাহারী লোকজন। কী হবে আর কী করবো বলতে পারছি না। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ মোতাহার হোসেন এমপিকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের পথে রওয়ানা হয়েছেন।'

হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, 'অনাহার ক্লিষ্ট লোকজনের আশা যেন তিস্তার বানের পানিতে মিশে গেছে। টানা বৃষ্টিপাতে এসব লোকজন ভেজা কাপড়েই দিন-রাত কাটাচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে থাকা লোকজনের অবস্থা আরো বেশি খারাপ। কোথাও মেডিকেল টিম নেই। এসব লোকজন নিয়ে কী করবো বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের দু'একজন কর্মকর্তাকে দেখা গেলেও তারা খালি হাতে চুপি চুপি চলছেন।'

এদিকে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন, 'ধরলার প্রবেশপথ বুড়িমারী ও তিস্তার প্রবেশপথ দহগ্রাম ইউনিয়নসহ গোটা উপজেলা বন্যায় তলিয়ে গেছে। কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমর পানির মধ্যে লোকজন বসবাস করছেন।'

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক সফিউল আরিফ বলেন, 'ত্রাণ বিতরণের চেয়ে এখন বন্যা কবলিত এলাকার জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়াই জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কাজটিও চলছে, ত্রাণও বিতরণ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও অবহতি করা হয়েছে।'

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved