শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০২:৪২:৫৬
জঙ্গি অর্থায়নের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক

সুজনের ভাইয়ের খোঁজে আটকে আছে চার্জশিট

সাহাদাত হোসেন পরশ

জঙ্গি অর্থায়নের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত একটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ করে এনেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। তবে সিরিয়ায় নিহত জঙ্গি সাইফুল হক সুজনের ভাই আতাউল হক সবুজকে আইনের আওতায় আনতে না পারায় দুই বছর ধরে মামলার চার্জশিট আটকে আছে। সবুজ বর্তমানে স্পেনে পলাতক রয়েছে বলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।



গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য কেনাকাটার শীর্ষস্থানীয় ওয়েবসাইট 'ইবে' ও অনলাইন লেনদেনের মাধ্যম 'পেপ্যাল' ব্যবহার করে অর্থ পাঠিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আর এ কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ছিল বাংলাদেশি কম্পিউটার প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা সুজন। সে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার রাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়। জঙ্গিবাদে সাইফুলের অর্থায়ন সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা গতকাল সমকালকে জানান, সিরিয়ায় সুজনের মারা যাওয়ার খবর অসমর্থিত সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এখন এ মামলার আরেক প্রধান অভিযুক্ত সবুজের খোঁজ পাওয়া জরুরি। এ কারণে তদন্ত শেষ হলেও মামলার চার্জশিট দাখিলে বিলম্ব হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত সবুজকে পাওয়া না গেলে তাকে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর কারওরান বাজারে সুজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আইব্যাকস টেকনোলজিস লিমিটেডের কার্যালয়ে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই সময় হাতেনাতে ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকাসহ সুজনের বাবা আবুল হাসনাতকে গ্রেফতার করা হয়।



এদিকে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বিশেষ কোড ব্যবহার করে জঙ্গিবাদে ব্যবহৃত অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এর নেপথ্যে ছিল সুজন। অ্যাবাকাস থেকে টাকা উদ্ধারের পর এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজনের নাম উঠে আসে। তারা হলো- সুজন, তার ভাই হাসানুল হক গালিব ও আতাউল হক সবুজ, বাবা আবুল হাসনাত এবং নাহিদউদ্দোজা মিয়া, তাজুল ইসলাম শাকিল ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। তাদের মধ্যে সবুজ ও সুজন ছাড়া অন্য পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। চলতি বছরের শুরুতে হাসনাত কারাবন্দি থাকাকালে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। অন্য চারজন বর্তমানে জামিনে রয়েছে।



পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সুজনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। ২০০৩ সালে সে যুক্তরাজ্যে পড়তে যায়। এর পর উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুলাইয়ে দেশে আসে সুজন। পরের মাসে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সিরিয়ায় চলে যায়। বিশ্বের কয়েকটি দেশে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের নামে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে তার ভাই সবুজের বিরুদ্ধে। কলার চালানের আড়ালে জঙ্গিদের তহবিলে মোটা অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করছিল তার প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া হুন্ডি ও মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে জঙ্গি অর্থায়ন করা হতো। আইব্যাকসের আড়ালে এ টাকা সংগ্রহ করত সুজনের বাবা হাসনাত। এর পর হাসনাতই এসব অর্থ জঙ্গি সদস্যদের কাছে পেঁৗছে দিত।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved