শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০২:৪১:০৬
ভোটের হাওয়া: চট্টগ্রাম-৪

আওয়ামী লীগে গৃহদাহ ইমেজ সংকটে বিএনপি

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) আসনে মনোনয়ন যুদ্ধ হবে নবীন ও প্রবীণে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অনেকটা নিশ্চিত থাকলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। বর্তমান এমপি দিদারুল আলমকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবার আটঘাট বেঁধেই নেমেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন। তার সঙ্গে 'নৌকার মাঝি' হতে নীরবে কাজ করছেন সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। প্রার্থী হতে পারেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরীও। যিনিই মনোনয়ন পান না কেন, বিজয়ী হতে হলে গৃহদাহ তাড়াতে হবে। আর বিজয় ছিনিয়ে আনতে বিএনপি প্রার্থীকে ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। বড় দুই দলের সমস্যাকে কাজে লাগাতে প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে উপজেলা জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট নুর মোস্তফা ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবিরকে।



২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে অগি্নগর্ভ হয়ে উঠেছিল সীতাকুণ্ড। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেললাইন অচল করে দিতে সীতাকুণ্ডে সংঘটিত হয় একের পর এক নাশকতা। এজন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আগামী নির্বাচনেও এ ইস্যুটি বড় হবে এ আসনে। আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নাশকতার অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে; আছে চেক প্রতারণা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও। ভারতে গিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জেলও খাটেন। বেশিরভাগ মামলায় জামিনে থাকলেও চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে আছেন আসলাম চৌধুরী। গত ২০ জুলাই আদালত চত্বরে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে সব ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। একের পর এক মামলা দিয়ে তাকে রাজনীতিতে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টা হয়েছে। জনগণ এসব কিছুর জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।



বিএনপির এই প্রার্থীর জন্য ইমেজ সংকট ফ্যাক্টর হলেও আওয়ামী প্রার্থীর জন্য দুর্ভাবনার নাম কোন্দল। বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ২০১৪ সালের নির্বাচনে হেসেখেলে এমপি হন দিদারুল আলম। তার জন্য এবার সমীকরণ অতটা সহজ হবে না। তাকে এবার বিরোধী দলের পাশাপাশি ঘরের শত্রুকেও মোকাবেলা করতে হবে। সাবেক এমপি আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এসএম আল মামুন আগেভাগেই নেমেছেন নির্বাচনী মাঠে। তার অনুসারীরা বলছেন, বাবার ইমেজের পাশাপাশি দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী মামুনের সঙ্গে আছেন। তারা এবার প্রার্থী হিসেবে মামুনকেই চান। দিদারুলের অনুসারীরা বলছেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অধিকাংশই তার সঙ্গে রয়েছেন। তাই তিনিই হবেন দলের প্রধান সম্ভাব্য প্রার্থী।



দিদারুল আলম বলেন, গত তিন বছরে সীতাকুণ্ডে শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনও বন্ধ। আগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালানোর নামে নির্বিচারে চাঁদাবাজি হতো। তিনি এমপি হওয়ার পর তা বন্ধ হয়েছে। এখন আর কেউ রাজনীতির নামে ব্যবসা করতে পারছে না। এজন্য দলের একটি অংশ হয়তো ক্ষুব্ধ; কিন্তু ৮০ শতাংশ নেতাকর্মীই তার সঙ্গে রয়েছেন।



এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন এসএম আল মামুন। তিনি বলেন, বর্তমান এমপি সীতাকুণ্ডে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। তার সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই। এমপি দিদারুলের বিরুদ্ধে ইয়ার্ড, জায়গা দখলসহ নানা অভিযোগ আছে। তার কারণে দলের ইমেজও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মামুন জানান, দলের কার্যনির্বাহী কমিটি ও তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো নিশ্চয়ই বিবেচনা করবেন।



স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী বলেছেন, কোন্দল এড়াতে হয়তো নিরপেক্ষ কাউকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করতে পারে আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনেও মনোনয়নের আগে এ ক্ষেত্রে সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের নাম আলোচনায় এসেছিল। সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর জানান, তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী নন, ব্যবসা নিয়েই থাকতে চান। তার পরও কেন যেন সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে তাদের পরিবারের নাম বারবার আলোচিত হচ্ছে। গত নির্বাচনের আগেও তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এবারও হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা সময়ই বলে দেবে।



মোস্তফা কামাল চৌধুরী ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছি। দলের মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করতে প্রস্তুত।



আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন উপজেলা জামায়াতের অ্যাডভোকেট মোস্তফা নূর। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। তিনি একাধিক নাশকতা মামলার আসামি। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী দিদারুল কবির জানান, সীতাকুণ্ড থেকে তিনি আগেও সংসদ নির্বাচন করেছেন। এবারও নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved