শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০২:৩৯:০৫
বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স

বদলে গেছে টুঙ্গিপাড়া

বিশ্বাস সিরাজুল হক পান্না, টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ)

এক সময় টুঙ্গিপাড়া ছিল গোপালগঞ্জ মহকুমার সদর থানার পাটগাতী ইউনিয়নের একটি অজপাড়াগাঁ। এই গ্রামেই জন্মেছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জন্মগ্রামেই তিনি সমাহিত হয়েছেন। এক সময় এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। রাস্তা-ঘাট বলতে কিছু ছিল না। টুঙ্গিপাড়া থেকে পাটগাতী বাজার বন্দর পর্যন্ত ছিল জেলা বোর্ডের কাঁচা রাস্তা। সেই কাঁচা রাস্তায় ছিল আবার ৮-৯টি নড়বড়ে কাঠের পুল। হাট-বাজারে যাওয়া- আসা করতে হতো শীতকালে হেঁটে আর বর্ষাকালে নৌকায়। এই গ্রাম থেকে গোপালগঞ্জের দূরত্ব ১৯ কি. মি.। কোর্ট-কাছারি কিংবা অন্য কোনো কাজে মহকুমায় যেতে হলে হেঁটে অথবা নৌকা ছাড়া অন্য কোনো বাহন ছিল না। যাওয়া-আসায় সময় লাগত ৮-১০ ঘণ্টা। চিকিৎসার জন্য গ্রাম্য ডাক্তার কিংবা কবিরাজই ছিল একমাত্র ভরসা। স্বাধীনতার পর টুঙ্গিপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় শেখ সায়েরা খাতুন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল। এই গ্রামের জীবনযাত্রার মান ছিল নিতান্তই দিনহীন। দু-একটি পরিবার ছাড়া অধিকাংশ মানুষ ছিল দরিদ্র। অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটত। পাকা ঘরবাড়ি ছিল না। বেশিরভাগ ঘর-বাড়ি ছিল ছন ও গোলপাতার। অবশ্য বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষদের বাড়িটি ছিল পাকা। কালের বিবর্তনে টুঙ্গিপাড়ার চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বঙ্গবন্ধু এই গ্রামে সমাহিত হওয়ায় দেশের প্রধান দর্শনীয় স্থানের একটি হয়ে উঠেছে টুঙ্গিপাড়া। টুঙ্গিপাড়া এখন পর্যটন স্থানও।



জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্সকে ঘিরে টুঙ্গিপাড়া হয়ে উঠেছে বাঙালি জাতির তীর্থস্থান। তাঁর প্রতি সন্মান জানাতে প্রতিদিন এখানে আসেন হাজারো মানুষ। কেউ সমাধি বেদিতে পুষ্প অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কেউ বা দোয়া-দরুদ পড়ে করেন বিশেষ মোনাজাত। তবে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যারা আসেন, তারা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের মৃতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মজীবনে সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় করেন দোয়া ও মোনাজাত।



প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শুধু নন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি সন্মান জানাতে আসেন কবি-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমী সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া জাতীয় দিবসগুলোতে তাঁর প্রতি সন্মান জানাতে আসেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জাতীয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে জমায়েত হন লাখো মানুষ। তারা বঙ্গবন্ধুর সমাধি বেদিতে পুষ্প অর্পণ করে জানান বিনম্র শ্রদ্ধা। দোয়া- দরুদ পড়ে অংশ নেন বিশেষ মোনাজাতে। অনেকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে রক্ষিত মন্তব্য বইতে করেন স্বাক্ষর।



৩৮ একর ৩৩ শতক জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সমাধি কমপ্লেক্স। এর আওতায় রয়েছে লাইব্রেরি, রয়েছে জাদুঘর। জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ বহন করা কফিন ও বিভিন্ন সময়ের ঐতিহাসিক ছবি। এ ছাড়া এই কমপ্লেক্সে রয়েছে এমপি থিয়েটার, মসজিদ, ক্যান্টিন, পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। দর্শনার্থীরা এসব স্থান ঘুরে ঘুরে দেখেন।



বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সকে ঘিরে পাল্টে গেছে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনপ্রবাহ। প্রতিদিন হাজারো মানুষের আগমনে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক জীবনে পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব। শিক্ষা-দীক্ষাসহ আচার-আচরণে এসেছে বিপুল পরিবর্তন। এই সমাধি কমপ্লেক্সকে ঘিরে বেড়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এতে লাভবান হয়েছেন কয়েক হাজার ভ্যান, ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা চালক ও মালিক। অনেক বেকার তরুণের কর্মসংস্থান হয়েছে।



পুরো দেশের সঙ্গে বর্তমানে টুঙ্গিপাড়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। এই সমাধি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে দর্শনার্থীদের নিয়ে প্রতিদিন আসছে গাড়ির বহর, মাইক্রোবাস, কার ইত্যাদি। এখানে স্থাপন করা হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন। সেখান থেকে এলাকাজুড়ে ঘরে ঘরে পেঁৗছে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিআরটিসি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, শহীদ শেখ জামাল যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শেখ রাসেল দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল (নির্মাণাধীন)। উন্নয়ন করা হয়েছে গিমাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান, গিমাডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাল্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়।



স্থাপিত হয়েছে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে করা হচ্ছে ১০০ শয্যার (নির্মাণাধীন) হাসপাতাল, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস, পশু হাসপাতাল, সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ভবন (নির্মাণাধীন), শেখ রাসেল শিশু পৌর পার্ক, বিশ্রামাগার, হেলিপ্যাড, উপজেলা পরিষদ ভবন ও বাসাবাড়ি, খাদ্যগুদাম, খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিআইপিদের জন্য বিজয় রেস্টহাউস, বঙ্গবন্ধুর সময়ের শেখ সায়েরা খাতুন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম, পোষ্ট অফিস, গণপূর্ত বিভাগের ডাকবাংলো, মডেল থানা, মধুমতি পর্যটন মোটেল, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, সড়কপথে মধুমতি নদীতে শেখ লুৎফর রহমান সেতু ও বাঘিয়ার নদীতে সেতু স্থাপন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও কোটালীপাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।



এর বাইরে মধুমতি ও বাঘিয়ার নদীর সংযোগ খালপাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ১৪টি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক তাদের শাখা খুলেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন করায় টুঙ্গিপাড়া এখন মূলত শহরের রূপ পেয়ে হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা। এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved