শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০২:৩৬:১২

দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ ভিডিও ধারণ

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর হাজারীবাগে বন্ধুর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাজারীবাগের বাসা থেকে তুলে নিয়ে ওই নারীকে কামরাঙ্গীরচরে একটি মাছের ঘেরে ধর্ষণ করা হয়। মোবাইল ফোনে এর ভিডিওচিত্র ধারণ করে ধর্ষকের সহযোগীরা। ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও ফাঁস ও ওই নারীর শিশু ছেলেমেয়েকে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়। গত ২৬ মার্চের এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী ৩ আগস্ট হাজারীবাগ থানায় একই এলাকার জুবায়ের খান ও তার আট সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ দু'জনকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামিসহ সাতজন পলাতক।



ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী ও জুবায়েরের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। জুবায়ের তাদের বাসায় আসত। একপর্যায়ে তাকে খারাপ প্রস্তাব দিলে জুবায়েরের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করে তার স্বামী। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক শত্রুতা শুরু হয়। এর পর থেকেই তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় জুবায়ের। গত মার্চে ওই নারীর স্বামী অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকাকালে ২৬ মার্চ তাকে হাজারীবাগের বাসা থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় জুবায়ের ও তার সহযোগীরা। তাকে কামরাঙ্গীরচর এলাকার একটি মাছের ঘেরে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। সহযোগীরা মোবাইল ফোনে এর দৃশ্যও ধারণ করে।



ওই নারী জানান, কাউকে ঘটনা জানালে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল জুবায়ের। তার দুটি শিশুসন্তানকেও তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় সে। তিনি মানসম্মানের ভয়ে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছেন। সম্প্রতি স্থানীয় লোকজন তাকে সেই ঘটনার দৃশ্য মোবাইল ফোনে দেখার কথা জানান। এ দৃশ্য দেখে স্বামীও তাকে নির্যাতন শুরু করেন। তিনি বাধ্য হয়ে ধর্ষক জুবায়ের ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।



তবে ভুক্তভোগীর স্বজনের অভিযোগ, ওই নারী থানায় মামলা করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ নীরব রয়েছে। চার মাস আগের এ ঘটনা এত দিন পুলিশকে কেন জানানো হয়নি- সে প্রশ্নও তোলা হচ্ছে। জুবায়েরের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।



জানতে চাইলে হাজারীবাগ থানার ওসি মীর আলিমুজ্জামান সমকালকে বলেন, তারা ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত নয় আসামির দু'জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তসহ অপর আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি দাবি করেন, ওই নারীই মামলা করে রহস্যজনক কারণে পুলিশকে সহায়তা করছেন না। এর আগে তিনি নিজের স্বামীর বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দিয়েছিলেন। এ জন্য সবকিছু গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাজারীবাগ থানার ওসি বলেন, তারা ভুক্তভোগী নারীর মুখে তা শুনেছেন। এখনও সেই ভিডিও পাওয়া যায়নি। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। পুলিশ সেই চেষ্টা করছে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved