শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০২:৩৩:৪৫

চোখের আলো নিভলেও প্রত্যয়ী সিদ্দিকুর

ইন্দ্রজিৎ সরকার

বিসিএস পরীক্ষায় পাস করে সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন ছিল সিদ্দিকুর রহমানের। তার দিকে চেয়ে সুদিনের অপেক্ষায় ছিলেন দরিদ্র পরিবারটির সদস্যরা। কিন্তু তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলের আঘাতে দুই চোখই হারাতে বসেছেন সিদ্দিকুর। দেশের পর বিদেশের চিকিৎসকরাও তাকে আশার বাণী শোনাতে ব্যর্থ হন। তবে এই পরিস্থিতিতেও প্রচণ্ড আশাবাদী সিদ্দিকুর বলছেন, লেখাপড়াটা তিনি চালিয়ে যেতে চান। আর চান একটি স্থায়ী চাকরি, যেন পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন।



ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সিদ্দিকুরকে ভর্তি করা হয় আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে। সেখানে ষষ্ঠতলায় 'ভিআইপি-৩' নম্বর কেবিনে তার চিকিৎসা চলছে। শুক্রবার রাতে সেখানে সিদ্দিকুর ও তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।



অলৌকিক কিছু না হলে অদূর ভবিষ্যতে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই- এই কঠিন সত্য মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন সিদ্দিকুর। কিন্তু তিনি এটা মানতে রাজি নন, দৃষ্টি নেই বলে তার জীবনটা অর্থহীন হয়ে পড়বে। সবার অবহেলা-করুণার পাত্রে পরিণত হবেন। তাই এখন তার পরিকল্পনা, আগের মতোই সরকারি চাকরি করে স্বনির্ভর হওয়া। মা ও ভাইয়ের মুখে হাসি ফোটানো। এ জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।



ভারতের চিকিৎসকদের দেখানো আশার সূত্র ধরে আরও একটি চাওয়া আছে সিদ্দিকুরের। ভবিষ্যতে যদি কখনও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে তার চোখে আলো ফেরার সুযোগ তৈরি হয়, তখন যেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে পারেন।



সিদ্দিকুরের বন্ধু শাহ আলী ও শেখ ফরিদ সমকালকে বলেন, দেশে ফেরার পর থেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথাই বারবার বলছিলেন সিদ্দিকুর। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি নিজের ইচ্ছা-পরিকল্পনার কথাও বলেছেন। বন্ধুরাও তার সঙ্গে একমত, তার জন্য স্থায়ী সরকারি চাকরি খুবই দরকার। এতে তার বাকি জীবন কিছুটা সুগম হবে। সিদ্দিকুরের বন্ধুদের আরেকটি দাবি হলো, শাহবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে করা 'মিথ্যা মামলা' প্রত্যাহার করে নিতে হবে।



পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলের আঘাতে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সিদ্দিকুরের বন্ধুরা সর্বক্ষণ তার পাশে আছেন। সেবা-শুশ্রূষার কাজেও তারা অংশ নিচ্ছেন। তারা জানান, অনেক আশা নিয়েই চেন্নাইয়ে গিয়েছিলেন সিদ্দিকুর। সেখানে চোখ পরীক্ষার পর যখন চিকিৎসকরা তাকে দুঃসংবাদটি জানান, তখন তিনি হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন। তার মনে হয়েছিল, পৃথিবী তার জন্য অর্থহীন হয়ে পড়ল। তবে ধীরে ধীরে নিজের মনকে শক্ত করেছেন তিনি।



এদিকে শুক্রবার রাত থেকে পেটের পীড়ায় ভুগছেন সিদ্দিকুর। গতকাল শনিবার পর্যন্ত তিনি কিছু সময় পর পর পাতলা পায়খানা ও বমি করেছেন। এতে দুর্বল হয়ে পড়েছে তার শরীর।



পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হন সিদ্দিকুর। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ২৭ জুলাই সরকারি খরচে তাকে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। টিয়ার শেলের আঘাতে তার চোখ নষ্ট হলেও প্রথমে পুলিশ দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশের একটি কমিটির তদন্তেই উঠে আসে, খুব কাছ থেকে ছোড়া শেলের আঘাত লাগে সিদ্দিকুরের চোখে।



একই ঘটনায় গঠিত আরেকটি কমিটির প্রধান পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল জানান, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।



মেডিকেল বোর্ড গঠন: সিদ্দিকুর রহমানের চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক দীপক কুমার নাথ, অধ্যাপক গোলাম হায়দার, অধ্যাপক ইফতেখার মুনির, ড. সাইফুল্লাহ ও আবাসিক সার্জন শ্যামল কুমার।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved