শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০১:০৫:৩৪

ডোকলাম উত্তেজনায় চীন সীমান্তে সেনা বাড়াল ভারত

নয়াদিলি্লর পদক্ষেপ প্রাপ্তবয়স্ক :যুক্তরাষ্ট্র
সমকাল ডেস্ক
ডোকলামে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই ইন্দো-চীন সীমান্তে সেনা বাড়াল ভারত। সিকিম থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। সীমান্ত সংঘাত এড়াতে দুই দেশের মধ্যে শুক্রবার মেজর জেনারেল পর্যায়ে পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরই জরুরি এ ব্যবস্থা নিল ভারত। ওই বৈঠকে চীন অবিলম্বে ভারতকে ডোকলাম থেকে সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেয়। তবে ভারতও সাফ জানিয়ে দেয়, সেনা প্রত্যাহার করতে হলে একসঙ্গে দুই দেশকেই করতে হবে। ফলে কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় সিকিমের নাথুলাতে অনুষ্ঠিত ওই পতাকা বৈঠক। এদিকে দুই দেশের এমন যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মধ্যে ভারতকে উস্কানি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এক রিপোর্টে বলেছেন, ডোকলাম ইস্যুতে চীনের আচরণ একজন কিশোরের মতো আর ভারত সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক। সীমান্ত সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিলি্লর পাশে থাকবে বলে জানান তিনি। খবর পিটিআই ও রয়টার্সের।

ডোকলাম ইস্যুতে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক জেমস হোমস বলেছেন, এখনও পর্যন্ত ভারত যা যা করেছে, যে যে অবস্থান নিয়েছে, তার সবক'টাই ঠিক। ওই বিরোধ জিইয়ে রাখার জন্য দিলি্ল উস্কানি দিচ্ছে, বলা যাবে না। বেইজিংয়ের মাত্রাছাড়া মেজাজ, ঔদ্ধত্যেরও জুতসই জবাব দিতে দেখা যায়নি দিলি্লকে। এই ইস্যুতে নয়াদিলি্লর পদক্ষেপ একেবারেই প্রাপ্তবয়স্কের মতো। আর বেইজিংয়ের আচার-আচরণ কিশোরসুলভ।

ভারত ও চীন সম্পর্কে তার এই মূল্যায়নের ব্যাখ্যায় হোমস বলেন, স্থলের চেয়ে জলেই শক্তি-সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য এখন কোমর বেঁধে নেমেছে চীন। অথচ স্থলে সীমান্ত বিরোধটা দশকের পর দশক ধরে জিইয়ে রেখেছে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের অবস্থানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জলে নামার আগে তো স্থলসীমান্তের নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত করা উচিত ছিল চীনের! হোমস আরও বলেন, হিমালয়ে চীনের চেয়ে ভৌগোলিক সুবিধা অনেক বেশি ভারতের। সেখানে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে নামলে চীনকে অনেক বেশি খেসারত দিতে হবে।

এই বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনও এগিয়ে আসেনি উল্লেখ করে হোমস বলেন, এই সীমান্ত বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র নাক গলাক তা হয়তো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাননি। তবে ওই বিরোধ আরও বাড়লে হয়তো দিলি্লর সমর্থনেই এগিয়ে আসতে হবে ওয়াশিংটনকে।

এদিকে ইন্দো-চীন সীমান্তে ভারত কত সংখ্যক সেনা বাড়িয়েছে, তা জানা যায়নি। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিকিম ও অরুণাচল সেক্টরে চীন সীমান্ত এলাকায় সেনা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, সীমান্ত অঞ্চলের জন্য প্রায় ৪৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী সবসময়ই তৈরি রাখা হয়। যাতে জরুরি অবস্থায় কাজে লাগে। তবে ডোকলামে কোনো সেনা বাড়ানো হয়নি। সেখানে আট সপ্তাহ ধরে ৩৫০ জন সেনা জওয়ান মোতায়েন রয়েছে। শুক্রবারই লোকসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবেলায় সক্ষম।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved