শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭
লিকে মার্টেন্স

ইউরোপীয় ফুটবলের মহারানী

মারশিয়া মেহনাজ
প্রমীলা ফুটবলে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের আসর- 'উয়েফা উইমেনস ইউরো'র এবারের টুর্নামেন্ট শেষ হলো কিছুদিন আগে। তাতে তুখোড় ফুটবল শৈলীর প্রদর্শনীতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে নিয়েছে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডস। আর তাদের এই ইতিহাস গড়া বিজয়ে সবচেয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছেন ১১ নম্বর জার্সিধারী, ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার-কাম-ফরোয়ার্ড লিকে মার্টেন্স। জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের মুকুট। তাই নিশ্চিন্তে বলা যায়, এই মুহূর্তে ইউরোপীয় ফুটবলের মহারানী তিনিই।

লিকের পুরো নাম লিকে ইলিজাভেট পেট্রোনেলা মার্টেন্স। জন্ম নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ লিমবুর্গের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নিউ বার্গেনে; ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে। শৈশব থেকেই ডান পিঠে এই মেয়েটি নিজেকে সমবয়সী বাকি শিশুদের চেয়ে আলাদা হিসেবে জাহির করতে থাকেন। ফুটবলের প্রতি টান তার সে বয়স থেকেই। মুহূর্তের ভেলকিতে বন্ধুদের কুপোকাত করে দিয়ে যেন জানান দিতে থাকেন, তার ভেতরে বসবাস করছে ভবিষ্যতের এক মহাতারকা। আর কৈশোরে পা রেখে শুরু করেন পেশাদার ক্যারিয়ার।

নিজ দেশের জনপ্রিয় প্রমীলা ফুটবল দল এসসি হিরেভিনে যোগ দিয়ে শুরু হয় সিনিয়র ফুটবলে যাত্রা। ২০০৯-১০ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ১৮ ম্যাচ খেলে করেন ২ গোল। পরের মৌসুমেই যোগ দেন আরেক ক্লাব ভিভিভি-ভেনলোতে। এখানে ২০ ম্যাচে তাদের পায়ের কারুকাজে, ক্যারিয়ারে যোগ হয় ৯ গোল। এর পরের মৌসুমে, যেন আন্তর্জাতিক তারকা হওয়ার লক্ষ্যেই পাড়ি জমান বেলজিয়ামে। সে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন প্রমীলা ফুটবল আসর- স্ট্যান্ডার্ড লীগে খেলে আসেন। ২০১২-১৪ মৌসুম দুটি কাটান জার্মান ক্লাব দুসবুর্গে। এ ক্লাবের হয়ে উইমেন বুন্দেসলীগায় ৩০ ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন তিনি। তারপরের মৌসুমে হাজির হন ইউরোপের আরেক দেশে। সুইডেনের ক্লাব কপারবার্গস বা গোতেনবার্গ এফসির হয়ে ৩৭ ম্যাচে এক ডজন গোল আসে তার পা থেকে। আর গত মৌসুমটি খেলেছেন সুইডেনেরই আরেক ক্লাব এফসি রোজেনগার্দের হয়ে। এখানে ২৬ ম্যাচে তার ১৭ গোল করাই জানান দেয়, ক্যারিয়ারের গ্রাফটি ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী তার। তাহলে এবার, এই শুরু হতে যাওয়া ২০১৭-১৮ মৌসুমে কোন দেশে, কোন ক্লাবে খেলবেন পাখির মতো পরিযায়ী এই রূপসী ফুটবলার? কোন ক্লাব আবার! ইউরোপ তথা জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাবগুলোর অন্যতম, স্পেনের বার্সেলোনা!

ইতিমধ্যেই বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গেছে তার। এখন জাতীয় দলের মতোই, ১১ নম্বর জার্সি পরে নামার অপেক্ষা। এ কথা বলা হয়তো অত্যুক্তি হবে না, প্রমীলা ইউরোতে তুখোড় পারফরম্যান্সই বার্সা কর্তৃপক্ষকে আকৃষ্ট করেছে এই তুমুল প্রতিভাধর ফুটবলারকে দলে ভেড়াতে।

জাতীয় দলে লিকে প্রথম ডাক পান ২০১০-১১ মৌসুমে। নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলেছেন ২৭ ম্যাচ; করেছেন ৮ গোল। মূল জাতীয় দল, অর্থাৎ নিউজিল্যান্ডস উইমেন ফুটবল দলে সুযোগ পাওয়ার রাস্তাটি যে তিনি আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিলেন, সে কথা তো বলাই বাহুল্য। ২০১১ সালের ২২ আগস্ট, চীনের বিপক্ষের ম্যাচে তার অভিষেক ঘটে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলার। তারপর থেকে তিনি তো একজন নিয়মিত সদস্য! এখন পর্যন্ত ৭৫ ম্যাচ খেলে, জাতীয় দল তথা দেশকে উপহার দিয়েছেন ৩১টি মহাগুরুত্বপূর্ণ গোল। এর মধ্যে এবারের ইউরোতে করেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ গোল; সঙ্গে অ্যাসিস্ট সংখ্যা ২টি। মাঠে ছিলেন মোট ৫২৫ মিনিট। জিতে নিয়েছেন 'ব্রোঞ্জ বুট' অ্যাওয়ার্ড। আর টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার- 'গোল্ডেন বল' যে তিনিই জিতেছেন, সে কথা তো আগেই বলেছি।

এরই মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন লিকে। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত 'ফিফা উইমেনস ওয়ার্ল্ড কাপ'-এর কথা সেটি। এ আসরে নেদারল্যান্ডস প্রমীলা ফুটবল দলের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি কে করেছেন, জানেন? কে আবার, লিকে মার্টেন্স!
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved