শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭
প্রচ্ছদ

ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় স্বাগতম

মোহসেনা জয়া
আবিদ আর অন্তির গল্প

আর্টওয়ার্ক বা শিল্পকর্ম হিসেবে ফটোগ্রাফি বা আলোকচিত্রের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এই মাধ্যমটির প্রতি তরুণদের আগ্রহের সীমা নেই। ক্যামেরা হাতে তরুণরা হয়ে উঠতে চায় স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। ক্যামেরার চোখে দেখতে চায় সব। কল্পনার সব রঙও যেন ধরা দেয় তরুণদের ক্যামেরায়। এই রঙিন দুনিয়ায় আমরাও ঢুকি, চলুন। তার আগে দু'জনের গল্পে মন দিই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবিদ। কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি মাল্টিমিডিয়া মোবাইল সেট ব্যবহার করছেন। তার অন্য বন্ধুরা যখন মাল্টিমিডিয়া মোবাইল সেটে গেমস খেলা এবং ভিডিও মিউজিক নিয়ে ব্যস্ত তখন তিনি ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন লোকেশনে। ছবি তুলে নেন ক্যামেরায়। বৃদ্ধ রিকশাওয়ালা, লাল রঙের আইসক্রিম হাতে হাস্যোজ্জ্বল টোকাই, কিশোরীর আলতারাঙা পায়ে নূপুর, পিঁপড়াদের মৃত ফড়িং টেনে নেওয়ার মতো অনেক দৃশ্য ধরা দেয় তার ক্যামেরায়। এভাবেই শুরু।

দ্বাদশ শ্রেণিতে এসে তিনি একটা আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ফটোগ্রাফি কনটেস্টে অংশগ্রহণ করেন এবং তৃতীয় প্রাইজ জিতে নেন। এখন তার তোলা পাখির ছবি স্থান পায় বিশ্বের বড় বড় ব্লগ-ম্যাগাজিনে। তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র। তবে পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিকেই বেছে নিতে চান।

অন্তির মামা অন্তিকে গিফট দিয়েছিলেন একটি ক্যামেরা। সেই ক্যামেরাই তার জীবন বদলে দিল। যদিও অন্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন মাত্র; কিন্তু তিনি আন্তর্জাতিক মানের একটি নিউজ এজেন্সির বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তার ছবি বিশ্বের নানা দেশের নিউজ পত্রিকায় স্থান পায়। যেখানে ঘটনা সেখানেই অন্তি আর তার ক্যামেরা হাজির।

এভাবেই শুরু। শখের আবেগ থেকেই শুরু হয় বাস্তবতা। অ্যামেচার থেকে প্রফেশনাল। মন্দ কী? অনেক ভালোই বলতে হবে। জানি, অনেকেই আসতে চান এ পেশায়। হয়ে উঠতে চান ফটোগ্রাফার। কিন্তু সঠিক গাইডলাইনের অভাবে সম্ভব হচ্ছে না। কীভাবে শুরু করবেন, কোথা থেকে শুরু করতে হবে- এসব না জানার কারণে অনেকেই পারছেন না আগাতে।

অসুবিধা নেই, বন্ধু হয়ে আছি আমরা। চলুন, আগাই-

শুরুটা যেভাবে

আসলে শুরু করাটা তেমন কঠিন কাজ নয়; ধরে রাখাটাই কঠিন। অনেকেই আছেন, যারা কষ্ট করতে চান না। একটা ক্যামেরা কিনে কয়েকদিন দৌড়াদৌড়ি করে এক সময় ছেড়ে দেন। মনে মনে বলেন, 'ধ্যাৎ! এসব আমার কাজ না।' বলি, এমন করলে চলবে না। পরিশ্রম এক-আধটু তো হবেই। আচ্ছা, পৃথিবীর কোন কাজটা পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব? কোনো কাজই নয়। অতএব, ফটোগ্রাফিতেও শ্রম দিতে হবে আপনাকে।

প্রথমেই পড়ালেখা

সিরিয়াসলি ফটোগ্রাফিতে যদি আসতে চান, তবে শুরুতে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে। ফটোগ্রাফির ওপর বাংলা ভাষায় তেমন একটা বই পাওয়া না গেলেও প্রচুর বিদেশি বই পাবেন। ক্যামেরা হাতে রাখার পাশাপাখি চোখ বুলান এসব বই এবং পত্রিকায়ও। চলুন, বিশ্বের আলোচিত দুটি পত্রিকার খোঁজ নেওয়া যাক।

পপুলার ফটোগ্রাফি : পত্রিকাটি বের হয় আমেরিকা থেকে। প্রতি সংখ্যার মূল্য ৫ ডলার। যারা অনলাইনে অভ্যস্ত, তারা টরেন্ট ব্যবহার করে পত্রিকাটির পুরনো সংখ্যাগুলো ঘেঁটে দেখতে পারেন। popular photography লিখে গুগলে সার্চ দিলেই ডাউনলোডের বিভিন্ন লিংক খুঁজে পাবেন।

ওয়েব :www.popphoto.com ।

অ্যামেচার ফটোগ্রাফি : এটিও বিখ্যাত ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিন। ছাপা হয় যুক্তরাজ্য থেকে। দাম আড়াই পাউন্ড। ওয়েব :www.amateurphotographer.co.uk ।

এ ছাড়াও যেসব বইয়ে চোখ বুলাতে পারেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে 'দ্য ডিজিটাল এলএলআর গাইড : বিয়ন্ড পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ডিজিটাল ফটোগ্রাফি', লেখক : জন ক্যানফিল্ড; 'দ্য ডিজিটাল ফটোগ্রাফি বুক', লেখক : স্কট কেলবাই; 'মাস্টারিং ডিজিটাল এসএলআর ফটোগ্রাফি', লেখক : ডেভিড ডি. বুশ; 'মাস্টারিং ডিজিটাল ফটোগ্রাফি', লেখক : ডেভিড ডি. বুশ'; 'ডিজিটাল ফটোগ্রাফি অল-ইন-ওয়ান ডেস্ক রেফারেন্স ফর ডামিস', লেখক : ডেভিড ডি. বুশ; 'ক্রিয়েট ইউর ঔন ডিজিটাল ফটোগ্রাফি : ফাইভ ইজি প্রজেক্টস', লেখক : পিটার বায়ার প্রভৃতি। এর পাশাপাশি আরও বেশকিছু বই রয়েছে। এসব চাইলেই অনলাইন থেকে নেওয়া যাবে। ডাউনলোড করেও পড়তে পারেন।

ব্যবহারিক কাজ

ক্যামেরা-জ্ঞান আছে আপনার। ফটোগ্রাফি সম্পর্কেও জানা হলো। ফটো তোলার যন্ত্রটাও হাতে এলো। তবে আর দেরি কেন? নেমে পড়ূন কাজে। যাকে বলে প্র্যাকটিক্যাল। বাবা-মা, ভাই-বোন এবং কাছাকাছি যারা আছে= তাদের ছবি তোলা দিয়েই শুরু করতে পারেন। এতে আপনার ভেতর কোনো জড়তা থাকলে তা সহজেই কেটে যাবে। আর আপনার ক্যামেরাটি যদি হয় পয়েন্ট অ্যান্ড শুট, তবে তা তো খুবই ছোট। চাইলে পকেট কিংবা পার্টসের ভেতরেই রাখা সম্ভব। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। বন্ধুদের ছবি তোলেন। রাস্তায় ভালো কোনো দৃশ্য চোখে পড়লে তাও ধরে রাখতে পারেন ক্যামেরার চোখে।

ফটোগ্রাফি স্কুল

চলুন, ফটোগ্রাফি শেখার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা জেনে নিই-

পাঠশালা : ১৬ শুক্রাবাদ, পান্থপথ, ঢাকা-১২০৭। ফোন : ৯১৩৬৮৯৫, ০১৫৫২৩০২০৬২। ওয়েব :www.pathshala.net।

চঞ্চল মাহমুদ ফটোগ্রাফি : বাড়ি-১ [২য় তলা], সড়ক-২, বীর উত্তম এমএ রব সড়ক, ধানমণ্ডি, ঢাকা। ফোন : ৮৬১০৪৮২, ০১৭১১৫২২১২৬।

প্রিজম ফটোগ্রাফি : খ-১৯, দক্ষিণ বাড্ডা, ঢাকা-১২১২। ফোন : ০১৮১৯৪০৯১৩৯, ওয়েব : prism.rafiq@gmail.comস।

ওয়েডিং ডায়েরি স্কুল অব ফটোগ্রাফি : যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৭৩৩৩৮৮৮১-এই নম্বরে। এই www.weddingdiary.com.bd ওয়েব অ্যাড্রেসে ক্লিক করে জানতে পারেন বিস্তারিত।

আজম ফটোগ্রাফি : বাড়ি-৭৫, ধানমণ্ডি ৭/এ, ঢাকা। ফোন : ০১৮১৮৭০৭০৭০।

যাচাই-বাছাই

বাসায় এসে ছবিগুলো দেখেন। সারাদিন যেসব তুলেছেন= তা দেখে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে কোন ছবিটা ভালো হয়েছে আর কোন ছবিটা খারাপ। অনলাইন ঘেঁটে বিশ্বের সেরা ছবিগুলো দেখতে পারেন। কেন ছবিটা সেরা- তাও বোঝার চেষ্টা করুন। দেখবেন, আপনিও এক সময় হয়ে গেছেন ফটোগ্রাফির ম্যাজিশিয়ান। চোখ বন্ধ করেই বলতে পারছেন কোনটা ভালো ফটোগ্রাফি আর কোনটা অ্যামেচার কাজ। তাহলে আর দেরি কেন? শুরু করুন আজই। আপনার সাফল্যের পথ চেয়ে থাকব আমরাও!
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved