শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ২২:৪২:৪৩

'মানুষ বিপদে পড়লে কেউ এগিয়ে আসতে চায় না'

সমকাল প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মানুষ একটা ‘বিপদে পড়ার কালচারে’র মধ্যে ঢুকে গেছে। মানুষ বিপদে পড়লে কিংবা অপহৃত হলে কেউ এগিয়ে আসতে চায় না। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে পরিবার থেকেই বলা হয়, প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবার বিপদে পড়ো না। যদি অপহরণের ঘটনা একটিতে শেষ হতো, তাহলে অপহরণের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনরা মুখ খুলতেন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ‘আইনের শাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত এ সভায় বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন, সভার সমন্বয়ক সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ূয়া প্রমুখ।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘যদি অপহরণের ঘটনা একটিতেই শেষ হয়ে যেত, তাহলে অপহরণের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনরা মুখ খুলতেন। কারণ, একটা অপহরণের ঘটনা সারতে না সারতেই দেখা যায় আরও সাতজন অপহরণ হয়েছেন; তাও আবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। বাংলাদেশের মানুষ একটা বিপদে পড়ার কালচারের মধ্যে ঢুকে গেছে।’ জনগণের অনাস্থা অবিশ্বাসের জায়গাগুলো শনাক্ত করে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি র‌্যাবের ব্যাপারেও চিন্তা করার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেন।

বেলাপ্রধান আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিকেরা হারিয়ে যান। কেউ বলতে পারে না। পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী বলতে পারবে না- এটা তো দিনের পর দিন হতে পারে না। ন্যূননতম জবাবদিহি থাকবে না- এটা কেমন কথা? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আইন-শৃগ্ধখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করতে পারেন, জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন, কেউ তো বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু আমরা হারিয়ে যাব কেন? আর নাগরিকরা হারিয়ে গেলে কী হবে। আগামী নির্বাচনে জেতা যাবে? কোনোভাবেই সম্ভব না।

নূর খান লিটন বলেন, সজ্ঞানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবর্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলা হয়েছে। কারণ, বাহিনীর সঙ্গে রক্ষাকারী শব্দটাও আর বলা যায় না।

অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ূয়া বলেন, আইনে অপহরণের ব্যাপারে বিধান আছে, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়, তখন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তারা কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেফতার করছে। যে কারণে গ্রেফতারের পরিবর্তে তুলে নিয়ে যাওয়া, উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো বেআইনি শব্দগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved