শিরোনাম
 শোক মিছিলে হামলার পরিকল্পনা ছিল: আইজিপি  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে রাঘব-বোয়ালরা জড়িত ছিল: প্রধান বিচারপতি  যতদিন খালেদা জিয়া ভুয়া জন্মদিন পালন করবেন, ততদিন সংলাপ নয়: কাদের
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ১৫:৫৭:১১ | আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ১৮:৪৩:১২

তিস্তা-ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপরে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
গত চারদিনের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজানসহ সব নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এই পাঁচ উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় লোকজনের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছে শিশুরা। জেলার অধিকাংশ এলাকায় পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী (পানি পরিমাপক) প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ জানান, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা নদীর ওপর থাকা তিস্তা ব্যারাজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহ পরিমাপ করা হয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে। ধরলা নদীতেও বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে পানি।
 
তিনি জানান, তিস্তা ব্যারাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাউবো কর্তৃপক্ষ সব গেট (জল কপাট) খুলে দিয়েছে।
 
এছাড়া তিস্তার পানির গতিপ্রবাহ জানতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা।
 
তিস্তা-ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপরে
ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বিছানার ওপর চুলা তুলে রান্না বসিয়েছেন এক নারী। শনিবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকা থেকে তোলা ছবি- সমকাল
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাটগ্রামের দহগ্রাম, বুড়িমারী, শ্রীরামপুর, পাটগ্রাম পৌরসভা, জোংড়া ইউনিয়ন, বাউরা ইউনিয়ন, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী, সিঙ্গিমারী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, টংভাঙ্গা, বড়খাতা, কালীগঞ্জের কাকিনা, তুষভাণ্ডার, ভোটমারী, আদিতমারীর মহিষখোচা, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুণ্ডা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষের জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে।
 
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বন্যার কারণে তার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে।
 
লালমনিরহাটের কুলাঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী জানান, ধরলার পানি মাত্রাতিক্তিভাবে বেড়ে যাওয়ায় ৬টি ওয়ার্ড বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
 
হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন জানান, তিস্তায় পানি বৃদ্ধিসহ অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। চারদিকে পানি আর পানি। লোকজন ও গবাদি পশু-পাখি মারাত্মক কষ্টে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন এমপি ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
 
তিস্তা-ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপরে
কালিগঞ্জ উপজেলার একটি স্কুলে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি- সমকাল
বুড়িমারী স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী আবু সাঈদ জানান, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর পানি বুড়িমারী ঢুকে পড়ায় স্থলবন্দর তলিয়ে গেছে।
 
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, আদিতমারী উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ইতিমধ্যেই ২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক সফিউল আরিফ জানান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের বন্যাকবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved