শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০১:৪২:৪২
সুনামগঞ্জে সুরমার পানি বিপদসীমার ওপরে

সিলেটে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সমকাল ডেস্ক
কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর :সুনামগঞ্জের সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ অঞ্চলের গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ১২৫ মিলিমিটার।

কূল উপচে বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ শুরু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন শুক্রবার বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আগাম জরুরি সভা করেছেন। পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় জেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটা, চেলা, চলতি নদীর পানিও বেড়ে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গিয়ে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার ভোরে আনোয়ারপুর বাজারের ৫০টি দোকান ঘর ভেঙে মালপত্র ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। তাহিরপুরের বালিজুড়ি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন,'শুক্রবার ভোরে হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢলের পানি যাদুকাটা নদী উপচে গিয়ে আনোয়ারপুর বাজারের ৫০ দোকান ঘরের মালপত্র ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এবং বাজারের পাকা রাস্তা ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বন্যায় বিভিন্ন ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা সদর, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ, থানা প্রাঙ্গণ, মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিশ্বম্ভরপুর বাজার গলি, হাসপাতাল প্রাঙ্গণ আবাসিক এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে উজানের নেমে আসা পানিতে দোয়ারাবাজারের সদর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম জানান পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা ডেকে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি ঘোলঘর পয়েন্ট এলাকায় বিকেল ৩টায় ৮ দশমিক ৮২ মিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গোয়াইনঘাট :শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। টানা বর্ষণ আর পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পল্গাবনের এ ঘটনা ঘটছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিছনাকান্দি ও জাফলংয়ে দুটি পাথরকোয়ারির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

গোয়াইনঘাটের কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় গোয়াইনঘাটের প্রায় দুই হাজার হেক্টর বোনা আমন ও পাঁচশত হেক্টর বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার খাবর পাওয়া গেছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) :শুক্রবার ভোর রাত থেকে শুরু হয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সারাদিন টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এক সঙ্গে উজানে ভারতীয় পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত হওয়ায় কমলগঞ্জের ধলাই নদীসহ সব পাহাড়ি ছড়ায় পানি বেড়ে গেছে। পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যেই ধলাই নদীতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved