শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০১:৪১:১৫ | আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০৯:৫১:১৯

কত বন্দি হাসপাতালে জানে না মন্ত্রণালয়

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীসহ দাগি আসামিরা চিকিৎসার নামে কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আরাম-আয়েশে থাকছে। কারা অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগসাজশে তারা বছরের পর বছর কারাগারের বাইরে স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপন করছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসাধীন এসব বন্দির মধ্যে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ, ইয়াবা ব্যবসায়ী আমিন হুদাসহ অনেকে রয়েছে।

তবে এ রকম কতজন বন্দি বিভিন্ন হাসপাতালে আছে তা জানে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চিকিৎসাধীন বন্দিদের হিসাব জানার জন্য তাদের তালিকা চেয়ে এক মাস আগে কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। তবে এ ব্যাপারে কারা অধিদপ্তর কোনো জবাব দেয়নি বলে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কারাগার) মহিবুল হক সমকালকে জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বন্দির নাম-ঠিকানা, কয়েদি নম্বর, কতদিন ধরে কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কী রোগে আক্রান্ত_ বিস্তারিত তথ্য জানতে মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে কারা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে (কারাগার) লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। এক মাস আগে এ চিঠি পাঠানো হলেও এখনও প্রতিবেদন পাঠায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এক সভায় এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয় এবং পুনরায় তাগিদ দিয়ে কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন হাসপাতালে শীর্ষ সন্ত্রাসী, ইয়াবা, মাদক ব্যবসায়ীসহ দাগি আসামিরা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চিকিৎসাধীন। জটিল কোনো রোগ না থাকলেও 'রোগাক্রান্ত' বলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে সুবিধা নিচ্ছে। হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের বিছানায় শুয়ে এসব আসামি মোবাইল ফোনে তাদের বিভিন্ন চ্যানেলের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও ব্যবহার করছে। কেউ কেউ সেখান থেকেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনায় অনুসারীদের নির্দেশনা দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার ল্যাপটপও ব্যবহার করছে।

সূত্র বলছে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফ এক বছর আট মাস ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) কারাকক্ষে চিকিৎসাধীন ছিল। এ তথ্য জানাজানি হলে সরকারের শীর্ষ মহল নড়েচড়ে বসে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুনরায় তাকে কারাগারে

নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, জোসেফের জটিল কোনো রোগ ছিল না। এর পরও চিকিৎসকের কাছ থেকে জটিল রোগের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। এ জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আগামী ২০৩৯ সালে তার মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। হাসপাতালে আরাম-আয়েশের জীবন-যাপনের পাশাপাশি সহযোগীদের সঙ্গেও আড্ডা চলত। ব্যবহার করা হতো মোবাইল ফোন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রে 'ব্যাক পেইন' লেখা। জোসেফকে হাসপাতালে রাখার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

আরেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইয়াবা ব্যবসায়ী আমিন হুদা ১৮ মাস ধরে বারডেম হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে আরাম-আয়েশে থাকছিল। সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আসছিল। এ ক্ষেত্রে কারাগারের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের 'ব্যাক পেইন' ব্যবস্থাপত্র নিয়েছে। দেড় বছর ধরে এ হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে থাকে সে। এ জন্য তার স্বজনরা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। সেখান থেকে আমিন হুদা মাঝে মধ্যে রাতের আঁধারে বাইরে ঘুরতে বের হতো বলেও মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য রয়েছে। এ খবর জানাজানি হলে তাকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, কোনো বন্দি অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরের হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট বন্দির চিকিৎসা শেষ করা বা চিকিৎসা শেষে কারাগারে ফেরত আনার পুরো বিষয়টি চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।

সূত্র বলছে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী আমিন হুদা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের কারাগারের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসার কারণ জানতে কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। জোসেফ ও আমিন হুদাকে কারাগারের বাইরের হাসপাতালে কেন রাখা হয়েছে_ কারণ জানতে চাওয়া হয় ওই চিঠিতে।

২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর গুলশানের একটি বাড়ি থেকে ফেনসিডিল, মদ, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল, ইয়াবা এবং ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই ঘটনায় দুই মামলায় আমিন হুদার ৭৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ নব্বইয়ের দশকের আলোচিত 'শীর্ষ সন্ত্রাসী'। প্রায় ২০ বছর ধরে সে কারাগারে। ১৯ বছর আগে জোসেফ যখন গ্রেফতান হয়, তখন তার নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, খুন ও অবৈধ অস্ত্র বহনের অভিযোগে অন্তত ১১টি মামলা ছিল। শুধু একটি মামলা ছাড়া সব মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালে লালমাটিয়ায় মোস্তফা নামে ফ্রিডম পার্টির এক নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ওই মামলা হয়েছিল। এই একটি মামলাই এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এ মামলা থেকে খালাস পেলেই সে কারামুক্ত হয়ে যাবে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved