শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০১:৩৮:৩৪

দেশি গরুতে বেশি লাভের আশা

কোরবানির হাট
আলতাব হোসেন

প্রাকৃতিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্রচলিত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা দেশি গরু থেকে এ বছর বেশি লাভ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য এ রকম প্রায় সোয়া এক কোটি পশু কেনাবেচার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তা ছাড়া এ রকম দেশি গরুতেই ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে এই

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ প্রশিক্ষণ নিয়ে এর মধ্যে হাজার হাজার বেকার তরুণ স্বাবলম্বীও হয়েছেন। প্রাকৃতিক, স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক এ পদ্ধতি সারাদেশে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত।

প্রাণিবিষয়ক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুকে নিয়মমাফিক খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করলে এর মাংস ক্ষতির কারণ হয় না। কিন্তু স্টেরয়েড দিয়ে মোটা করা মাংস ক্ষতিকর। এ জাতীয় ওষুধ যেমন_ ডেক্সামেথাসন বা ডেকাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন অতিরিক্ত মাত্রায় দিলে গরুর কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। কেউ কেউ ক্যাটাফস, বার্গাফ্যাট, বায়োমিঙ্গ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ায়। এর ফলে গরুর শরীর থেকে পানি বের হওয়ার বদলে সরাসরি মাংসে চলে যায়। গরুকে তখন মোটা দেখালেও এর মাংস ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে।

এর বদলে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়, প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মে গরু মোটাতাজা করতে গরুচাষিদের দুই থেকে আড়াই কেজি বিশেষ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত ইউরিয়া, লালিগুড় ও খড়ের একটি বিশেষ ধরনের মিকশ্চার খাওয়ানোর। এতে তিন মাসেই গরু খুব দ্রুত মোটাতাজা হয়ে ওঠে।

তবে এ পরামর্শ না মেনে প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করার ভয়ঙ্কর বিষাক্ত খেলায় মেতে ওঠে একশ্রেণির অতিলোভী ব্যবসায়ী। এ ধরনের গরু ঈদের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাই না করলেও মরে যায়।

সতর্কতা পশুর হাটে :বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের পশুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভেজ আলম বলেন, সরকার হরমোন ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ নিষিদ্ধ করেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যকরী মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় খামারিরা এ পথ থেকে সরে এসেছেন। কোরবানির হাটেও এ ধরনের গরুর চাহিদা কমে গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পশুর হাটে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় অসাধু খামারিরাও এ পন্থা থেকে সরে আসছেন। অথচ কয়েক বছর আগে এ অধিদপ্তরের কয়েক অসাধু কর্মকর্তাও স্টেরয়েড দিয়ে গরু মোটাতাজা করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। র‌্যাব ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত রাসায়নিক ওষুধ কোম্পানি পরিচালনাকারী এ চক্রের উচ্চ পর্যায়ের ২৩ কর্মকর্তার সবাইকে গ্রেফতার করে। পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরও তাদের বরখাস্ত করে। এর পর থেকে র‌্যাবও প্রতি বছর এ বিষয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আইনুল হক সমকালকে বলেন, 'কোরবানির হাটে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে গরুর রক্ত পরীক্ষা করা হবে। কোনো গরুর মধ্যে বিষাক্ত কিছু পাওয়া গেলে সেগুলো হাটে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বিক্রেতাকেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।'

জনপ্রিয় হচ্ছে প্রাকৃতিক পদ্ধতি :প্রচলিত, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করেন, এমন একজন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের আছিমপুরের খামারি রায়হান আলী। তিনি জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে অনেক আগে তিনি গরুকে দামি ইনজেকশন দেওয়ার পাশাপাশি ট্যাবলেট ও পাউডার ওষুধ খাওয়াতেন। তবে এসব মোটা গরুর কদর আর নেই। এবার তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে ১১টি গরু মোটাতাজা করছেন। তবে গরুর খাবারের দাম চড়া হওয়ায় ক্ষোভ জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আইলচারা গ্রামের খামারি সুরুজ আলী বলেন, গত বছর তিনি স্টেরয়েড দিয়ে সাতটি গরু মোটাতাজা করেন। ঢাকার গাবতলী হাটে আনার ছয় দিন পরই এগুলোর একটি বড় গরু মারা যায়। এতে লাভ দূরে থাক, খরচই ওঠেনি। এবার তিনি নিরাপদ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা হচ্ছে।

প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. বেলাল আহমেদ বলেন, পাবনা ব্রিড, অস্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ানা ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড, লোকাল ক্রস ব্রিড গরু এমনিতেই মোটা থাকে। ঠিকমতো যত্ন নিলে খামারিরা এগুলো থেকে লাভ করতে পারেন।

কোরবানির পশুর সংকট নেই :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, এবারও কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। সারাদেশে এখন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া রয়েছে পাঁচ কোটি ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার। এর মধ্যে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার কোরবানির উপযোগী। এসব পশুর মধ্যে সাড়ে ৪৪ লাখ গরু ও সামান্য সংখ্যক মহিষ রয়েছে। ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৭১ লাখ। ফলে দেশি পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। কোরবানিতে সারাদেশে পশুর চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ এক কোটি ১০ লাখ। গত বছর কোরবানিতে জবাই হয়েছিল এক কোটি সাড়ে চার লাখ পশু। এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক কোটি ১৫ লাখ পশু।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, কোরবানির পশুর সংকট নিরসনে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে গরু মোটাতাজা করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিলের আত্ততায় খামারিদের স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বহু নতুন খামারি এ ঋণ সুবিধা নিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, চোরাই পথে কোরবানির পশু আসা বন্ধ না করা গেলে দেশি মাংস উৎপাদনকারী খামার ব্যবসায়ীদের লোকসান হবে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved