শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০১:৩৭:১৫

দুই মাসে ৫ মোবাইল ফোন অপারেটরের বিরুদ্ধে ৩০০ অভিযোগ

রাশেদ মেহেদী ও মিরাজ শামস

মোবাইল ফোন গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ফোন অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গেলে কর্মীরা নানাভাবে বুঝিয়ে দায় এড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। বিটিআরসির কল সেন্টারে ফোন করলে অধিকাংশ সময় সাড়া মেলে না। ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বা ভাস সেবায় কনটেন্ট প্রোভাইডাররা গ্রাহকের অজান্তেই নানা রকম ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু করে দিয়ে টাকা কেটে নিচ্ছেন গ্রাহকদের। সম্প্রতি বাংলালিংকের গ্রাহক সরকারের একজন যুগ্ম সচিবও প্রতারণার শিকার হয়ে বিটিআরসিতে অভিযোগ করেছেন। আর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গত দুই মাসেই এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ মোবাইল ফোন অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সমকালকে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের হয়রানি প্রতিকারের লক্ষ্যে বিটিআরসির ওয়েবসাইটে পৃথক পেজ খোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।



অভিযোগ :বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মাহবুব কবীর গত ৬ আগস্ট বিটিআরসিতে দায়ের করা অভিযোগে বলেন, তিনি বাংলালিংকের একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করেন। এই নম্বরে ছয় মাসে তার নম্বরে 'সিমবায়োটিক সার্ভিস', 'মোবাইল ম্যাজিক' 'প্রোইয়োরটেক, 'রিয়েলটেক' 'ওয়াপজোন পোর্টাল' 'পিন্ড পোর্টাল'সহ এ ধরনের আরও একাধিক সার্ভিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয় এবং তার অনুমতি ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় মাসে প্রায় ৩৬০ টাকা কেটে নেওয়া হয়। তিনি বাংলালিংকের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে ফোন করলে তাকে জানানো হয়, সেবা গ্রহণের বিপরীতে তার টাকা কেটে নেওয়ার রেকর্ড দেখা যাচ্ছে। এসব সার্ভিস চালু করার আগে তার অনুমতি না নেওয়ার কথা জানালে গ্রাহকসেবা কেন্দ্র থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জমা পড়া অভিযোগে দেখা যায়, গত ২৫ জুলাই একটি অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন স্বপ্নীল চক্রবর্তী নামে একজন গ্রাহক। তিনি লিখিত অভিযোগে বলেন, ১৭১ টাকা দিয়ে চার জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনেছিলেন তিনি। যার মেয়াদ ছিল ৭ দিন। গত ২৪ জুলাই প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ব্যালান্স থেকে ৬১ টাকা কেটে নেওয়া হয়। তাকে নতুনভাবে ইন্টারনেট প্যাকেজ কেনার জন্য মেসেজ দেওয়া হয়নি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর জানানো হয়, ইন্টারনেট কেনার জন্য এই চার্জ করা হয়েছে। অথচ তিনি কোনো প্যাকেজ কেনাকাটা করেননি।



টেলিটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন জনৈক মোখলেছুর রহমান। তিনি বলেন, চার-পাঁচ মাস ধরে তার সিম থেকে বেশি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে অভিযোগ করা হলে তাকে জানানো হয় 'এলিন' নামের একটি সার্ভিসের জন্য টাকা কাটা হচ্ছে। এটি বারবার নিজে থেকে চালু হয়ে যাচ্ছে। চালু হলে তা বোঝা যায় না। কোনো এসএমএস আসে না। গ্রাহকের অজান্তেই কেটে নেওয়া হচ্ছে টাকা। এটা বন্ধ করার জন্য তিনি গত প্রায় পাঁচ মাসে ছয়বার কাস্টমার কেয়ারে গিয়েছেন এবং কল করেছেন। কিন্তু প্রতিকার পাননি।

রবির বিরুদ্ধে ২৬ জুলাই অভিযোগে গ্রাহক মাহমুদুর রহমান বলেন, অফার দিয়েও তা দেয়নি রবি। অফার ছিল ৪৬ টাকা রিচার্জ করলে ১ জিবি ইন্টারনেট, মেয়াদ ৫ দিন। সঙ্গে নিয়মিত অফার ১২০ এমবি, মেয়াদ ২৮ দিন। ওই দিন ২৯ জুন দুপুর ১২টায় তিনি রিচার্জের পরে শুধু ১২৮ এমবি দেয়। এর পরে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখেন অফার অনুযায়ী তিনি ১ জিবি পাননি। এর পরে অভিযোগ করলে পরের দিন রবি জানায়, তিনি এই অফারের যোগ্য নন। মাহমুদুর অভিযোগ করেন, তিনি যোগ্য না হলে এসএমএস দিল কেন? এর পরে এসএমএসটি আবার পাঠাতে বলেছেন। এরপর উত্তর আসে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার। নতুন করে সব তথ্যসহ আবারও এসএমএস দেওয়া হয়। আবারও একই এসএমএস উত্তর দেয় রবি। ৩০ জুন রাতে রবি লাইভ চ্যাটে আবারও অভিযোগ করা হয়। তখন রবি অভিযোগসহ আগের এসএমএসসহ ১৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়। যদিও ওই এসএমএস ১৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গ্রাহকদের অন্যান্য অভিযোগও একই রকমের।



এর বাইরে একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে_ হঠাৎ করেই তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে বলা হচ্ছে, নম্বরটি বিটিআরসি বন্ধ করেছে। গ্রাহকরা বিটিআরসির অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করেও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত নম্বরের পরিবর্তে নতুন নম্বর নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।



সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য :মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির সমকালকে বলেন, মোবাইল ফোনে সেবার ক্ষেত্রে এখন বেশি অভিযোগ আসছে ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা কাটা নিয়ে। গ্রাহকরা না বুঝে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করছেন, তাতে ডাটা চালু রাখছে। আর ডাটা ব্যবহার করার কারণে কোম্পানি টাকা কেটে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক সচেতনতার বিষয় আছে। আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না অনেক গ্রাহক। তিনি বলেন, বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী অটো রিনিউয়াল করে টাকা কাটার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার বিচারিক কার্যক্রম করছে। কিন্তু ওই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনেক বিষয়ে জানার বিষয়ে ঘাটতি আছে।



সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের একটি গাইডলাইন তৈরির জন্য অনেক আগে থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ করতে পারেনি বিটিআরসি। যে কারণে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস ঘিরে প্রতারণা বাড়লেও প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সমকালকে বলেন, বিটিআরসির অভিযোগ কেন্দ্রকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন উদ্যোগে গ্রাহক ওয়েবসাইটে অভিযোগ বক্সে অভিযোগ লিখে রাখবেন। বিটিআরসির কর্মকর্তারাই ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেবেন।



ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর সমকালকে বলেন, ভোক্তারা প্রতারিত কিংবা হয়রানির শিকার হওয়ায় আইন অনুযায়ী অধিদপ্তরে অভিযোগ করছেন। এর আগে বেশকিছু অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছে অধিদপ্তর। কিন্তু এখন অপারেটরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না। কারণ মোবাইল ফোন অপারেটর রবিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে অধিদপ্তর। এর পরে ওই অপারেটর আদালতে মামলা করে। পরে আদালত মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে অধিদপ্তরের বিচারিক কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। এর পর থেকে অভিযোগ জমা পড়লেও আমলে নিয়ে শুনানি করে রায় দিতে পারছে না অধিদপ্তর।

এ ব্যাপারে রবির একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, রবি জরিমানা না দেওয়ার জন্য নয়, বরং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের বিচারিক কার্যক্রমের ব্যাপারে গাইডলাইন চেয়ে আবেদন করে। কারণ গাইডলাইন না থাকার কারণে কোন ক্ষেত্রে কীভাবে জরিমানা করা হবে, কত হারে জরিমানা করা হবে তা নির্ধারিত নেই।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved