শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০১:৩০:৫৪
ভোটের হাওয়া-খুলনা-২

মর্যাদার লড়াইয়ে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

মামুন রেজা, খুলনা

যত না ভোটের লড়াই, তারও বেশি মর্যাদার লড়াই হয় খুলনা-২ (সদর ও সোনাডাঙ্গা) আসনের নির্বাচনে। কারণ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের কাছেই এটি মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত। অতীতের মতো সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ এ আসনে এবার বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে মরিয়া; অন্যদিকে বিএনপিও চাইছে আসনটিকে পুনরুদ্ধার করতে। তাই এ আসনে দল দুটির প্রার্থীও বলতে গেলে চূড়ান্ত প্রায়। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান এমপি মিজানুর রহমান মিজান এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখানে। আওয়ামী

লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ১৯৭৩ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। তাই আসনটিতে দলের বিজয় ধরে রাখার বিষয়টিকে দলীয়ভাবে 'প্রেস্টিজ ইস্যু' হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো এলাকাতেই তাই পুরোপুরি নির্বাচনমুখী কার্যক্রম চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলের প্রতিটি সভা-সমাবেশেও আগামী নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সী মাহাবুব আলম সোহাগ জানিয়েছেন, আসনটি ধরে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মিসভা করা হচ্ছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা হচ্ছে। সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। শিগগিরই দলের শূন্য পদগুলো পূরণ এবং ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের দৃষ্টিতে, এ আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ তা দখল করতে পারবে না। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সেই সুযোগ থাকবে না। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেছেন, এবার আর একতরফা নির্বাচন হবে না। স্বাভাবিকভাবে ভোট হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কী অবস্থা হবে, তাদের নেতাকর্মীরা সেই ভাবনায় দিশেহারা।

বিভাগীয় সদরের এ আসনটিতে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের নাম। তিনি জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভা-সমাবেশ ছাড়াও তিনি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করছেন। তা ছাড়া শিগগিরই ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে। সেই সঙ্গে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে আসনটি যাতে আওয়ামী লীগেরই থাকে, সে জন্য নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বিগত নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলী আসগার লবী ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজার নাম শোনা গেলেও এবার তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। আলী আসগার লবী লন্ডনে অবস্থান করছেন। সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা নড়াইল-২ আসনে মনোনয়নের চেষ্টা করছেন। ফলে খুলনা-২ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

নজরুল ইসলাম মঞ্জুও বিশ্বাস করছেন, দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে বিএনপি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৮ জুলাই থেকে নগরীতে ৫০ হাজার সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন করা হচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দলের কমিটি পুনর্গঠন ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের বিষয়ে। সক্রিয় করা হচ্ছে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের।

মহানগর জাতীয় পার্টির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম ও মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল দলের মনোনয়ন চাইবেন। দলের জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু জানিয়েছেন, খুলনা-২ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য আগ্রহী দুইজনের নাম চেয়ারম্যান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। খায়রুল ইসলাম বলেছেন, তিনি দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করবেন। মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল জানিয়েছেন, তিনি এক মাস আগে থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তিনি খুলনা-২ কিংবা খুলনা-৩ আসনে দলের মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন।

এ আসনে সিপিবির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সের নাম। তিনি বলেছেন, খুলনা ও ঢাকা থেকে নির্বাচন করার জন্য পার্টির পক্ষ থেকে আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পার্টি আমাকে যেখান থেকে নির্বাচন করার নির্দেশ দেবে, সেখান থেকেই আমি নির্বাচন করব। তবে প্রাধান্য দিচ্ছি খুলনা-২ আসনকেই।

খুলনা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল আউয়াল। তিনি জানিয়েছেন, দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় তার নাম রয়েছে। তিনি এখন নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের মহানগর সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, তারা দলীয়ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদক মিনা মিজানুর রহমান বলেছেন, প্রার্থিতা নিয়ে দলীয়ভাবে খুলনায় এখনও কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।

স্বাধীনতার পর মাত্র দুইবার এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় সব নির্বাচনেই বিএনপি প্রার্থীদেরই প্রাধান্য ছিল। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের এম এ বারী, ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগের খান এ সবুর, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মহসীন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির শেখ রাজ্জাক আলী, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলী আসগার লবী, ২০০৮ সালে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজান নির্বাচিত হয়েছিলেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved