শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৭, ০১:২৮:৪০
কারিনামের সমীক্ষা

সুন্দরবনে কুমিরের জন্য সাত হুমকি

খুলনা ব্যুরো

সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে লবণ পানির কুমির রয়েছে ১৫০ থেকে ২০৫টি। সাত রকম হুমকির মুখে এসব স্থানে বসবাস করছে এই জলজ প্রাণী। বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (কারিনাম) সাম্প্রতিক কুমির সমীক্ষায় এ চিত্র উঠে এসেছে। সংখ্যা নির্ধারণ, প্রজনন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য করা এ সমীক্ষা প্রতিবেদনে কুমিরের জন্য হুমকিগুলো নিরসনে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়েছে। এ সমীক্ষার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ জানায়, সুন্দরবনে জিপিএসের সাহায্যে ২০১৪ সালের এপ্রিলে বন বিভাগের সহযোগিতায় কারিনাম এই সমীক্ষা করে। চারটি দলের প্রতিটিতে ১০ জন সদস্য নৌযান নিয়ে নদী, খাল ও পাড় ঘুরে এ জরিপ করেন। ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সমীক্ষার মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়। এরপর ছবি ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি খসড়া প্রতিবেদন বন বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি ৭৯টি কুমির দেখতে পেয়েছেন। এর ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা কুমিরের সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন। শিগগির বন বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, বন বিভাগের ১৯৮৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুন্দরবনে ১৫০ থেকে ২০০টি কুমির ছিল। সে হিসাবে এখানে কুমিরের সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে সুন্দরবনে কুমিরের জন্য সাতটি হুমকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম জেলেদের জালে

আটকা পড়ে কুমিরের বাচ্চার মৃত্যু। কখনও কখনও জেলেরা পাচারকারীদের কাছে কুমিরের বাচ্চা বিক্রিও করে। মধু আহরণ মৌসুমে (এপ্রিল-মে মাস) বনের মধ্যে মৌয়ালদের চলাফেরায় কুমির ডিমে ঠিকমতো 'তা' দিতে পারে না। বিষ দিয়ে মাছ ধরা, তেল দূষণ ও শিল্প কারখানার বর্জ্য দূষণেও কুমিরের ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক কারণে চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকার নদী-খালের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়াও কুমিরের বাচ্চার জন্য হুমকি। প্রজনন সমস্যাও কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধির পথে বাধা। কারণ স্ত্রী প্রজাতির কুমির পুরুষ প্রজাতির সঙ্গে মিলন ছাড়া যে ডিম দেয়, তা থেকে বাচ্চা হয় না। আবার বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কাছে কুমিরের ডিম খুবই প্রিয় খাদ্য। অনেক সময় পুরুষ কুমিরও ছোট বাচ্চা খেয়ে ফেলে।

কারিনামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এস এম এ রশীদ বলেন, কুমির সংরক্ষণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবীর বলেন, সমীক্ষা প্রতিবেদন চূড়ান্ত হলে কুমির ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি করা হবে। কুমির সংরক্ষণের পাশাপাশি কুমিরের প্রজনন মৌসুমে মনিটরিংও বাড়ানো হবে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান জানান, করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে কুমিরের বাচ্চা নদীতে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

লবণ পানির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও লালন-পালনের জন্য ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের আট একর জমিতে কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। সেখানে বর্তমানে ছোট-বড় ২১০টি কুমির রয়েছে। গত ২৪ মার্চ এখান থেকে তিনটি কুমির সুন্দরবনের নদীতে ছাড়া হয়।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved