শিরোনাম
 সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলি  একের পর এক সিইও পদত্যাগ করায় ট্রাম্পের ব্যবসায়ী পরিষদ বিলুপ্ত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০১:২৬:৫৮
ভোটের হাওয়া -পাবনা-৫

চ্যালেঞ্জে পড়বেন আ'লীগ বিএনপির প্রধান দুই প্রার্থী

এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

দলে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও পাবনা-৫ (সদর) আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে দুই আলোচিত নেতাকে। আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে বর্তমান এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্সকে নিজ দলের অন্তত ১০ নেতার সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে জিততে হবে। বিএনপির মনোনয়ন পেতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে মোকাবেলা করতে হবে জামায়াতে ইসলামীকে।

পাবনা-৫ আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়া জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান। ২০০৮

সালে তাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২২ বছর পর আসন পুনরুদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক প্রিন্স। পরের নির্বাচনেও জয়ী হন প্রিন্স। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর গত সাড়ে আট বছরে নানা কারণে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন এ নেতা।

তবে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলকে আরও গুছিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়ে আছেন গোলাম ফারুক প্রিন্স। তিনি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ মিটিয়ে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দলে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেছেন, দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন তিনি। পাবনায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তাই তিনি এবারও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। অবশ্যই দল তাকে মূল্যায়ন করবে।

গোলাম ফারুক প্রিন্স টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকেই মনে করছেন এবার তাকে মনোনয়ন পেতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

জাতীয়ভাবে পরিচিত বা আলোচনায় না থাকলেও অন্তত নয়জন নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন। স্থানীয়ভাবে ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তারা হলেন_ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল রহিম লাল, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এম সাইদুল হক চুন্নু, অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি খ ম হাসান কবির আরিফ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপু, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা ফজলুল হক মন্টু।

পাবনায় আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতে প্রার্থীর ছড়াছড়ি নেই। জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর (অব.) কেএস মাহমুদ, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সামাদ খান মন্টু, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতা ও কেন্দ্রীয় সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু বলেছেন, শিমুল বিশ্বাস দলের একক প্রার্থী। তিনি বিআইডবি্লউটিসির চেয়ারম্যান থাকাকালে পাবনার প্রায় চারশ' মানুষকে চাকরি দিয়েছেন। ইছামতি নদী খনন করেছেন। এসব কিছু বিবেচনা করে শিমুল বিশ্বাসকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে।

মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে 'আত্মগোপনে' রয়েছেন শিমুল বিশ্বাস। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেলেও নির্বাচনী এলাকায় আসেন না। আগামী নির্বাচনে তার প্রার্থিতা সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলার সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী তাকে প্রার্থী হতে অনুরোধ করেছেন। জেলা বিএনপিও তাকে একক প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে। এখন তিনি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

জেলার অধিকাংশ নেতা শিমুল বিশ্বাসকে সমর্থন করলেও একটি অংশ তার বিরোধিতা করছে। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পাবনা পৌর মেয়র কামরুল হাসান মিন্টুও এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

জেলা নেতারা প্রার্থী বাছাই করলেও আগামী নির্বাচনে পাবনা-৫ আসনে 'ধানের শীষ' প্রতীক ফিরবে কি-না তার অনেকটাই নির্ভর করছে বিএনপি-জামায়াত জোট থাকবে কি-না, তার ওপর। এ আসনে বিএনপি ১৯৯৬ সালে শেষবারের মতো নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিল দলটি। কিন্তু পরের দুটি নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পান জামায়াতের আবদুস সুবহান। ছাড়ের বিষয়টি কেন্দ্রের হাতে থাকলেও জেলা বিএনপি নেতাদের দাবি, জামায়াতকে আর এ আসন দেওয়া হবে না।

তবে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ইকবাল হুসেইন বলেন, পাবনা সদর জামায়াতের আসন। জোটগত নির্বাচন হলে এই আসন জামায়াতেরই থাকবে। তিনি এ দাবি করলেও আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো জামায়াত আগামী নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে অংশ নিতে পারবে কি-না তা এখনও আদালতে বিচারাধীন। তার পরও দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত আবদুস সুবহানের আপিল বিচারাধীন রয়েছে। তার কারাগার থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা আর নেই ধরে নিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন অধ্যক্ষ ইকবাল হুসেইন ও আবদুস সুবহানের ছেলে নেসার আহমেদ নান্নু। এই আসনে বিএনপির জেলা নেতারা দলের প্রার্থী ঘোষণা করায় জামায়াত নাখোশ হয়েছে।

নেসার আহমেদ বলেন, তার বাবা দীর্ঘ সময় এমপি ছিলেন। তিনিই এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তবে কোনো কারণে যদি নির্বাচন করতে না পারেন, তবে তার পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নেসার আহমেদের দাবি, জামায়াতের কেন্দ্র থেকে তাকে এ বার্তা দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলেও পাবনা-৫ আসনে জয়ী হতে পারেনি জাতীয় পার্টি (জাপা)। এখানে জাপার অবস্থান খুবই দুর্বল। তবে আগামী নির্বাচনে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের খান কদর প্রার্থী হতে চান। জাসদের জেলা সভাপতি আমিরুল ইসলাম রাঙা, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি জাকির হোসেন, ঐক্য ন্যাপের জেলা সভাপতি রণেশ মৈত্রও প্রার্থী হতে পারেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved