শিরোনাম
 সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলি  একের পর এক সিইও পদত্যাগ করায় ট্রাম্পের ব্যবসায়ী পরিষদ বিলুপ্ত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:১২:২৬

তবুও বাড়ছে ডলারের দাম

ওবায়দুল্লাহ রনি
নগদ ডলারের সরবরাহে ঘাটতি নেই। শুধু ব্যাংকগুলোর কাছেই বর্তমানে মজুদ রয়েছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। খোলাবাজারেও নগদ ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এর পরও গত কয়েক

দিন ধরে দাম বাড়ছে প্রধান এ বৈদেশিক মুদ্রার।

গতকাল বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত রোববার যা ৮২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৩ টাকা দরে পেয়েছিলেন ক্রেতারা। খোলাবাজারের পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারেও দাম সামান্য বেড়ে ৮০ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেছে। মূলত হজ ও ঈদ সামনে রেখে ডলারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও মেঘনা ব্যাংকের এমডি মো. নূরুল আমিন সমকালকে বলেন, প্রতি বছর হজের আগে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দাম একটু বাড়ে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলেও বেড়ে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বুধবার ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ ডলারের মজুদ ছিল এক কোটি ৭০ লাখ ৭ হাজার ডলার। আগের বছরের একই দিনে যা এক কোটি ২০ লাখ ডলার ছিল। আর গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলারের মজুদ ব্যাপক কমে ৭২ লাখে নেমে আসে। মূলত হঠাৎ করে ১০০ ও ৫০০ ভারতীয় রুপির নোট বাতিলের ফলে ওই সময় ডলারের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হলে ওই অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে এসব নোট আবার বাজারে আসায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে গত মার্চে এক কোটি ৬৫ লাখ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে তা আরও বেড়ে এ পর্যায়ে এসেছে। ব্যাংকগুলোর বাইরে

বিভিন্ন মানি চেঞ্জারের কাছে পর্যাপ্ত নগদ ডলার রয়েছে।

রাজধানীর একটি মানি চেঞ্জারের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি সমকালকে বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডলারে এক টাকা থেকে এক দেড় টাকা বেড়ে গতকাল ৮৪ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, প্রতি বছর হজ মৌসুমে নগদ ডলারের প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে এখন অনেক লোক দেশের বাইরে যান। এসব কারণে এ সময়ে এসে নগদ ডলারের দাম একটু বাড়তির দিকে থাকে। এরই মধ্যে হজে যাওয়া শুরু হওয়ায় দাম বাড়তে

শুরু করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সিংহভাগই হয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ভিত্তিক তথা নন-ফিজিক্যাল ফর্মে। নগদে এ পরিমাণ ডলার থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। তবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসতে বা দেশের বাইরে যাওয়ার সময় নগদ ডলারের প্রয়োজন হয়। এবারে এক লাখ ২৭ হাজার বাংলাদেশি হজে যাচ্ছেন। তাদের প্রত্যেকেই কিছু না কিছু ডলার সঙ্গে নেবেন।

হজ ছাড়াও বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন কারণে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে যারা চিকিৎসা নিতে বাইরে যান তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ যান ভারতে। ফলে রুপি বাতিলের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছিল।

আমদানির তুলনায় রফতানিতে কম প্রবৃদ্ধি ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রবাহের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে টাকার বিপরীতে এমনিতেই ডলারের দর বাড়তির দিকে রয়েছে। এর মধ্যে আবার কয়েকটি ব্যাংক কারসাজি করে গত এপ্রিলের শেষ দিকে হঠাৎ করে প্রতি ডলারে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে দিলে দর ওঠে ৮৫ টাকায়। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে তা আবার কমে আসে। তবে এখন আবার ডলারের দর বাড়তির দিকে রয়েছে।

আন্তঃব্যাংকে দাম বেড়ে বুধবার প্রতি ডলার ৮০ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি ডলার ৮০ টাকা ৬৮ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছিল। এক মাস আগে বিক্রি হয় ৮০ টাকা ৬০ পয়সায়।

আগের বছরের একই মাসে আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার ৭৮ টাকা ৪০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছিল। এতে করে আন্তঃব্যাংকে এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দাম বেড়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা। আর এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে

১০ পয়সা এবং এক সপ্তাহের ব্যবধানে

বেড়েছে ২ পয়সা।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved