শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ০১:৪৪:১০ | আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১০:৩৬:০০

তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে বাচ্চুসহ পর্ষদ সদস্যরা

হকিকত জাহান হকি

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছেন। গত ২৬ জুলাই ৪০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের মামলায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের আইনের আওতায় এনে এবং তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে দুদককে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। গত দুই বছরেও মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন আদালত।

আদালতের রায়ের পর ১৪ দিন পার হয়েছে। কিন্তু এ আদেশ কার্যকরের বিষয়ে দুদকের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাচ্চুসহ পর্ষদ সদস্যারা এবার মামলার জালে আটকা পড়তে পারেন। আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ব্যাংকটির দিলকুশা, গুলশান ও শান্তিনগর শাখা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে

৪ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ঋণের কাগজপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়াই জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া ও অনিয়মের মাধ্যমে ?ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে ২০১০ সাল থেকে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০১৫ সালে রাজধানীর তিনটি থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তবে কোনা

মামলায় বাচ্চুসহ পর্ষদ সদস্যদের আসামি করা হয়নি। বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের পরও চেয়ারম্যানসহ পর্ষদ সদস্যরা আসামির তালিকায় না থাকায় জনমনে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, 'হাইকোর্টের কপি এখনও আমাদের হাতে আসেনি। কপি এলে সেটি দেখে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটবে না।' তিনি আরও বলেন, 'বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলাগুলোর তদন্ত পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবাই আইনের আওতায় রয়েছেন। মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হলে বোঝা যাবে কারা দোষী আর কারা দোষী নন।'

হাইকোর্টের ওই আদেশ সম্পর্কে দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সমকালকে বলেন, আদেশ অনুযায়ী ধরে নিতে হবে বেসিক ব্যাংকের প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে আদেশটি প্রযোজ্য হবে। বেসিক ব্যাংকের মামলায় তদন্তের ক্ষেত্রে সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জনমনে ধারণা আছে, সেটি আর থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আদেশে ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি আইন অনুযায়ী আরও সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক সমকালকে বলেন, 'ওই একটি মামলার তদন্তে পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক ঋণের অনুমোদনের ক্ষেত্রে অপরাধ সংগঠনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি অন্য মামলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। কারণ দুদকের করা ৫৬ মামলার অভিযোগ একই ধরনের। ক্রেডিট কমিটির প্রস্তাবে বলা হয়েছিল ঋণ দেওয়া যাবে না। অথচ পর্ষদ সভায় সেসব ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রস্তাবের বিপরীতে ঋণ দেওয়া যায় না, সেগুলো বোর্ডে উপস্থাপনও করা হয় না।'

ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, 'বাকি ৫৫ মামলার তদন্তে পর্ষদের দায় এড়ানো সম্ভব হবে না। তদন্তের ক্ষেত্রে দুদক কোনোভাবেই এ বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারবে না। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে করা মামলাগুলোতে পর্ষদ সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করায় আমরা আশ্চর্য হয়েছিলাম।'

দুদকের একটি সূত্র জানায়, গত দুই বছরে তদন্ত চলাকালে বেসিক ব্যাংকের ওই সময়ের পর্ষদ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও ডাকা হয়নি। কমিশনের সম্মতি না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তারা পর্ষদ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেননি। ৫৬ মামলার ৯ তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে জালিয়াতি করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতে বাচ্চুসহ পর্ষদ সদস্যের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে ওই সূত্র দাবি করে।

দুদকের তদন্ত থেকে জানা গেছে, বাচ্চুর ইঙ্গিতে ব্যাংকিং নিয়মবহির্ভূত জালিয়াতিপূর্ণ ঋণ প্রস্তাব একের পর এক অনুমোদন করা হয়। এভাবেই সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়। দুদকের তদন্তে দেখা গেছে, অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণের টাকা ছাড় করার জন্য ফোনে শাখা ম্যানেজারকে জানানো হয়েছে। অনুমোদনপত্র শাখায় পেঁৗছার আগেই ছাড় করা হয়েছিল টাকা।

সূত্র জানায়, ত্রুটিপূর্ণ ঋণ প্রস্তাবগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) কোনো মতামত ছিল না। ঋণ প্রস্তাবে উল্লেখ করা জামানতের প্রকৃত মূল্য কত টাকা হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হয়নি। ঋণগ্রহীতার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারবেন কি-না, তা মূল্যায়ন করা হয়নি। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ঋণগ্রহীতার কোনো ব্যবসা নেই। কেউ কেউ ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ৫০, ৮০ এমনকি ১০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। যা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই। ঋণ প্রস্তাবে এসব বিষয় উল্লেখ করা হলেও পর্ষদ তা আমলে নেয়নি। অনেকে ঋণের টাকা পাওয়ার ১০, ১২ ও ২৭ দিন পর ব্যাংকে হিসাব খুলেছেন, যা ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ব্যাংকের এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন পর্ষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু। সাবেক এই চেয়ারম্যান বর্তমানে ঢাকাতেই আছেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved