শিরোনাম
 শোক মিছিলে হামলার পরিকল্পনা ছিল: আইজিপি  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে রাঘব-বোয়ালরা জড়িত ছিল: প্রধান বিচারপতি  যতদিন খালেদা জিয়া ভুয়া জন্মদিন পালন করবেন, ততদিন সংলাপ নয়: কাদের
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ০১:৩৫:৪৯
ভোটের হাওয়া-জামালপুর-৫

পরিবর্তনের দাবি আ'লীগে তৎপরতা কম বিএনপির

আনোয়ার হোসেন মিন্টু, জামালপুর

জামালপুর জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদর আসনে (জামালপুর-৫) এখন জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। জেলার একমাত্র এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর '৯১ সালে শুধু জেলা আওয়ামী লীগের দ্বিধাবিভক্তির কারণে এ আসনটি হাতছাড়া হয়েছিল। এর পর ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের দখলেই রয়েছে। তবে এবার দল ও সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকেই জোর দাবি উঠেছে প্রার্থী পরিবর্তনের। আসনটি ধরে রাখতে জাতীয় পর্যায়েও প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নবীন-প্রবীণ মিলে অন্তত এক ডজন নেতা। তবে এ আসনে

আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা কম। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হকের নাম বরাবরের মতো এবারও আলোচনায় রয়েছে। তবে তিনি এখনও মাঠে নামেননি। সমকালকে জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে প্রার্থী হবেন। জেলা বিএনপির কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত দু'বারের সাবেক সফল পৌর মেয়র, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুনও এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী। এখানে বিএনপিতে মামুনবিরোধী একটি গ্রুপ থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে তারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। নির্বাচন সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় নানা কর্মসূচি পালন করাসহ তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন ওয়ারেছ আলী মামুন। নিলোফার চৌধুরী মনিও এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী।

এ আসনে জাতীয় পার্টিতে প্রার্থী নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন খান এখন পর্যন্ত দলের একমাত্র সম্ভাব্য প্রার্থী। প্রার্থিতা নিয়ে বাম দলগুলোর এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। জামায়াত নেতাদের মধ্যেও কোনো আলোচনা নেই। এই আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন সবুজ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য যারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তারা হলেন_ বর্তমান এমপি সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিকবারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এফবিসিসিআইর পরিচালক, সিআইপি রেজাউল করিম রেজনু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী মারুফা আক্তার পপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাফর ইকবাল জাফু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আবদুল মান্নান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ, বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী ও অধ্যাপক আবদুল হামিদ।

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি রেজাউল করিম হীরা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে এই আসনে ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) খলিলুর রহমান। আওয়ামী লীগের দ্বিধাবিভক্তির সুযোগে বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল হক বিজয়ী হন। পরে তিনি স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এ আসনে আওয়ামী লীগের অগণিত ভক্ত ও ভোটার থাকায় ১৯৯৬ সাল থেকে অদ্যাবধি পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রেজাউল করিম হীরাকে। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি টানা চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। রেজাউল করিম হীরা ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারের পূর্ণ মেয়াদে ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এমপি-মন্ত্রী থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময়ে জেলা সদরে উলেল্গখযোগ্য কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন তার ওপর অনেকটাই অখুশি। সদরের এ আসনটি বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। কারণ এ আসন থেকেই পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় সাত উপজেলার রাজনীতি। তাই এ আসনের ভালো-মন্দ দুটিরই প্রভাব পড়ে জেলার অন্যান্য আসনে। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে এবার দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের দাবি উঠেছে প্রার্থী পরিবর্তনের।

এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী জেলার ১৪ দলের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ সমকালকে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, জেলা সদরসহ নির্বাচনী এলাকায় চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ সর্বোপরি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জামালপুর গড়ে তুলবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, এফবিসিসিআইর পরিচালক, সিআইপি রেজাউল করিম রেজনু এবার এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। সে লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দুর্দিনে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি অর্থনৈতিকসহ নানা সহযোগিতার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। দলের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করেছেন। নেতা-কর্মীরা আছেন তার সঙ্গে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে তিনি অবহেলিত জামালপুরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। জামালপুর শহরে আওয়ামী লীগকে আরও সংগঠিত করবেন।

গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ আর জাহিদ আনোয়ারকে। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। ফলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বনাম জেলা আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে অনেকটাই বেকায়দায় পড়ে যান জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ নির্বাচন ঘিরে দলের মাঠপর্যায়েও নেতা-কর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার অ্যাডভোকেট জাহিদ আনোয়ার অন্যতম প্রার্থী। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে অনেকটাই আশাবাদী। অন্যদিকে সদ্য নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী এবার সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলীয় মনোনয়ন পেলে আটঘাট বেঁধে তিনিও নির্বাচনী মাঠে নামবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সুরুজ্জামান সমকালকে বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে দল থেকে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই রাজনৈতিকভাবে যোগ্য। আগামী নির্বাচন যদি সব দলের অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীর বিপক্ষে ভোটের লড়াইয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সবদিক বিবেচনা করে একজন সৎ, যোগ্য ও সবমহলে গ্রহণযোগ্য নেতাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেবেন, এমনটাই প্রত্যাশা জামালপুরবাসীর।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved