শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৭, ০২:২৭:১২
চট্টগ্রাম বন্দরে সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে

ক্যাপিটাল ড্রেজিং ফের অনিশ্চিত

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

পাঁচ বছর ধরে ক্যাপিটাল ড্রেজিং বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে ঢুকতে পারছিল না বেশি গভীরতার কোনো জাহাজ। বন্দরে আসা জাহাজকে বহির্নোঙরে কিছু পণ্য খালাস করে প্রবেশ করতে হচ্ছিল জেটিতে। এতে করে সময় লাগছে বেশি। বাড়ছে পণ্যের পরিবহন খরচও। জাহাজজট ক্রমে বেড়ে যাওয়ায় বন্দরেও তৈরি হয়েছে নতুন এক সংকট। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চলতি মাস থেকে কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল শনিবার এক রায়ে মালয়েশিয়ান মেরিটাইম ড্রেজিং করপোরেশনের (এমএমডিসি) চুক্তি বাতিল করাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকের দু'জন ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের নতুন ঠিকাদার নিয়োগের চুক্তি বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তবে আরেক বিচারক এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এ কারণে আবারও থমকে গেল বহুল প্রত্যাশিত ক্যাপিটাল ড্রেজিং। এ জন্য দীর্ঘ হতে পারে বন্দরের চলমান সংকটও।



মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠানটি ২২৯ কোটি টাকায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্নের চুক্তি করলেও মাঝপথে কাজ বন্ধ করে উধাও হয়ে গিয়েছিল। এ বিষয়টি পরে আদালত পর্যন্ত গড়ালেও নতুন নামে ফের ড্রেজিং শুরু করতে যাবতীয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে এবার সরাসরি সংগ্রহ পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ড্রেজিংয়ের কাজ করার কথা ছিল নৌবাহিনীর। নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তিও হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রথম এক বছর হতো ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও পরবর্তী তিন বছর মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং।



এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, 'কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং ডিপিএম পদ্ধতিতে নৌবাহিনীকে দিয়ে করানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। শিগগির এ কাজ শুরু করবে নৌবাহিনী। ড্রেজিংয়ের পর ৪০০ মিটার দীর্ঘ লাইটারেজ জেটি ব্যবহার করা যাবে। এতে চারটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। একই সঙ্গে কর্ণফুলীর নাব্য বাড়বে এবং দূষণও রোধ হবে। কমে আসবে জাহাজজটও।' নতুন রায় প্রসঙ্গে বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, 'এটির বিরুদ্ধে আপিল করব।'



জানা গেছে, সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর ড্রেজিং নামে প্রকল্পটির ডিপিপি (বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা) পাঠানো হলেও তা 'সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর নাব্যতা রক্ষা প্রকল্প' নামে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাটি সমুদ্র সমতল থেকে চার মিটার গভীর করা হবে। এতে এ এলাকা থেকে প্রায় ৪৩ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করার কথা ছিল। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং কার্যক্রম অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় পলি জমে ভরাট হতে থাকে কর্ণফুলী। আন্তর্জাতিক দরপত্রের কারণে ও মালয়েশিয়ান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষও ড্রেজিংয়ের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারছিল না। এমনকি নতুন করে দরপত্রও আহ্বান করা যাচ্ছিল না। আদালত গত জুলাইয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দিলেও এ বিষয়ে আইনি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া যায় গত অক্টোবরে। আর এ সময়ের মধ্যে পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়া কর্ণফুলীর ওপর জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা বুয়েট তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয় গত ডিসেম্বরে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিপিপি চূড়ান্ত করে গত জানুয়ারিতে অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত মাসে মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করে। এরপর নতুন নামে নৌবাহিনীকে দিয়ে ড্রেজিং শুরু করতে আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের রায়ে পুরো প্রক্রিয়া পড়েছে অনিশ্চয়তায়।



মালয়েশিয়ান মেরিটাইম অ্যান্ড ড্রেজিং করপোরেশনকে ২২৯ কোটি টাকায় কর্ণফুলী নদীর নাব্য বাড়াতে 'ক্যাপিটাল ড্রেজিং' প্রকল্পের কাজ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালের জুনে শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই চুক্তি বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দেয় বন্দর। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা দেওয়া ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৬ টাকা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিষয়টি সুরাহার জন্য যায় আদালতে।



শনিবার প্রকাশিত ট্রাইব্যুনালের আদেশের সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই এমএমডির নিয়োগ বাতিল করে দেওয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশ অবৈধ। এ ছাড়া বাজেয়াপ্ত করা টাকাও বন্দর কর্তৃপক্ষকে ফেরত দিতে হবে ৬০ দিনের মধ্যে।



বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএমডিসির স্থানীয় প্রটেকটিভ এজেন্ট রিভারাইন সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, 'বন্দর কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়ম না মানায় হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছিল। হাইকোর্ট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে পাঠায়। সেখানে বেশিরভাগ বিচারক আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।'


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved