শিরোনাম
 সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলি  একের পর এক সিইও পদত্যাগ করায় ট্রাম্পের ব্যবসায়ী পরিষদ বিলুপ্ত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৭, ০১:৫১:৫৯
জামালপুর

শিশু দুটির কী দোষ

মা বাড়ি ফিরে দেখলেন ঘরে সন্তানের গলাকাটা লাশ
জামালপুর প্রতিনিধি

কোল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে মায়ের হাসি-আনন্দের সংসার। স্বামী থাকেন দেশের বাইরে। কত ইচ্ছে, একদিন কন্যাদ্বয় লেখাপড়া শিখে বড় হবে। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই সময় পার হচ্ছিল। আগের দিন ঘরে দুই শিশু কন্যাকে রেখে মা গিয়েছিলেন বাপের বাড়ি। স্বামী দেশে না থাকায় মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে এভাবে যেতে হয়। পরদিন সকালে ঘরে ফিরে দেখেন দুই শিশু কন্যার গলা কাটা লাশ। নিথর হয়ে যাওয়া মা এবং পাড়া-প্রতিবেশীর এখন একটাই প্রশ্ন, এই নিষ্পাপ শিশু দুটির কী দোষ ছিল? নির্মম-নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে জামালপুর সদর

উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের দেউলিয়াবাড়ি গ্রামে। ওই গ্রামের সৌদিপ্রবাসী সামিউল হক শামীমের স্কুলপড়ূয়া দুই শিশু কন্যাকে মঙ্গলবার রাতে গলা কেটে হত্যা করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে সদর থানা পুলিশ দুই বোনের লাশ উদ্ধার করে। লোমহর্ষক এ জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকাজূড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত দুই শিশু হলো_ ভাবনা আক্তার (১৪) ও নুরুন্নাহার লুবনা। ভাবনা স্থানীয় কাজেম উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর লুবনা মেষ্টা ইউনিয়নের জহুরুল হক স্মৃতি কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কী কারণে, কারা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তা জানাতে পারেনি। স্তম্ভিত এলাকাবাসীও জানাতে পারেনি শিশু দুটির কী দোষ! তবে পুলিশ নিহত দুই শিশুর দাদা ওয়ারেছ আলী ও চাচা বিলাস মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

জানা যায়, নিহত শিশুদ্বয়ের মা তাসলিমা বেগম মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে ছিলেন না। দুই শিশু কন্যা ভাবনা ও লুবনাকে বাড়িতে রেখে তিনি জামালপুর শহরের বাগেরহাটা বটতলায় তার বাপের বাড়িতে যান। সেখান থেকে বুধবার সকাল ৮টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে ফেরেন। ঘরে প্রবেশ করে দুই কন্যার গলাকাটা লাশ দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। এসে প্রত্যক্ষ করেন নির্মম-নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। পরে পুলিশে খবর দিলে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওনক জাহান ফোর্স নিয়ে দেউলিয়াবাড়ি গ্রামে যান। র‌্যাবের কমান্ডার হায়াতুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যান র‌্যাব সদস্যরা। সেখান থেকে পুলিশ গলাকাটা অবস্থায় শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করে।

সিআইডির ময়মনসিংহ সার্কেলের ফরেনসিক বিভাগের একটি দল ও পিবিআইর ৮ সদস্যের একটি দল ঘটনার আলামত সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে আসে। ময়মনসিংহ রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনা তদন্তের জন্য সিআইডির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জামালপুর র‌্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার হায়াতুল ইসলাম বলেন, 'এটি একটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত করেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে র‌্যাবের একটি দলও মাঠে রয়েছে।'

পুলিশের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি ও পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'কয়েকটি সূত্রকে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু'জনকে আটক করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ঘাটন করা হবে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved