শিরোনাম
 নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই  বন্যার্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সমবেদনা  রীড ফার্মা: স্বাস্থ্য সচিবকে হাইকোর্টে তলব  ৩৮ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের ট্রেন চালু
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৭, ০১:৫৭:০১

বন্দরে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চান ব্যবসায়ীরা

বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বন্দরে একই ছাদের নিচে (ওয়ানস্টপ) সব ধরনের সেবা পেতে চান ব্যবহারকারীরা। একই সঙ্গে এ বন্দরকে 'অত্যাবশ্যকীয়' সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণার দাবি করেছেন তারা। গতকাল বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ দাবি তোলা হয়। সভায় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জাহাজজটের কারণে তাদের ব্যবসার খরচ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারায় অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশের প্রতি বিমুখ হচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশ বাজার হারাচ্ছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে- এমন অভিযোগ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে স্বল্প সময়ে আমদানি-রফতানি করা মালপত্র দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।



জাহাজজটের কারণে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। সংকট নিরসনে গত ৭ জুলাই সরকারি ছুটির দিন শুক্র-শনিসহ ২৪ ঘণ্টা বন্দর খোলার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশ প্রতিপালনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এ বৈঠক ডাকা হয় গতকাল। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, নৌ সচিব অশোক মাধব রায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল খালেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খান, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে স্থলবন্দর বেনাপোল পোর্টের সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়।



বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা ও সমাধানে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে তার ওপর বিস্তারিত দুটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। নৌ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হবে, অপরটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে। আগামী এক মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৪ ঘণ্টা বন্দর খোলা রাখার লক্ষ্যে বন্দর-সংলগ্ন সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। বর্তমানে বেসরকারিভাবে ১৮টি অভ্যন্তরীণ ডিপোতে (আইসিডি) কনটেইনার হ্যান্ডল করা হয়। বৈঠকে অভিযোগ করা হয়, এদের বেশিরভাগই ঠিকমতো কাজ করে না। জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের রেখে লাভ কী। তাদের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন তিনি। মুহিত আরও বলেন, জাহাজ আসা মাত্রই যাতে পণ্য খালাস করা যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে।



এ বৈঠকে চট্টগ্রাম ও বেনাপোল বন্দরের সমস্যা নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী তারা কাজ করছেন। ফলে বন্দর পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে। কী কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে এবং সমাধানের পথও তুলে ধরেন তিনি। এনবিআরের সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমানে ১৫-১৬টি সংস্থা কাজ করছে। তাদের মধ্যে কোনো ধরনের সমন্বয় নেই।



চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সমিতির সভাপতি মফিজুর রহমান বলেন, দেখা গেছে একটি পণ্য বন্দরে খালাস করার পর তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় বিএসটিআই কিংবা আণবিক শক্তি কমিশনে পাঠাতে হয়। কারণ তাদের চট্টগ্রামে কোনো অফিস নেই। এতে করে কোনো কোনো পণ্যের চালান খালাস করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে এক জায়গায় একই ছাদের নিচে আনতে হবে। এক স্থান থেকে সেবা দিতে পারলে পণ্য খালাস সহজ ও দ্রুত হবে। পণ্যের কায়িক পরীক্ষা কমানোর প্রস্তাব করে তিনি বলেন, এটি করা হলে পণ্য আরও দ্রুত খালাস হবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খান বলেন, আগে পণ্যের কায়িক পরীক্ষা ২০ শতাংশ করা হতো। এখন তা ১২ শতাংশ কমানো হয়েছে। বৈঠকে দ্রুত পণ্য খালাসে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।



চট্টগ্রাম অফিস জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউস। জট কমাতে এখন রাতের জোয়ারে জেটিতে নোঙর করছে জাহাজ। কাস্টমসে গত সপ্তাহে জরুরিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শতাধিক রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারী। এখন দিন-রাতের যে কোনো সময় আমদানি-রফতানির নথি (বিল অব এন্ট্রি) শুল্কায়ন হচ্ছে কাস্টম হাউসে।



পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ২৪ ঘণ্টার সেবা। কিন্তু গত সপ্তাহে প্রতিদিন কনটেইনার খালাস হয়েছে গড়ে দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার। ফলে কনটেইনারজট থাকছেই। ৩৬ হাজার ৩৫৭ কনটেইনার ধারণক্ষমতার ইয়ার্ড হলেও গতকাল ছিল ৩৭ হাজার ৩১৪টি। এ ছাড়া বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা জাহাজও নোঙর করা আছে ১২৮টি। এর মধ্যে কার্যক্রম চালু আছে ৬৬টিতে।



কাস্টম কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খান সমকালকে বলেন, অফিস খোলা রেখে তারা শুল্কায়নের জন্য বসে থাকছেন। কিন্তু বন্ধের দিন কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। তারপরও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।'



এ ব্যাপারে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, সর্বশেষ শুক্রবার মাত্র ৫৬টি আমদানি বিল অব এন্ট্রি শুল্কায়নের জন্য কাস্টম হাউসে এসেছে। শনিবার শুল্কায়ন হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ' বিল অব এন্ট্রি। স্বাভাবিকের তুলনায় এ হার অনেক কম। তবে পর্যায়ক্রমে এ হার বাড়বে।



বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকছে বেনাপোল বন্দর। কাস্টম, বন্দর, পুলিশ, বিজিবি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট, ব্যাংকসহ বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন এ জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।



২৪ ঘণ্টা অফিস খোলা রাখতে সবচেয়ে বড় সমস্যা জনবল সংকট। এ জন্য বেনাপোল কাস্টম হাউসে নতুন ২৫ জন কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসেও ১০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।



বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ভারতের কালীতলা ও সেন্ট্রাল পার্কিংয়ে সাত/আট হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু থাকলে এ পণ্যজট অনেক কমবে। তবে বেনাপোল বন্দরের জায়গা সংকট নিরসন জরুরি। ক্রেন ফর্ক লিফট সমস্যারও সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে বেনাপোলের সব ব্যাংক খোলা রাখা, বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলেন তিনি।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved