শিরোনাম
 এইচএসসিতে পাসের হার ৬৮.৯১%  পরীক্ষায় পাসের হার নয়, মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী  বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার  ওসমানীতে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০২:১১:০৭

সিইসির মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য বা ঘরোয়া সভা-সমাবেশের বাধা দূর করতে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নূরুল হুদার এমন মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ মনে করছেন, সিইসি চরম দায়িত্বহীন মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন জানাচ্ছেন, সিইসি যথার্থ অবস্থান নিয়েছেন।



গত রোববার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার সময় সিইসি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে সরকার বাধা দিলে ইসির কিছুই করার নেই। তফসিল ঘোষণার পর কোনো দলের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হলে ইসি ব্যবস্থা নিতে পারে।' তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক দলের নেতারা কোথায়, কারা বৈঠক করতে পারেননি সেটা সরকারের বিষয়। আমাদের দায়িত্ব আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা আছে। কোনো রাজনৈতিক দলকে মিটিং-মিছিল করার সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। নির্বাচন কমিশনের কাজ টেকনিক্যাল। রাজনৈতিক দলগুলো ঘরে বসে সভা করবে, নাকি পল্টনে করবে সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।'



গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার অথবা বিভাগ, জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত তাদের অধীন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বদলি করা যাবে না। এ ছাড়া নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করবেন।



সিইসির মন্তব্য দায়িত্বহীন : ড. তোফায়েল এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ মনে করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নূরুল হুদা 'চরম দায়িত্বহীন' মন্তব্য করেছেন। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে না পারলে কমিশনকে অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে। এটা তফসিলের আগের বা পরের বিষয় নয়।



তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'নির্বাচন কমিশনকে মনে রাখতে হবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচনকে পেছনে রেখে তারা আরও একটি নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছেন। এখানে তাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় থাকে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিন। ওই সময়ের মধ্যে সভা-সমাবেশের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার বাইরের দলগুলো কতটুকু প্রচারের সুযোগ পাবে?'



তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন যদি রাজনৈতিক দলগুলোর বিনা বাধায় সভা-সমাবেশ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে, তা হলে সবার জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত হবে কীভাবে?'



অধ্যাপক তোফায়েল বলেন, 'ইসির নিবন্ধন নিয়েই দলগুলো দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে। ইসি এসব বাধা দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে পারে।' সরকার কোনো ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।



সিইসির অবস্থানই যথার্থ :সাবেক ইসি ছহুল তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, 'বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নূরুল হুদা ভুল কিছুই বলেননি। আইন অনুযায়ী তিনি যথার্থ অবস্থান নিয়েছেন।' তার মতে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে জনগণের সমর্থন নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজের শক্তিতেই কার্যক্রম চালাতে হবে। সেখানে কোনো অযৌক্তিক বিধি-নিষেধ থাকলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারে।



ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী ড. এটিএম শামছুল হুদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছহুল হোসাইন জানান, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আইন দ্বারা নির্দিষ্ট করা রয়েছে। ভোটার তালিকা হালানাগাদ, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ এবং জাতীয় সংসদসহ অন্যান্য নির্বাচন অনুষ্ঠান ইসির কাজ। এসব কাজ করতে গিয়ে ইসির সহযোগিতা প্রয়োজন হলে সরকার তা সাংবিধানিকভাবে করতে বাধ্য।



তিনি বলেন, 'সারা বছর রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তারা কোথায় কী করবে তা নজরদারি করাও সম্ভব নয়। এটা কেবল নির্বাচনকালীন ইসির পক্ষে সম্ভব। সবাই যেন তখন সমান সুযোগ পায়, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে সচেষ্ট থাকতে হবে। ইসি এক্ষেত্রে সারাদেশের অঞ্চলভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করতে এসব ঘটনাকে প্রাধান্য দিতে হবে।'



সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে 'নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য'- এ বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, '৩০০ আসনে একই সময়ে ভোট আয়োজনের জন্য ছয় থেকে সাত লাখ জনবলের প্রয়োজন হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিজস্ব এত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। এসব কমকর্তাকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশন যেভাবে চাইবে সরকার সেভাবেই কমিশনকে সহায়তা করবে সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ দিয়ে সেটাই বোঝানো হয়েছে।'


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved