শিরোনাম
 এইচএসসিতে পাসের হার ৬৮.৯১%  পরীক্ষায় পাসের হার নয়, মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী  বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার  ওসমানীতে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০২:০৯:৪১
নির্বাচনকালীন সরকার :কী ভাবছেন

মুক্তমনে সংলাপে বসলেই সমস্যার সমাধান হবে

অভিমত: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
লোটন একরাম

অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকার মুক্তমনে আলোচনায় বসলে টেবিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারকেই এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আন্তরিকতা এবং ছাড় দেওয়ার মানসিকতাও থাকতে হবে।



একই সঙ্গে বিএনপির ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কে কতটুকু ছাড় দেবে- তা আলোচনার টেবিলেই ফয়সালা হবে। 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করতেই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন। অন্যথায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে তা প্রমাণও হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি শিগগির নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবে। ওই রূপরেখাই আলোচনার ভিত্তি হতে পারে।



নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে গতকাল সোমবার উত্তরার বাসভবনে সমকালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অনেক প্রশ্নেরই খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। আবার কিছু প্রশ্নের উত্তরও দেননি। বলছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেওয়ার আগে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।



সংলাপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সংলাপ চাইছেন না। তাদের উদ্দেশ্য দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা; জনগণের সম্মতিতে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা, জনগণ ভোটের যে অধিকার হারিয়েছে- তা ফিরিয়ে আনা; কারা দেশ পরিচালনা করবে, তা নির্ধারণের অধিকার জনগণকে দেওয়া; রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অস্থিরতা ও সংকট থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্থিতিশীল ও সমঝোতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, দেশের মালিক জনগণ। তাদের ওপর আস্থা রেখে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পেঁৗছানো আজ সময়ের দাবি এবং সেটা সকলের জন্যই মঙ্গল।



মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকারি দল আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই অঙ্গীকার করেছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য ওই নির্বাচন। তারা বলছিল, নির্বাচনের পরপরই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে। সব দলের অংশগ্রহণে দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে। কিন্তু তারা জনগণকে দেওয়া সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এখন দ্রুত সংলাপের উদ্যোগ নিয়ে তাদের দেওয়া অঙ্গীকারটি পূরণ করার সুযোগ এসেছে।



মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠন ও বদলের একমাত্র শান্তিপূর্ণ পন্থাই হচ্ছে নির্বাচন। সেই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেললে সরকার বদলের কোনো বৈধ ও শান্তিপূর্ণ পন্থাই আর খোলা থাকবে না। তাতে বলপ্রয়োগ ও অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখলের পথই প্রশস্ত হয় এবং শক্তি প্রয়োগে বিশ্বাসী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থি শক্তির উত্থানই অনিবার্য হয়ে ওঠে।



বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অংশগ্রহণমূলক একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী, দক্ষ নির্বাচন কমিশনের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলেই তা বোঝা যায়। দলীয় অনুগত হিসেবে তাদের পরিচিতি রয়েছে।



নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় প্রথমে সরকারি দল আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে ২৫টি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমাদের প্রস্তাব সরকার নাকচ করলেও পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছেন। যদিও আমাদের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেননি, তারপর সংলাপ তো করেছেন। তিনি আশা করেন, নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতেও সরকারকে সংলাপে বসতে হবে। এতে সংকটের সমাধান বেরিয়ে আসবে।



পৃথিবীর বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে অনুসরণ করে বাংলাদেশেও কি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার 'স্থায়ী ব্যবস্থা' করা যায় না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা দিতে হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অসম্ভব।



কেন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রয়োজন? এ প্রসঙ্গে যুক্তি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার যৌক্তিকতা তুলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন করে। বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার নির্বাচন করে দ্রুত সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যুক্ত করে আবার নির্বাচন ঘোষণা করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরপর তিনটি নির্বাচনই সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। কোনো সহিংসতা হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের এই আবহ পরে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও প্রভাব ফেলেছে। আমরা চাই, এবারও নিরপেক্ষ সরকার হবে। কোনো রাজনৈতিক আবরণ থাকবে না। সরকার নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। নির্বাচনী মাঠ হবে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড'। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।



মির্জা ফখরুল বলেন, সাধারণত বেশ কিছু দেশেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন সরকারের নাম হয়ে যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ সরকার হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে থাকে। বর্তমান সংবিধানেই এ ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনও উন্নত দেশগুলোর মতো হয়নি। এখানে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচন করলে অবশ্যই প্রভাব বিস্তার করবে। বিগত নির্বাচনেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।



আওয়ামী লীগ সহায়ক সরকারের দাবি না মানলে বিএনপি কী করবে? নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বর্জন বা আন্দোলন- কোনটা করবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় ও পরিস্থিতিই বলে দেবে, কী করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয় নিয়ে আগাম কিছু বলা যাবে না।



সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধান দুই দলকে 'ছাড়' দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ব্যাপারে মির্জা ফখরুল বললেন, এখানে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারি দলের আন্তরিকতার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। আলোচনার টেবিলে বসলেই ছাড় দেওয়া-না দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হবে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved