শিরোনাম
 এইচএসসিতে পাসের হার ৬৮.৯১%  পরীক্ষায় পাসের হার নয়, মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী  বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার  ওসমানীতে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০২:০৭:২৬

মাউশির ২০ টিম মাঠে নামছে

সাবি্বর নেওয়াজ

বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি নিয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতি ধরতে এবার মাঠে নামছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের ২০টি পৃথক টিম। মাউশির ৪০ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত টিমগুলো দেশের ৬৪টি জেলায় সরেজমিন পরিদর্শন করবে। ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক চিত্র লিখিত প্রতিবেদন আকারে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাউশির মহাপরিচালকের কাছে জমা দেবেন কর্মকর্তারা। প্রত্যেক টিমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্তি মাউশির অঞ্চলভিত্তিক থাকবে, না-কি তা আবার কেন্দ্রীয়ভাবে করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের সরকারি অংশ দেওয়ার কার্যক্রম মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) নিয়ে একদিকে দুর্নীতি এবং অন্যদিকে হয়রানির বিস্তর অভিযোগ আছে। গত সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় সভায়ও মন্ত্রী এসব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।



রোববার শিক্ষা ভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপিওভুক্তি নিয়ে বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় পৃথক ২০টি টিম গঠন করল মাউশি। শিক্ষকদের হয়রানি নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপিওভুক্তির কাজ ফের কেন্দ্রীয়ভাবে করার আভাস দিয়েছেন।



বিষয়টি স্বীকার করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'এমপিও নিয়ে নানা অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে। রোববার শিক্ষামন্ত্রীর সামনে মাউশির কর্মকর্তারা এ-সংক্রান্ত অভিযোগ করেন। এমপিও বিকেন্দ্রীকরণ করার পর আসল চিত্র কী তা জানা দরকার। এ জন্য এমপিও নিয়ে কাজ করছেন এমন কর্মকর্তাদের নিয়ে এই টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থার কথা ভাবা হবে।'



সূত্র জানায়, এই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর মাউশির আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে এমপিওভুক্তি বাতিল করতে পারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই খবরে ৯টি আঞ্চলিক অফিসের এমপিওর দায়িত্বে থাকা উপপরিচালকরা জোট বেঁধেছেন। তারা বিপুল অঙ্কের টাকা চাঁদা তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপকভাবে চাউর হয়েছে। তবে অনেক কর্মকর্তা জানান, আঞ্চলিক উপ-পরিচালকদের একক ক্ষমতা হ্রাস করে আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালকদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এতে ডিডিদের দৌরাত্ম্য কমবে। শিক্ষকদের হয়রানিও কমবে।



শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ করতে সারাদেশে ৯টি আঞ্চলিক অফিসকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো এমপিও প্রক্রিয়া অনলাইনের আওতায় আনা হয়। দুই বছরের মাথায় মাউশির প্রায় সব কর্মকর্তা নানা হয়রানির কথা বলছেন। তারা বলেন, এমপিও হয়রানি এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কোনো শিক্ষক লাখ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া ছাড়া এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। আঞ্চলিক অফিসগুলো এখন ঘুষের রাজত্বে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক জায়গার (শিক্ষা ভবনের) দুর্নীতি এখন সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এক স্তরের ঘুষ এখন কমপক্ষে সাত স্তর পর্যন্ত পেঁৗছেছে।



মাউশি সূত্রে জানা গেছে, ২০ টিমকে প্রশ্নভিত্তিক সুস্পষ্ট মতামতসহ ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে দেশব্যাপী অনলাইন এমপিও কার্যক্রমের মনিটরিং ও হালনাগাদ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রতিটিতে দুইজন কর্মকর্তার টিমে মাউশির উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী ও ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রাম ইনচার্জ মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকারকে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা; উপপরিচালক (কলেজ-২) মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার ও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী; উপপরিচালক (মাধ্যমিক) এ কে এম মোস্তফা কামাল ও ইএমআইএস প্রোগ্রামার (সেসিপ) শরিফুল ইসলামকে রাজশাহী, নাটোর, পাবনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) খ ম রশিদুল হাসান ও ইএমআইএসের প্রোগ্রামার (সেসিপ) তাপস কুমার সাহাকে দেওয়া হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের দায়িত্ব। উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) তানভীর মোশারফ খানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে; উপপরিচালক (মনিটরিং ও ইভালুয়েশন) এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার ও সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) এ কে এম মাসুদকে ফরিদপুর, মাগুরা, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জে; উপপরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান ও ইএমআইএসে প্রোগ্রামার (সেসিপ) মো. জহির উদ্দিনকে বরিশাল, ভোলা ও পিরোজপুরে; উপপরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) ড. মাহবুবা ইসলাম পাতা ও গবেষণা কর্মকর্তা (সেসিপ) নীহার পারভীনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কুমিল্লায়; উপপরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) ফারহানা হক ও শিক্ষা কর্মকর্তা (আইন) মো. আল আমিন সরকারকে নোয়াখালী, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে; উপপরিচালক (বিশেষ) ফওজিয়া বানু ও সহকারী পরিচালক (কলেজ-৪) মো. জাকির হোসেনকে যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহে; উপপরিচালক (এইচআরএম) মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও শিক্ষা কর্মকর্তা (আইন-১) মু. আবুল কাসেমকে পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠিতে; উপপরিচালক (কলেজ-১) ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও ইএমআইএসের (সেসিপ) মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. ইফতেখারুল ইসলামকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে; সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস ও সহকারী পরিচালক (আইন) মো. সাইফুল ইসলামকে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে; সহকারী পরিচালক সেসিপ (মাধ্যমিক) মো. সবুজ আলম ও সহকারী পরিচালক (এইচআরএম) সেসিপ মো. আসেকুল হককে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে; সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) দুর্গা রানী সিকদার ও সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) মুর্শিদা খাতুনকে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে; সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আবদুল মান্নান চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক, সেসিপ) মো. শামছুল আলমকে ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে; উপপরিচালক (একিউএইউ) খুরশীদ আলম ও সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) খুরশীদ আলমকে নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর ও টাঙ্গাইলে; সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) ড. ফারহানা বেগম ও সহকারী পরিচালক (বিশেষ) মোহসেনা বেগমকে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে; সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মুহাম্মদ জাকির হোসেন ও শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক-১) চন্দ্রশেখর হালদারকে বগুড়া, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে এবং সহকারী পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) ও শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফসার উদ্দিনকে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved