শিরোনাম
 এইচএসসিতে পাসের হার ৬৮.৯১%  পরীক্ষায় পাসের হার নয়, মানুষ হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী  বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার  ওসমানীতে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০২:০৫:৫০
ভোটের হাওয়া: পটুয়াখালী-১

আলতাফ-শাহজাহানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রার্থীরা একাট্টা

মুফতী সালাহউদ্দিন, পটুয়াখালী থেকে

পটুয়াখালীর দুই শীর্ষ নেতা বিএনপির জেলা সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া। দু'জনই পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দু'জনই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। এখন এ দুই নেতাই দলের ভেতরে ব্যাপক সমালোচিত।



নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দলের ভেতর থেকেই তাদের কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে, বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন। সুযোগ পেলেই তাদের রীতিমতো তুলাধোনা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করছেন। অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বয়সের ভারে ন্যুব্জ, এমন যুক্তিতে সরব হয়েছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও।



জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এ আসনে মহাজোটের বর্তমান সংসদে জাপা সদস্য। জোটে থাকলে তিনি আবারও প্রার্থী হতে চান। জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকতও জোটের মনোনয়ন চাইবেন।



তবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ আসনে অন্য দলের কাউকে আর ছাড় দিতে চাইছেন না। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, 'এ আসন থেকে আমি নির্বাচন করব, এটা চূড়ান্ত। আর মহাজোটে নাকি দলীয়ভাবে নির্বাচন করব, সেটা সময়ই বলে দেবে। আগাম তো আর তা বলা যাবে না।'



এ আসনে শেষতক আওয়ামী লীগ নাকি জাতীয় পার্টির প্রার্থী মহাজোটের মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগও বসে নেই। সম্ভাব্য দুই প্রার্থী- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া এবং দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এরই মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান মিয়াকে দল গোছাতে আরও মনোযোগী এবং আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের বিষয়ে আফজাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী সবুজসংকেত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।



এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরও দু'জন রয়েছেন। তারা হচ্ছেন পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলার সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন মৃধা ও জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত জাসদের ও মোতালেব মোল্লা কমিউনিস্ট পার্টির একক প্রার্থী।



আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেছেন, তিনি দু'বারের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এ কারণে শেখ হাসিনা তাকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও বলেছেন, 'বয়স হলেও দলের সব কাজ আমাকেই করতে হয়। সব সমস্যার সমাধান আমাকেই দিতে হয়। তখন তো কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আর সুবিধার সবটুকু শুধু ওনারা পাবেন? ওরা কী কাজ করেন? দলের কোনো কাজেই তো ওদের পাওয়া যায় না।'



বর্ষীয়ান এই নেতার মতো বয়সের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। তিনি বলেছেন, নেতৃত্ব দেওয়ার বেলায় বয়সেরও একটা বিষয় থাকে। এ কারণে বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আগামী নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নতুন কাউকে দলের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। স্থানীয় জনগণ ও ভোটাররাও পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন। এ বিষয়গুলো নেতৃত্বে থাকা বয়স্করা সহজে মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে বয়স, মেধা ও দক্ষতার মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকেই দলের মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন আফজাল হোসেন। এ জন্য তিনি ১০ বছর ধরে গোটা নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন।



ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'গত নির্বাচনে আমি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দলীয় নেত্রী মহাজোটের স্বার্থে আমাকে না দিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিবকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পরে আমি নেত্রীর নির্দেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ওই নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অধিকাংশ শীর্ষ নেতা আমার বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য, আমি যেন পটুয়াখালীর রাজনীতির নেতৃত্বে আসতে না পারি। তারা সবাই মিলে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনগণের রায় ছিনিয়ে নেন। তাই আমার বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে নেত্রী আমাকেই দলের মনোনয়ন দেবেন।'



অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা বলেছেন, 'আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে আমি আমার ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ মৃধাকে হারিয়েছি। উপজেলা নির্বাচনের সময় অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া তার ছেলেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদটি ছেড়ে দিতে বলেন। বিনিময়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে আমাকে দলের মনোনয়ন ছেড়ে দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এখন শাহজাহান মিয়া নিজেই নির্বাচন করার মতলব করছেন কেন? তার বয়স আশির ওপরে। কাজ করার শারীরিক শক্তি নেই। জনপ্রিয়তাও নেই। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা আমাকে দলের মনোনয়ন দেবেন বলে বিশ্বাস করি।'



জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ রব মিয়া বলেছেন, এ আসনে দলের একমাত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। দলে তার বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই। কেউ বিকল্প প্রার্থী হওয়ার কথাও ভাবছেন না। আর যারা আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিকল্প প্রার্থী হওয়ার কথা বলছেন, তারা মূলত দলের কেউ নন। তাদের কেউ বহিষ্কৃত, কেউ বা সাবেক নেতা। তারা সম্ভাব্য প্রার্থী হলেও দলের মধ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।



তবে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেছেন, '২০০৮ সালের নির্বাচনে তার পরিবর্তে আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ায় দল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মাশুলও দল ও দলের নেতাকর্মীদের দিতে হয়েছে। তাই দলের শক্ত অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি আরও বলেছেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে এখানকার নেতাকর্মীরা পছন্দও করেন না। তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছেন। আর আমি জন্মলগ্ন থেকে বিএনপি করছি। তাই আমার বিশ্বাস, দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।'



বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেতা শাহাদাৎ হোসেন মৃধা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। অনেকবার দলের মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিবারই অতিথি প্রার্থীদের দাপটে ছিটকে পড়েছেন। দলের অতিথি প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারণেই তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন।



অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেছেন, গত নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইলেও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন হাবিবুর রহমান।



মোতালেব মোল্লা জানিয়েছেন, তাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved