শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০১:০৩:০৭

ফেদেরার নিজেই যখন বিস্মিত

সপ্তাহ তিনেক পর ৩৬ পার করে ৩৭ বছর বয়সে যাত্রা করবেন। এমন এক সময়ে শারীরিক শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা আর অখণ্ড মনোযোগনির্ভর টেনিসে সবাইকে টপকে বিজয় কেতন ওড়াচ্ছেন রজার ফেদেরার। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এ বছরের উইম্বলডনও জিতলেন সুইস এই কিংবদন্তি। উইম্বলডনের অষ্টম আর সাকল্যে ১৯তম গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের মাধ্যমে ফেদেরার গড়েছেন টেনিসবিশ্বের বেশ কয়েকটি রেকর্ড। এ মুহূর্তে ক্রীড়াবিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকা এই তারকার টেনিস-কীর্তি তো কোর্টেই দেখা গেছে, এবার জানা যাক তার ভাবনার জগৎটি। উইম্বলডন জয়ের পর দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন টেনিস নিয়েই...

বেশি বয়সে উইম্বলডন জয়...

এই বছরটা যে পরিমাণ ভালো যাচ্ছে, যেভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি, যে ভালো লাগা অনুভূতি নিয়ে চলছি, তাতে আমার নিজেরই অবিশ্বাস্যরকমের আশ্চর্য লাগছে। সব এত ভালোভাবে চলায় আমি বিস্মিত। আমি জানতাম, একদিন ভালো কিছু হয়তো করতে পারব; কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে হবে, তা ভাবিনি। আমার তো মনে হয়, এ কথাটি শুনলে আপনারাও হাসবেন; আমি যদি বলতাম এ বছর দুটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতব, তাহলে মানুষ আমাকে বিশ্বাস করত না। এ দুটি শিরোপা জেতার কথা আমি নিজেই তো বিশ্বাস করতাম না।

রেকর্ড আট উইম্বলডন শিরোপা...

উইম্বলডনে যখন পিট সাম্প্রাসকে প্রথমবার হারাই (২০০১ সালে), তখন কিন্তু এত সাফল্যের কথা আমার ভাবনাতেই আসেনি। শুধু আশা করেছিলাম, একদিন নিশ্চয়ই আমি উইম্বলডনের ফাইনালে উঠব, আর টুর্নামেন্ট জেতার সুযোগও পাব। এই যে, এবার অষ্টম উইম্বলডন জিতলাম, এতটা কিন্তু কেউ কখনও ভেবে রাখে না, এত বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোয় না। যদি এমন লক্ষ্য কারও থাকে, তাহলে তার মধ্যে প্রচুর প্রতিভা থাকতে হবে, তিন বছর বয়স থেকেই বাবা-মা আর কোচরা মিলে উঠেপড়ে লাগতে হবে; মনে হবে, একটা প্রকল্প নিয়ে এগোনো হচ্ছে। আমি কিন্তু এ ধরনের বাচ্চা ছিলাম না।

সাম্প্রাস ও রেনশকে ছাড়িয়ে যাওয়া...

উইম্বলডন সবসময়ই আমার প্রিয় টুর্নামেন্ট। আমার নায়করা এই মাঠে, এই কোর্টে হেঁটে গেছেন। তাদের কারণেই আমি ভালো খেলোয়াড় হওয়ার কথা ভাবতে পেরেছি। এ কারণেই উইম্বলডনে ইতিহাস গড়তে পারাটা আমার জন্য সত্যিকারের বিশাল কিছু। মজার বিষয় হচ্ছে, রেকর্ডের কথা কিন্তু ফাইনালের দিন আমার ভাবনায় আসেনি। আমি যে আরেকবার উইম্বলডন জিতলাম, এ নিয়েই আমি খুশি ছিলাম। কারণ এই ট্রফির জন্য দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়েছে। কঠিন সময় গেছে।

গত বছর ৬ মাসের বিরতি...

আমার কাছের মানুষ আর দলের সবার কাছ থেকে আন্তরিকভাবে জানতে চেয়েছিলাম, আমি কি আবার গ্র্যান্ডস্লাম জিততে পারব? তারা কী মনে করে? তখন তাদের কাছ থেকে ওই উত্তরটাই এসেছে, যেটা সবসময়ই আসে। বলল, তুমি যদি শতভাগ সুস্থ থাক আর ভালো প্রস্তুতি থাকে, তাহলে খেলতে নেম। তারপর সবই সম্ভব। শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটি এমনই হয়েছে। তাদের কথায় আমি আস্থা রেখেছিলাম। নিজের মধ্যেও একই অনুভূতি ছিল। আমার মনে হয়, এ কারণেই আমার গত বছরের বিরতিটা খুব দরকার ছিল, শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট হয়েছি, নিজেকে মূল্যায়নও করতে পেরেছি।

আগামী উইম্বলডনে থাকছেন তো...

আমরা কেউই জানি না ভবিষ্যতে কী ঘটবে। এখানে এসে আবারও খেলার ইচ্ছা আমার আছে। আশা করি, এটা আমার শেষ ম্যাচ নয়। সত্যি কথা বলতে, প্রতিটি বছরকেই আমার শেষ বছর মনে হয়েছে। প্রতিবার ভাবি, সামনে আর একটাই বছর আছে। আমার যে সিডিউল, ফিটনেস, টুর্নামেন্ট_ সব মিলিয়ে আমি আগামী বছরও উইম্বলডন খেলতে চাই। তবে নিশ্চয়তা তো কখনোই দেওয়া যায় না। বিশেষ করে ৩৫, ৩৬ বছর বয়সে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved