শিরোনাম
 রাজধানী ও কুষ্টিয়ায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪  'রাজধানীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এএসপি মিজান হত্যায় জড়িত'
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৭

ত্যাগের মহান প্রতীক

ফকির আলমগীর
শুভ হোক তোমার জন্মদিন। নেলসন ম্যান্ডেলা বিশ্বের বর্ণ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বিশ্বমানবের অকৃত্রিম বন্ধু। বর্ণবাদ-পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন সময় মোট ২৭ বছর কেটেছে কারাগারে। শান্তিতে নোবেল পান ১৯৯৩ সালে। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে এই মহান নেতার জীবনাবসান ঘটে। প্রায় এক শতাব্দীর দীর্ঘ জীবনকাল। পুরোটাই কেটেছে মানবতার মুক্তির সংগ্রামে। বন্ধুর সেই পথচলা। ছিলেন কালো মানুষের নেতা। হয়েছেন বিশ্বনেতা। চলেও গেলেন বিশ্বকে কাঁদিয়ে, তিনি সবার প্রিয় নেলসন ম্যান্ডেলা। তার মৃত্যুতে কেঁদেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, কেঁদেছে গোটা বিশ্ব। কেঁদেছে বাংলাদেশের মানুষ এই অকৃত্রিম বন্ধুকে হারিয়ে। কেঁদেছি আমি নিজেও, আমার প্রিয় নেতাকে হারিয়ে। এখানেই তিনি একক, অনন্য, অবিসংবাদিত, অবিস্মরণীয়_ তার মৃত্যু নেই। তার স্মৃতি অমলিন। বিশ্ববাসী তাকে স্মরণ করবে আত্মত্যাগের মহান প্রতীক হিসেবে।

নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর, আমার তার সঙ্গে দুর্লভ স্মৃতির কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে তার ঢাকা সফরের কথা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৯৯৭ সালের মার্চে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ভাষণ দিয়েছিলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানে। তখন তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট। ওই অনুষ্ঠানে ম্যান্ডেলা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরের। ১৯৯৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ মার্চ তিন দিনের এই সফরটিই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তিকামী মানুষের নেতার প্রথম এবং শেষ সফর। 'আমিও বাংলার বন্ধু হতে চাই।' ম্যান্ডেলার এই মন্তব্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে এমন একটি জাতিকে শ্রদ্ধা জানাতে আমি বাংলাদেশে এসেছি। রক্তস্নাত এ স্বাধীনতা উদযাপনের অনুষ্ঠানে এসে আজ আমি বলছি, নিপীড়ন ঔপনিবেশিক শাসনের কবল থেকে বের হয়ে স্বাধীনতার পথ কখনোই সহজ নয়। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সেই স্মরণীয় বক্তব্যের কথাই বারবার মনে পড়ছে। মনে পড়ছে এই দিন বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দেওয়া এক সংবর্ধনায় যোগদানের প্রাক্কালে তৎকালীন হোটেল শেরাটনে স্ত্রীকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা। হোটেল কক্ষ থেকে নামতে নামতে লবিতে তাকে উদ্দেশ করে আমার জনপ্রিয় গান 'কালো কালো মানুষের দেশে_ নেলসন ম্যান্ডেলা তুমি অমর কবিতার অন্তমিল...' গাইতেই নেলসন ম্যান্ডেলা সাধারণত ভঙ্গিতে নেচে নেচে আমার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন, আন্তরিকতা নিয়ে আমাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। তার সঙ্গে তার আদরের কন্যা ছিল। আমরা তারপর বঙ্গভবনের সংবর্ধনা সভায় তাকে অনুসরণ করি। তার সঙ্গে শেরাটনে সাক্ষাৎ করা এবং বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে যোগদানের ব্যবস্থা করেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আবুল হোসেন। এ কথা আজ সবাই উপলব্ধি করছে, তার অবদান অবিস্মরণীয়, তার শূন্যতা অপূরণীয়।

বর্ণবাদবিরোধী, গণতন্ত্রীকামী, মুক্তির দিশারি নেলসন ম্যান্ডেলা আজ ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী মুক্তিকামী জনতার প্রেরণার উৎস। ম্যান্ডেলা একালের এক বিস্ময়। ম্যান্ডেলা আজ তাই ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, সৃজনশীলতা আর ধৈর্যের প্রতীক। ম্যান্ডেলাই কৃষ্ণ আফ্রিকাকে তুলে ধরেছেন সম্মানের আসনে। এক্ষেত্রে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত আফ্রিকা কবিতায় কালো আফ্রিকার সূর্যোদয়ের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার সার্থক রূপ দিয়েছিলেন দিব্যজ্যোতি মহামায়া ম্যান্ডেলা। পরিশেষে বলতে হয়, উর্দুকবি ফয়েজ আহমেদের কবিতার পঙ্ক্তি_ 'তোমার ঢাকের শব্দ আজও দ্রিমি দ্রিমি বাজে, তোমার দেহই তোমার ঢাল আফ্রিকা...।

গণসঙ্গীত শিল্পী
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved