শিরোনাম
 ওসমানীতে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার  বরিশাল আদালতের ৬ পুলিশ প্রত্যাহার  হিমছড়িতে পাহাড়ধসে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৯:০৮:৩৯ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৭, ০৮:৫১:২৯

নিজ পক্ষের কারো হাতেই খুন হয়েছেন লিটু?

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি
সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে গুলিতে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী লিটন আহমেদ লিটু তার নিজ গ্রুপের কারো হাতেই খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে গুলির শব্দ শুনে কলেজ ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা ওই কক্ষ থেকে লিটুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেন। গুলির ঘটনার আগে ওই কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা পাভেল গ্রুপের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের ধারণা, কক্ষে অবস্থান করা নিজ গ্রুপের কোনো কর্মীর সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিটি করা হয়েছে। খুব কাছ থেকে গুলি করায় লিটুর মাথার পেছনের খোল ফেটে মগজ বেরিয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে।

বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোশাররফ হোসেন বলেন, কক্ষের ভেতরে এক জোড়া জুতা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি বা খোসা কিছুই কক্ষে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, 'আমাদের ধারণা— নিজ পক্ষের কারো হাতেই লিটু খুন হয়েছেন। ঘটনার আলামত সেরকমই আভাস দিচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের ৩/৪ জন নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাটি ছাত্রলীগের গ্রুপিং সংঘর্ষ থেকে ঘটেনি। কলেজের প্রধান ফটকে পুলিশের অবস্থান ছিল। তারা গুলির শব্দ শুনে কক্ষের ভেতর লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

তিনি বলেন, 'আমরা ঘটনা তদন্ত করছি। এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে। তিনি জানান, পাভেল গ্রুপের এমদাদ, কামরান ও ফাহাদ নামে তিনজনকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সোমবার সকালে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের পল্লব গ্রুপের এক কর্মীর সঙ্গে পাভেল গ্রুপের এক কর্মীর হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর হঠাৎ গুলি শব্দে কেঁপে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। ওই সময় ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা কলেজের একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে লিটুর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে।

নিহত লিটু জেলা ছাত্রলীগের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক পাভেল গ্রুপের কর্মী। পৌর শহরের নয়াগ্রাম রোডে তার একটি মোবাইল দোকান রয়েছে। তিনি কলেজের শিক্ষার্থী না হলেও ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রায়ই কলেজে অবস্থান করতেন।

এদিকে পরিবারের একমাত্র ছেলেকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার পণ্ডিতপাড়া এলাকায় লিটুর বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। তার বাবা ফয়জুর রহমান অসংলগ্ন কথা বলছেন। লিটুর একমাত্র বোন রেশমা মাকে জড়িয়ে বিলাপ করছেন; মা- মেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে এসে তাদের সান্তনা দিতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা গেছে। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ লিটুর পরিবার।

লিটুর বাবা ফয়জুর রহমান বলেন, ছেলে কাজ করতে পারবে না বলে ইংল্যান্ড পাঠায়নি। আমার কোনো অভাব নেই। তিনি ছেলে চেয়েছিল পালসার মোটরসাইকেল কিনবে। গতকাল (রোববার) উত্তরা মোটরসে গিয়ে মোটরসাইকেল দেখে এসেছি। আজ বিকেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে আসার কথা বলেই তিনি জ্ঞান হারান।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved