শিরোনাম
 কাবুলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ২৪  ৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে  ভারি বৃষ্টির সাথে পাহাড় ধসের শঙ্কা, সাগরে ৩ নম্বর সংকেত  জর্ডানে ইসরায়েলি দূতাবাসে গুলি, নিহত ২
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ১৮:০৫:০২ | আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ২০:৩৫:৪১

ত্রিপুরা পাড়ায় ৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সমকাল প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ত্রিপুরা পাড়ায় ৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মৃত ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হামের জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিলো। একইসঙ্গে এসব শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছিল। এ কারণে সংক্রমণ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক বলেন, আক্রান্ত ত্রিপুরা পাড়ার ৮৫টি পরিবারে ৩৮৮ জন মানুষ বসবাস করে। সম্প্রদায়ের নেতার পরামর্শ, আদেশ ও উপদেশ মেনে তারা জীবনযাপন পরিচালনা করেন। তারা কোনোদিন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেয়নি। সেখানের শিশুদের কোনোদিন কোনো ধরনের টিকাও দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিশু মৃত্যুর পরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কার্যক্রমে সহকারী পরিচালক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভাইল্যান্স মেডিকেল অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আইইডিসিআর টিমের সঙ্গে রোগতাত্ত্বিক সমীক্ষা চালান। সমীক্ষায় রোগের প্রাক-ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়- ত্রিপুরা পাড়ায় চলতি বছরের ২২ জুন হাম সংক্রমণ হয়। ১০ জুলাই সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত শিশুর মধ্যে জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ পায়। কিন্তু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ৮ জুলাই। ১২ জুলাই পর্যন্ত ৯ শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর চিকিৎসার আওতায় আনার পর আর কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। যথাসময়ে আধুনিক চিকিৎসা পেলে শিশু মৃত্যু ঠেকানো যেত বলে দাবি করা হয়।

এ ঘটনার পর ত্রিপুরা পাড়ায় সরকারিভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জাননো হয়। মহাপরিচালক বলেন, ত্রিপুরা পাড়ার আক্রান্তদের সুচিকিৎসা চলছে। ওই এলাকার বাসিন্দা বীরেন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র  স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইপিএইচএন'র মাধ্যমে ওই এলাকায় পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে এলাকায় রোগ-ব্যাধি ও স্বাস্থ্য  পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলমান থাকবে।

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, দেশে প্রতিটি ইউনিয়নের অধীনস্থ ওয়ার্ডভিত্তিক মাইক্রোপ্ল্যান অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মাইক্রোপ্ল্যানে ত্রিপুরা পাড়ার উল্লেখ ছিল না। এ কারণে ত্রিপুরাপাড়ায় টিকাদান কার্যক্রম ছিল না। সিন্ধান্ত হয়েছে- দেশের সব ওয়ার্ডের টিকাদান মাইক্রোপ্ল্যানগুলো পর্যালোচনা করা হবে। কোনো ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড বাদ পড়ে গেলে সেগুলোকে মাইক্রোপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ত্রিপুরাপাড়ায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর পর দেশের সার্বিক হাম টিকা কার্যক্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে হাম রোগের টিকা কার্যক্রম সঠিকভাবে এগিয়ে চলছে।  প্রতি চার বছর পর পর দেশে বিশেষ হাম ফলোআপ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। পরবর্তী ফলোআপ কর্মসূচি আগামী ২০১৮ সালে প্রথম দিকে পরিচালনা করা হবে।  দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি মাত্রায় হাম রোগ প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা, পরিচালক (সিডিসি) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা, পরিচালক (পিএইচসি) ডা. এবিএম জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved