শিরোনাম
 কাবুলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ২৪  ৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে  ভারি বৃষ্টির সাথে পাহাড় ধসের শঙ্কা, সাগরে ৩ নম্বর সংকেত  জর্ডানে ইসরায়েলি দূতাবাসে গুলি, নিহত ২
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০২:৪৫:৩৩ | আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০৯:২৮:০৪

ইসির রোডম্যাপের লক্ষ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

সমকাল প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত রোডম্যাপে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তথা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করার কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা। তবে তফসিল ঘোষণার আগে এ ব্যাপারে কমিশনের কিছু করণীয় নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রোডম্যাপে ৩১ জুলাই থেকে সংলাপ শুরুর কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের তিন মাস আগে জেলা ও উপজেলা স্তরেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। 'সর্বব্যাপী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন' অনুষ্ঠান জনমানুষের প্রত্যাশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্তর্ভুক্ত বলে ইসি উল্লেখ করেছে।



গতকাল রোববার একাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ (কর্মপরিকল্পনা) ঘোষণার সময় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের নির্বাচন কমিশন ভবনের ইটিআইর সম্মেলন কক্ষে সিইসি আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা মুদ্রিত পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করেন। এ সময় কমিশনের অন্য চার সদস্য, ইসি সচিবসহ কমিশনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



এই নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সম্ভব নয় এবং তা রোডম্যাপে রাখা হয়নি বলে ইতিপূর্বে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানিয়েছিলেন। গতকাল এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ইভিএম এখনই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো রাজি হলে ও বাস্তবসম্মত হলে ব্যবহার করা যাবে। বিএনপি ইভিএমের ঘোর বিরোধী এবং আওয়ামী লীগ তা ব্যবহারের পক্ষে রয়েছে।



জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকতেই নিজেদের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন বলছে, কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। সরকারের উন্নয়ন সহযোগীরা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সবার কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। দেশবাসী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। সার্বিকভাবে দেশে একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে।



চলতি দশম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কোনো কারণে মেয়াদ পূরণের আগে সংসদ ভেঙে গেলে পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।



সাত দফা কার্যক্রম: ইসি ঘোষিত রোডম্যাপে সাতটি করণীয় নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ১. আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার, ২. নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ, ৩. সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ৪. নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ, ৫. বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ৬. নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা ও ৭. সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।



এতে বলা হয়েছে, কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নির্বাচনের মূল অংশীজন এবং উপকারভোগী সংগঠন-রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের সামনে উপস্থাপন করে সবার মতামতের আলোকে চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবার মতামতের আলোকে আগামী সংসদ নির্বাচন আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে বলে ইসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।



'রোডম্যাপ' প্রকাশ করে সিইসি বলেন, এটি একটি সূচনা দলিল। নির্বাচনের পথে কাজের জন্য এ কর্মপরিকল্পনাই সব নয়। সংযোজন-পরিমার্জন করে সবার মতামত নিয়ে আমরা কাজ করে যাব। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে সংলাপে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের কাছ থেকে সুপারিশের পাশাপাশি সহযোগিতাও চান সিইসি।



তফসিল ঘোষণার পরে: এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সরকার কোন দলের সঙ্গে কী আচরণ করবে, কোন দল সভা করবে আর কোন দল করতে পারবে না- সে বিষয়ে কমিশনের এখন কিছু বলার নেই। তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এটি ইসির এখতিয়ারের বিষয় নয়। তফসিলের পর এটি ইসির এখতিয়ারে আসবে। তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন সরকার, কোনো দল বা দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। প্রভাবমুক্ত থেকেই নির্বাচন করতে পারবে বলে কমিশনের বিশ্বাস রয়েছে। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন অবস্থায় বর্তমান ইসির পক্ষে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব।



সম্প্রতি একজন রাজনৈতিক দলের নেতার বাসায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের বাধার চেষ্টা প্রসঙ্গে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির সুযোগ নষ্ট হচ্ছে কি-না প্রশ্ন করা হলে সিইসি বলেন, 'এটা সরকারের বিষয়। আমরা তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এখন সরকারের কাছে কোনো অনুরোধ থাকবে না। তবে তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে অনুরোধ করা হবে।'



তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিন নির্বাচনী আইন-বিধি অনুযায়ী ইসি কাজ করবে। এ মুহূর্তে সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, রাজনৈতিক কর্মপরিবেশ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা কমিশনের এখতিয়ারে নেই।



সম্প্রতি ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের রদবদলে কমিশন সদস্যদের পাশ কাটানোর অভিযোগ সম্পর্কে সিইসি বলেন, এটা ঠিক নয়। কমিশন সভায় আলোচনা করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।



সহায়ক সরকার প্রসঙ্গ:  নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, 'তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সব প্রশাসনিক ক্ষমতার কর্তৃত্ব পায়। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা এটা নিয়ে ভাবছি না।' তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে সরকারই থাকুক না কেন, ইসির দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। নির্বাচনের সময় যে সরকারই থাকুক ইসি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম বলে উল্লেখ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।



নির্বাচনকালীন সরকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে তিনি পরিষ্কার করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সবকিছু করতে পারে ইসি। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশে সরকার কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে সাংবিধানিকভাবে তা মোকাবেলার প্রক্রিয়াও আছে।



সিইসি জানান, রোডম্যাপে উল্লেখ না থাকলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে নির্বাচন হবে কি হবে না- সে বিষয়ে আলোচনার দরজা এখনও বন্ধ হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পেঁৗছলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্বাচন করা যাবে।



কাজের সময়সূচি :ঘোষিত রোডম্যাপে সাত দফা করণীয় কোন সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে তার একটি সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও আইন সংস্কারের খসড়া প্রস্তুত এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণের জন্য ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নির্বাচনের পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী নেতৃবৃন্দ, নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে খসড়া প্রস্তুত করে ডিসেম্বরের মধ্যে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।



সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণে চলতি বছরের জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে নতুন নীতিমালা তৈরি, নভেম্বরে ৩০০ আসনের নতুন সীমানার খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং দাবি-আপত্তি গ্রহণ করে ডিসেম্বরে সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে।



২৫ জুলাই থেকে ভোটার তালিকার হালনাগাদের কাজ শুরু করে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি হালনাগাদকৃত তালিকা করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং জুন মাসে ৩০০ আসনের ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করা হবে।



২০১৮ সালের জুন মাসে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হবে। জুলাইয়ে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ ও দলগুলোর স্থানীয় দপ্তরে পাঠানো এবং ভোট গ্রহণের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করে তফসিল ঘোষণার পর সব দলের কাছে পাঠানো হবে।



অক্টোবরে নতুন নিবন্ধনে আগ্রহী রাজনৈতিক দলের আবেদন গ্রহণ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষার জন্য তথ্য নেওয়া হবে। আগামী বছর জানুয়ারিতে পুরনো দলের নিবন্ধন বহাল রাখা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও মার্চে নতুন নিবন্ধন পাওয়া দলের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।



সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ইসির জনবল প্রায় তিন হাজার জন, যার মধ্যে সদর দপ্তরেই রয়েছে ৩০০ জনের বেশি। জাতীয় নির্বাচনের আগে বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসন নির্বিশেষে প্রতিটি পক্ষকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পৃক্ত করা হয়। সে কারণে ইসির নিয়মিত প্রশিক্ষণের বাইরে সমস্যাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। তাই ২০১৮ সালের মধ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন, তফসিল ঘোষণার আগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ এবং ভোট নেওয়ার আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved