শিরোনাম
 কাবুলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ২৪  ৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে  ভারি বৃষ্টির সাথে পাহাড় ধসের শঙ্কা, সাগরে ৩ নম্বর সংকেত  জর্ডানে ইসরায়েলি দূতাবাসে গুলি, নিহত ২
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০২:৪২:৪২
নির্বাচনকালীন সরকার: কী ভাবছেন

রূপরেখা নির্ধারণে চাই জাতীয় সংলাপ

অভিমত: ড. কামাল হোসেন
আবু সালেহ রনি

নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় সংলাপ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করতে হবে। যেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এর ব্যত্যয় হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে না।



সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাহাত্তরের মূল সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপিসহ অনেক দলই অংশগ্রহণ করেনি। তখন বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এই নির্বাচন হচ্ছে। শিগগিরই পরবর্তী নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে, অর্থাৎ জাতীয় সংলাপ করে রূপরেখা তৈরি করা হবে। কিন্তু নির্বাচনের পর প্রায় চার বছর হয়ে গেছে, সংলাপ এখনও হয়নি। এখন তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চান। জনগণ এগুলো দেখছে; তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে কি-না।



পরবর্তী নির্বাচন তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত- এমন প্রশ্নের জবাবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, এটি এখন আর কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। জনগণ কী ভাবছে, তাদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অবশ্যই ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব ব্যাপারে ইসির নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গত সংসদ নির্বাচনে যেভাবে বহু সংখ্যক (১৫৩ জন) এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা-ও দেখা দরকার। তার মতে, একটি দেশে সংসদের অধিকাংশ এমপি যখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, এর চেয়ে আপত্তিকর কিছু হতে পারে না। এটি জাতীয় লজ্জারও বিষয়।



বিএনপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে পদে না রেখে সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; নির্বাচন পরিচালনা করবে ইসি। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, এসব বিতর্কে জড়াতে চাই না। জাতীয় সংলাপ হলে এসব থাকবে না।



সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে ইসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, আগে ধারণা ছিল, নির্বাচনে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এখন যার কাছেই জানতে চাই তাদের সবার বক্তব্য, প্রার্থীরা কোটি কোটি টাকা খরচ করেন। ইসিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্রার্থীরা কোথায় কত টাকা ব্যয় করছে, কীভাবে ব্যয় করছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার যদি বন্ধ না করা যায়, তাহলে তাকে সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যায় কি-না এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।



অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ২০০৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর একটি নির্বাচনী জোট হয়েছিল। ওই জোটে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনও নেতৃত্বে ছিলেন। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের তৎকালীন ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, তৎকালীন সরকারও (বিএনপি-জামায়াত) ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি একটি বিতর্কিত নির্বাচন করতে চেয়েছিল; কিন্তু পারেনি। কারণ, তার আগেই ২০০৫ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে অভিন্ন ২৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে এখনও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগই এখন ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগ জানে, তাদের কী করা দরকার।



বঙ্গবন্ধু সরকারের সাবেক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, '২০০৫ সালে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী সংস্কারের জন্য যখন রূপরেখা ঘোষণা করা হয়, তখন আমাদের অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ ওই রূপরেখার ভিত্তিতেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিল।'



২০১১ সালের ১১ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। তবে সংসদ চাইলে প্রয়োজনীয় বিধান সংশোধন করে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বাদ দিয়ে পরবর্তী দুটি নির্বাচন (দশম ও একাদশ) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যাবে বলে ওই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে একাদশ সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হাতে পারে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণ চাইলে হবে। এ জন্য জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন।



সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন হলো একটি প্রতিযোগিতার মতো। ক্রিকেটে আম্পায়ার যেমন, তেমনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসিকেও নিরপেক্ষ হতে হবে। কালো টাকা, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন করতে হলে রাজনীতির দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। এ জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অবশ্যই ইসিকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আবার ইসির ভূমিকাও রাজনৈতিক দলগুলো পর্যবেক্ষণে রাখবে। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, তাহলে তাকে নোটিশ করতে হবে।



আগামী নির্বাচন সামনে রেখে ১৩ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসভবনে বৈঠক করেন সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। বৈঠকে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি যাননি। এ পর্যায়ে আগামী নির্বাচনে তার দলের ভূমিকা কী হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, 'আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, থাকব। এখনই কোনো বক্তব্য দিয়ে রাজনীতিতে সেনসেশন তৈরি করতে চাই না।'


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved