শিরোনাম
 কাবুলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ২৪  ৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে  ভারি বৃষ্টির সাথে পাহাড় ধসের শঙ্কা, সাগরে ৩ নম্বর সংকেত  জর্ডানে ইসরায়েলি দূতাবাসে গুলি, নিহত ২
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০০:৫৪:০২

শ্রীলংকার পরে তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ ৮ দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে
মিরাজ শামস
শ্রীলংকার পরে তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করবে বাংলাদেশ। দেশটির সঙ্গে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ মোট আট দেশের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ করার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার শ্রম বিষয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে এফটিএ করার বিষয়টি কাছাকাছি এসেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ বছরের মধ্যে দেশটির সঙ্গে এফটিএ হবে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এতদিন না করার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। আসকের সঙ্গে এফটিএ করলে তারা লাভবান হবে, বাংলাদেশ লাভবান হবে না। তবে শ্রীলংকার সঙ্গে এফটিএ করলে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

শ্রীলংকার সিমেন্ট, কাগজ, টিন, ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। দেশটির সঙ্গে এফটিএ হলে অনেক পণ্য রফতানির সুযোগ বাড়বে। তাদের রফতানি বাংলাদেশের মতো নয়। এভাবে যেসব দেশের সঙ্গে এফটিএ করলে লাভবান হওয়া যাবে, সেসব দেশের সঙ্গে এফটিএ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এফটিএ করবে তুরস্ক, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে তাদের সঙ্গে এফটিএ করা হবে, যারা শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয় না। তিনি বলেন চীন থেকে এ সুবিধা মিলছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে হবে না। কারণ এখন প্রায় ২০০ কোটি ডলারের মালয়েশিয়ার পণ্য আমদানি হয়। রফতানি হচ্ছে মাত্র ২০ কোটি

ডলারের পণ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এফটিএ হলে পোশাক রফতানিতে তুরস্কের আরোপিত ১৭ শতাংশ সুরক্ষামূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) এ দেশ দেশীয় শিল্প রক্ষার নামে সাত বছর ধরে তৈরি পোশাকের ওপর সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপ করেছে। শুল্ক আরোপের পর থেকে তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আর তেমন বাড়েনি। শুল্ক ও অশুল্কজনিত বাধা দূর হলে প্রতিবছর ২০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি সম্ভব হবে। তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলে রয়েছে। এ কারণে শ্রীলংকার পরে দেশটির সঙ্গে এফটিএ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে তুরস্কের এফটিএ আছে।

দীর্ঘ ছয় বছর পর গত জুনে তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করে বাংলাদেশ। ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠকে দুই দেশের এফটিএর বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। জানা গেছে, এফটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তুরস্কের কাছে তৈরি পোশাকে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের শর্ত দিতে পারে বাংলাদেশ। তুরস্কের দিক থেকেও বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে কৃষিপণ্যে বাজার সুবিধা চাইছে তুরস্ক। বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ করার জন্য একটি খসড়া পাঠানো হয়েছে তুরস্ক থেকে। তুরস্কে যেসব পণ্যের রফতানি সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধসহ বেশকিছু পণ্য বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া দেশটিতে শ্রম রফতানির বিষয়টি এফটিএর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি-না তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ করার বিষয়টি অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছে। শ্রীলংকার পরে তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মরক্কোসহ অনেক দেশের সঙ্গে এফটিএ হতে পারে। তিনি বলেন, ইইউভুক্ত দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা থাকলেও তুরস্কে নেই। চুক্তি হলে দেশটিতে রফতানি সুবিধা বাড়বে।

জানা যায়, এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইইউতে তৈরি পোশাক রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও তুরস্কের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তুরস্ক সরকার ২০১০ সালের অভ্যন্তরীণ শিল্প রক্ষার জন্য তৈরি পোশাক শিল্প আমদানির ওপর 'সেফ গার্ড ডিউটি' আরোপ করে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানায় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ অন্যান্য পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে তুরস্কে আপত্তিপত্র পাঠায়; কিন্তু ওই আপত্তি আমলে নেয়নি তুরস্ক। এর পর ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্ক সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আগ্রহ দেখায়। তুরস্কের সঙ্গে বর্তমানে ১২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ কোটি ডলারের পণ্য বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়। তুরস্কের সঙ্গে ১৮টি দেশের এফটিএ রয়েছে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved