শিরোনাম
 কাবুলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ২৪  ৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে  ভারি বৃষ্টির সাথে পাহাড় ধসের শঙ্কা, সাগরে ৩ নম্বর সংকেত  জর্ডানে ইসরায়েলি দূতাবাসে গুলি, নিহত ২
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৭

যে জলে তৃষা মেটে সে জলেই মরণ...

সময়ের কথা
অজয় দাশগুপ্ত
একটি গান শুনেছি এভাবে_ দয়াল কত লীলা জানো, যে জলেতে তৃষা মেটাও সে জলে কেন মরণ আনো...। চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা এ গানের দৃশ্য ছিল এ রকম_ বন্যার পানি বাড়ছে, এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছোট মেয়েকে নিয়ে আছেন একটু উঁচু স্থানে। মেয়েটি ভয়ার্ত চোখে দেখছে কী ভয়াবহ বিপদ ঘনিয়ে আসছে, বাবা উপলব্ধি করছেন কী ভয়াবহ বিপদ ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু অসহায়ভাবে প্রকৃতির রোষের কাছে আত্মসমর্পণ ছাড়া কীই-বা করার আছে! তিনি একতারা বাজিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে কেবল আর্জি জানালেন। পানি বেড়ে চলেছে। এ পানি তাদের তৃষ্ণা মেটাবে না। খানিকক্ষণ পরে তাদের তলিয়ে নেবে...।

এ বছর সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ প্রভৃতি জেলার হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে অকাল বন্যায়। শুক্রবার (১৪ জুলাই) সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পরেই স্থানীয় সেক্রেটারিয়েল সায়েন্সের শিক্ষক নূর হোসেন বলে উঠলেন, ভাটি অঞ্চলের রাজধানীতে স্বাগতম। মোহনগঞ্জের বাজারে ধান-চাল-মাছ বিক্রি হয় অঢেল। এবার একেবারেই প্রাণচাঞ্চল্যহীন। গ্রীষ্মে আম, আনারস, কাঁঠালসহ নানাবিধ ফল আসে মোহনগঞ্জে। কিন্তু নূর হোসেন গভীর হতাশার সুরে বলেন, পাইকাররা বুঝে গেছেন_ এবারে হাওরের মানুষের হাতে টাকা নেই! টাকা আসবে কোত্থেকে_ হাওরের প্রধান ফসল ধান যে তলিয়ে গেছে অতলে! তবে ব্যক্তিগতভাবে নেত্রকোনার যে হাওর এলাকায় তার বসবাস, সেখানে ফসল তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং বাজারে ধান-চালের ভালো দাম থাকায় তারা লাভবান হয়েছেন।

হাওরে কত পানি? ইঞ্জিন নৌকায় এগিয়ে যেতে যেতে জিজ্ঞেস করি_ কেউ বলেন, ১০ হাত, কেউ বলেন ২০-২২ ফুট। এবার পানি এসেছে ইরি ধান পাকার আগেই। একের পর এক বাঁধ ভেঙেছে। এ পানি এমন গতিতে সামনে এগিয়ে চলেছে_ যেন কোনো বাধা মানবে না। নৌকা চলতে চলতে অনেকে দেখিয়েছেন, পাকা-আধাপাকা সড়কের চিহ্ন_ ঘাস দেখা যায়, পানি ভেদ করে মাথা তুলেছে। এই বাঁধ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। হাওরের বাসিন্দা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, কমবেশি সবাই একমত_ বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেয়েও ঢের বেশি আগ্রহ, উৎসাহ পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া। এটা কেবল দলীয় প্রীতির কারণে নয়_ আরও পিরিত আছে যে! এই রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। দেখা যাক, পরিণতি কী দাঁড়ায়। সঠিক তদন্ত হলে বাংলাদেশের পুঞ্জিভূত একটি সমস্যা সমাধানের সূত্র মিলতে পারে_ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির বরাদ্দ অর্থ কীভাবে লুটপাট হয়। কিন্তু প্রশ্ন একটিই_ যারা এ অনিয়ম-দুনীঁতিতে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত, তাদের তদন্ত প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে কি?

আমরা সকালে এগিয়ে চলি কংস নদী দিয়ে_ বড় বড় হাওর পেঁচিয়ে চলা এ নদীর পানি আশ্বিন-কার্তিকেই শুকিয়ে যাবে। তখন কোথাও এক হাত পানি, কোথাও বা সামান্য বেশি। রবীন্দ্রনাথ কি এমন নদী দেখেই লিখেছিলেন_ আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে? বৈশাখে কংস নদী হেঁটে পার হয়ে যায় এমনকি শিশুরাও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর এলাকা পরিদর্শনের সময় হাওরের নদনদী খননের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা এলাকায় যাদের সঙ্গেই কথা বলেছি, তারা বলেছেন হাওরে ড্রেজিংয়ের সময় উৎসে যেতে হবে। ওই অঞ্চলের নদনদীর যোগাযোগ রয়েছে মেঘনার সঙ্গে। এ নদীকে বাইরে রেখে হাওরের দুুর্দশা মোচন করা যাবে না। একইসঙ্গে তাদের কথা_ যারা হাওরের বাঁধ ও সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে, তাদের কিংবা তাদের মতো ব্যক্তিদের হাতে নদনদী খননের ঠিকাদারি দেওয়া যাবে না। আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের একটিই ভাষ্য_ প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসার সময়ে বাঁধ কিংবা সড়কের কাজে হাত দেওয়া হয়। বর্ষায় তা তলিয়ে যায়, কোনো কোনো বছর তার সঙ্গে মিলিয়ে যায় কৃষকের স্বপ্ন। কখনও যদি তদন্ত হয়_ ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শাসক দলের (যখন যে ক্ষমতায়) প্রায় অভিন্ন উত্তর_ মাটির কাজ তো হয়েছিল, পানির তোড়ে টেকেনি।

কংস নদীতে দেখেছি, একটি মাত্র ড্রেজার খননের কাজ করছে। পথে চোখ যায় একাধিক ইটের ভাটার দিকে। আরও নজরে পড়ল_ একটি সিমেন্ট তৈরির কারখানা গড়ে উঠছে। ইটের ভাটা ও সিমেন্ট কারখানা কিংবা এ ধরনের আরও প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে নদী বা হাওরের স্থান দখল করে। কিন্তু দেখার কি কেউ নেই? এ ধরনের অন্যায় যারা করতে পারে তাদের হাত অনেক অনেক লম্বা। হাওর এলাকায় 'ভাসান পানির মাছ' খুব পরিচিত কথা। নদীতে যে মাছ থাকে, তা বর্ষায় ভেসে যায় হাওরে। এসব হাওরের মধ্যে যেসব বাড়ি গড়ে উঠছে, তারও অংশ তলিয়ে যায় বর্ষার পানিতে। কিন্তু হাওর যারা ইজারা নেয়, তারা এই ভাসান পানিতে অন্য কাউকে মাছ ধরতে দিতে রাজি নয়। হাওরে দেশের অন্যান্য এলাকার মতোই ধনী-দরিদ্র আছে। সেখানে বৈষম্য আরও প্রকট। ধনী পরিবারের ঘাটে বর্ষায় বাঁধা থাকে ইঞ্জিন নৌকা। আর দরিদ্রদের ছোট নৌকা। কয়েক পরিবার মিলেও একটি নৌকা চালানো হয়। বর্ষায় সাগরের মতো ঢেউ ওঠে হাওরে। তখন দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবন থমকে যায়। অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা এমনকি চাল-ডাল-তেল কিনতে বাইরে যেতে তাদের দারুণ সমস্যা। কিন্তু যেসব ধনবান পরিবার হাওরে মাছ ধরার ইজারা পায় তারা লাঠিয়াল পুষতে পারে। ইজারা নেওয়া হাওরে কোনো দরিদ্র লোক জাল ফেলে কিংবা এমনকি বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গেলেও বিপদে পড়ে। তারা মারধরের শিকার হয়। দূর থেকে পাথর ছুড়ে মারার ঘটনাও আছে। এটা শাস্তির প্রথম পর্যায়। যাদের এভাবে শায়েস্তা করা যায় না, তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। এ সময়ে কোত্থেকে যে ইয়াবা কিংবা ফেনসিডিল হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়, কেউ জানে না। তবে পুলিশ নিশ্চয়ই জানে। অপরাধের সূত্র তারা সহজেই বের করতে পারে। কিন্তু করে না_ এটাই অনেক অনেক মানুষের অভিযোগ। সব লোকের জন্য মাছ ধরার সুযোগ করে দিলে হাওরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে উপকৃত হতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের ভাবনায় তা নেই। সরকার অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চাল ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু বিশাল বিস্তৃত হাওরের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাড়িগুলোতে ত্রাণ সহায়তা নিয়মিত পেঁৗছে দেওয়া সহজ নয়। এ কাজে ব্র্যাক কিংবা এ ধরনের সুনামধারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার কথা কি ভাবা যায় না? হাওরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে যারা পড়ছে, তাদের বেশিরভাগের পক্ষে আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে ক্লাস করাও কঠিন। ব্র্যাক নৌকায় স্কুল চালু করেছিল। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে সরকার যুক্ত হতে পারে। হাওরে প্রতিবছর বর্ষায় পানি থাকবে এবং এ পানিই হাওরের জীবন। এ প্রবাহ কোনোভাবেই রোধ করা যাবে না। হাওরে পর্যাপ্ত পানি না এলে কেবল সেখানকার মাটির ক্ষতি হবে না, দেশের আরও অনেক এলাকার পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের কাজ হচ্ছে অকালে যেন এ পানির প্রবাহ সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে না যায়, সেজন্য কিছু বাঁধের ব্যবস্থা করা। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বাঁধের জন্য বরাদ্দ অর্থের নয়ছয় চলছে দশকের পর দশক ধরে। হাওর কিছু লোকের কাছে সোনার ডিমপাড়া হাঁস যেন!

এবারে যেসব হাওরের বুক চিরে এগিয়েছি_ আগামীর কথা জানতে চেয়েছি। সবাই বলেছেন, এক মৌসুমের অকাল বন্যার অভিজ্ঞতা থেকে যেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়। সেখানে বছরে একটিই ফসল হয়_ বোরো মৌসুমে ইরি জাতের ধান। মাত্র তিন দশক আগেও হাওরে বোরো মৌসুমে খুব বেশি জমিতে ধান চাষের তেমন চল ছিল না। উচ্চফলনশীল ধানের প্রচলন এবং গভীর নলকূপের সাহায্যে সেচের ব্যবস্থা হওয়ার পরেই কেবল ধানচাষ জনপ্রিয় হয়েছে। আমরা চাইলেই কয়েক মাসের মধ্যে ৯০ দিনের কম সময়ে ফলন মেলে, এমন জাতের বীজ উদ্ভাবন করতে পারব না। পর পর কয়েক বছর অকাল বন্যা হলে তবেই এ ধরনের পদ্ধতি নিয়ে ভাবা যাবে। এখন জরুরি হচ্ছে, পরবর্তী ফসলের জন্য কৃষককে উন্নত মানের ধানের বীজ, সেচের পানি, প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক সারের জোগান নিশ্চিত করা। আর চাই অর্থ। এ ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় নিশ্চিত করা চাই_ কোনোভাবেই দু'নম্বরি চলবে না। এমন রাজনৈতিক অবস্থান কি শাসক দল আওয়ামী লীগ নিতে পারবে? এটা বড় চ্যালেঞ্জ বৈকি।

হাওরে কত ধান বা চাল হয়? সবচেয়ে বেশি হাওর রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। ওই জেলায় সমকাল প্রতিনিধি পঙ্কজ দে জানিয়েছেন, এ বছর গোটা জেলায় বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল প্রায় সাড়ে আট লাখ টন। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে মাত্র আড়াই লাখ টন, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ লাখ টন কম। নেত্রকোনায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ টন। উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ টনের কিছু বেশি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন লাখ টন কম। সব মিলিয়ে বলা যায়, হাওরে অকালে ভয়াবহ বন্যার কারণে চালের উৎপাদন ১০ থেকে ১২ লাখ টন কম হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অুনযায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে চাল উৎপন্ন হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ টন। চলতি বছরে বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদন যদি ১০ লাখ টন, কিংবা এমনকি ১৫ লাখ টনও কম হয়, সে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের সামনে আউশ ও আমন মৌসুম ছিল। আর চাল এমন একটি পণ্য, যার মজুদ একদিনে বা এক মাসে কিংবা এক বছরে নয়_ প্রতিদিন একটু একটু করে দরকার পড়ে। তাহলে কারা হাওরে অকাল বন্যায় ১০-১২ লাখ টন চাল উৎপাদন কম হওয়ার কারণে গেল গেল রব তুলল? কী তাদের উদ্দেশ্য ছিল? এই গেল গেল ধ্বনিতে একদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের কেজি ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকার কাছাকাছি নিয়ে গেল এবং সরকার সেটা তাকিয়ে দেখল অসহায়ভাবে। তারা মিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে গেল না। যে ক্ষমতাসীনদের সংসদে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব, যাদের নিয়ন্ত্রণে প্রায় সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ_ তাদের কেন এভাবে অসহায়ত্ব প্রকাশ পাবে? এ সরকার দেশের উন্নতি করেছে যথেষ্ট, তাতে সন্দেহ নেই। রোববার প্রথম আলোর এক জরিপে বলা হয়েছে, ৭৩.৮ শতাংশ তরুণ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট। বাংলাদেশকে একসময়ে তলাবিহীন ঝুড়ি কিংবা বাস্কেট কেস বা বটমলেস বাস্কেট হিসেবে উপহাস করা হতো। এ দেশটি উন্নত হবে, এমন ধারণা এমনকি বিশ্বব্যাংক বা উন্নত দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদরাও বিশ্বাস করতেন না। অথচ বাংলাদেশ প্রকৃতই এখন উন্নয়নের সিঁড়িতে। এই অর্জন যে দৃশ্যমান, সেটা প্রকাশ পেয়েছে তরুণদের অভিমতে_ তাদের কাছে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের চিত্র স্পষ্ট। এমন একটি দেশের নেতৃত্বে যে সরকার তারা কেন প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদন হয় যে দেশে সেখানে এক মৌসুমে ১০-১২ লাখ টন চাল উৎপাদনে ঘাটতি দেখে নার্ভাস হয়ে পড়বে? ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৯৩১ কোটি টাকার চাল আমদানি করেছিল। এখন খাদ্য আমদানির যে তোড়জোড় (সম্ভবত অতিমুনাফার লোভে অতিউৎসাহী কিছু লোকও এ দলে রয়েছে), তাতে চাল আমদানির ব্যয় শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কে জানে। এটা অসম্ভব নয় যে, এই বিপুল অর্থের অর্ধেকও যদি কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের দেওয়া হতো তাহলে তারা চলতি আউশ ও আগামী আমন মৌসুমে সেটা কেবল পুষিয়ে দেওয়া নয়, ধান-চালের গোলা উপচেও দিতে পারত। কৃষক-ক্ষেতমজুরদের মধ্যে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্দীপনা যে যথেষ্ট রয়েছে, তার প্রমাণ আমরা অনেকবার পেয়েছি। ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আমন ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও অর্থমন্ত্রী এসএএমএস কিবরিয়াসহ অন্যদের সমন্বিত উদ্যোগে পরের বোরো মৌসুমেই কৃষকরা প্রায় এক কোটি টন বোরো চাল উৎপাদন করতে পারে। মনে আছে, সে সময়ে ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সোনারগাঁও হোটেলের এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেব যখন এক কোটি টন বোরো চাল উৎপাদনের আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখছিলেন, তখন আমার পাশে বসেই স্বগতোক্তির মতো বলে উঠেছিলেন_ রিডিকুলাস (হাস্যকর দাবি)। অথচ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে কেবল বোরো মৌসুমে এক কোটি ৯২ লাখ টনের মতো বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে।

এ অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চয়ই সরকার শিক্ষা নিয়েছে। আমাদের পানি যেমন মরণ ডেকে আনতে পারে, তেমনি তা তৃষ্ণা মেটায়, ফসলে সেচ দেয়, মাছের অভয়ারণ্য হয় এবং সর্বোপরি পরিবেশ রক্ষা করে। আমাদের কৃষক-ক্ষেতমজুররা এ পানির সঙ্গে চলতে পারে মানিয়ে। সাময়িক বাধা এলে তারা থমকে দাঁড়ায় বটে, কিন্তু দ্রুতই এগিয়ে চলতে পারে পানির স্বাভাবিক প্রবাহের মতো।

ajoydg@gmail.com

সাংবাদিক
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved