শিরোনাম
 ওসমানীতে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার  বরিশাল আদালতের ৬ পুলিশ প্রত্যাহার  হিমছড়িতে পাহাড়ধসে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৭, ২০:৫০:৩৯ | আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৭, ২২:৫৯:৪৯

এবার কুমিরায় 'অজ্ঞাত রোগে' আক্রান্ত শিশু

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পল্লীর পর এবার কুমিরার ত্রিপুরা পল্লীতে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত এক শিশুর খোঁজ মিলেছে। রোববার উদ্ধারের পর অরুণ ত্রিপুরা (৭) নামের শিশুটিকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি সংযুক্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাবার নাম ধনকুমার ত্রিপুরা।

বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মামুনর রশীদ বলেন, 'সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকার দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীর একটি শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।'

এর আগে শনিবার উপজেলার মধ্যম সোনাইছড়ি এলাকার দক্ষিপাড়ার পাহাড়ি টিলা থেকে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও ১৬ শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সোনাইছড়ি ও কুমিরা ত্রিপুরা পল্লীর ৮৫ জন অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে, রোববার ফৌজদারহাট হাসপাতাল থেকে আরও পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা অজ্ঞাত রোগের পাশাপাশি অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কারণে তাদের চমেকে পাঠানো হয়েছে হবে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ডা. মামুনর রশীদ বলেন, 'রোববার আরও পাঁচজনকে চমেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। যারা হাসপাতালে ভর্তি আছে সবাই ভালো আছে।'

বর্তমানে অজানা ওই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ জন বিআইটিআইডি হাসপাতালে ও বাকি ৫৬ জন চমেকে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, মধ্যম সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পল্লীতে অজ্ঞাত রোগের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত দুই কমিটি রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিকেলে এ সংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদন ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠান সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। ত্রিপুরা পল্লীতে ৯ শিশুর মৃত্যু ও অধিকাংশ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার পর গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে দুটি কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, 'দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। এ প্রতিবেদনগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে ডিজি স্যারের কাছে এগুলো জমা দেয়া হবে। তিনি আইইডিসিআর বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের সাথে এগুলো মেলাবেন। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রতিবেদনে ইপিআই স্বাস্থ্য সহকারীদের বিরুদ্ধে কোন রকম অভিযোগ উঠে আসলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই মধ্যম সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পাড়ার সর্দার সুজন ত্রিপুরার দুই ছেলে জানাইয়া ত্রিপুরা ও কানাইয়া ত্রিপুরার হালকা সর্দি হয়। পরদিন তারা ভারী জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর ৮ জুলাই ওই শিশুদের গায়ে বিচি ওঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এরপর পেট ফেঁপে একদিন পর ৯ শিশু মারা যায়। এরপর একে একে পাড়ার বেশিরভাগ শিশু অজ্ঞাত ওই রোগে আক্রান্ত হয়।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved