শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৭, ১৯:৩৮:৩২

বগুড়ায় যমুনার পানি বাড়ছে না, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

বগুড়া ব্যুরো
যমুনা নদীর পানি নতুন করে আর না বাড়ায় বগুড়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পানি স্থির রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানে পানি কমতে শুরু করেছে ফলে আগামীতে বগুড়ার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।

তবে দুই সপ্তাহ ধরে বন্যার পানি আটকে থাকায় জেলার তিন উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার বিকেলে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আয়োজিত বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, বন্যায় জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় মোট তিন হাজার ৭০৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ কোটি ৯১ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা। ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মোট ২৪ হাজার ২৫ কৃষক পরিবার।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিন উপজেলার মধ্যে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ৭৩ শতাংশ জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে সারিয়াকান্দিতে। এছাড়া সোনাতলায় ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ধুনট উপজেলায় ক্ষতি হয়েছে গড়ে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ জমির ফসল। তবে ফসলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উঠতি পাটের। যার পরিমাণ ১ হাজার ৯৫৯ হেক্টর। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ১৭ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় পাটের পরেই স্থান পেয়েছে আউশ ধান।

বন্যার পানিতে তিন উপজেলায় ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মোট ১ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমির আউশ ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়াও ৯৮ হেক্টর জমির শাক-সবজি, ৫২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ১৫ হেক্টর মরিচ এবং ১ হেক্টর জমির আখ বিনষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন কাজ শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, ‘গম, সরিষা, ভুট্টা এবং মাসকলাই-এই চার ধরনের ফসল আবাদের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বীজ এবং সার দেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়ার জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৯৩ গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৪০ পরিবারের মধ্যে ৪ হাজার ২৯০ পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিতরণের জন্য এ পর্যন্ত ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১২ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৮৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৩লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ বরাদ্দ করা হয়েছে।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, যমুনার পানি এখনও বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপরে থাকলেও বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে আর বাড়ছে না।

দু’ একদিনে পানি কমতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উজানে পানি কমতে শুরু করেছে সে কারণে আমরা ধারণা করছি বগুড়াও পানি কমতে শুরু করবে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved