শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৭, ১৯:২০:৪১ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৭, ২১:১০:৫৫

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের ভাংচুর

সিলেট ব্যুরো
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিলেটে নগরীর মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি কলেজ) ছাত্রাবাসে ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগ।
 
বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে আজাদ-রনজিৎ গ্রুপের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ছাত্রাবাসে হামলা চালায়।
 
এতে ছাত্রবাসের পাঁচটি ব্লকের অন্তত ৪০-৪৫ কক্ষের দরজা-জানালা ক্ষতিস্ত হয়; কয়েকটি কক্ষে লুটপাট করার অভিযোগও উঠেছে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩০-৩৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা-ভাংচুর করে চলে যাওয়ার পর বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
 
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে।
 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে সবাইকে ছাত্রাবাস ছাড়তে বলা হয়েছে বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ।
 
তিনি সমকালকে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে; যাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
 
এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এ রিপোর্ট পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।
 
২০১২ সালের ৮ জুলাই শিবির তাড়াতে গিয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তিনটি ব্লকে অগ্নিসংযোগ করে ছাত্রলীগ। সেই সময়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড়ের মধ্যে ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
 
বৃহস্পতিবার হামলার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এই সময় তারা দায়ীদের বিচার দাবি করেন।এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের ভাংচুর
ভাঙচুরের পর এমসি কলেজ ছাত্রাবাস- ছবি ইউসুফ আলী
 
সরজমিনে দেখা গেছে, ছাত্রাবাসের ছয়টি ব্লকের মধ্যে পাঁচটিতে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ভাংচুর করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ব্লকে ৮টি, দ্বিতীয় ব্লকে একটি, চতুর্থ ব্লকে ১৫টি (এই ব্লকে ১৫টি কক্ষ-ই রয়েছে), পঞ্চম ব্লকে ১৪ টি এবং শ্রীকান্ত ব্লকে ৫টি কক্ষে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়। এই সময় অধিকাংশ কক্ষ বন্ধ থাকায় হামলাকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ছাত্রলীগ নেতা টিটু চৌধুরীর নেতৃত্বে বহিরাগত ৩০-৩৫ জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে জানান তারা।
 
এই সময় এক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনার কথা জানান ছাত্রাবাসের সাধারণ কয়েকজন শিক্ষার্থী; যাদের কয়েকজন ল্যাপটপ, মোবাইলসহ মূল্যবান মালপত্র লুটপাটের অভিযোগ করেছেন।
 
ভাংচুর হওয়া কক্ষগুলোতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক হোসাইন আহমদের অনুসারীরা থাকতেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগ নেতা টিটু চৌধুরীর সঙ্গে হোসাইন আহমদের অনুসারীদের কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলে আসছিল বলে ওই সূত্র জানায়। বুধবার রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে নগরীর টিলাগড় এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
 
বিবদমান দুইপক্ষই মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে। তবে আজাদুর রহমান ও রনজিৎ সরকার উভয়েই ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
 
আজাদুর রহমান সমকালকে বলেন, এলাকায় ঘটনা হওয়ায় অনেকে আমাকে জড়িয়ে ফেলে। অন্যদিকে ঢাকায় আছেন উল্লেখ করে রনজিৎ সরকার সমকালকে বলেন, এসবের কিছুই আমি জানি না। আর আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করি না, মদদও দেই না।
 
এ ব্যাপারে টিটু চৌধুরী ও হোসাইন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি; দুইজনের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।
 
শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, বিবদমান দুটি পক্ষ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রাবাসে হামলা ও ভাংচুর করেছে। ঘটনার পর থেকে ছাত্রাবাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।  
আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved