শিরোনাম
 আদিলুরকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া   ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন  ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ  আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা শুক্রবার
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৭, ০২:০৫:৪৭
ভোটের হাওয়া: রংপুর-৩

চ্যালেঞ্জে পড়বেন এরশাদ

ইকবাল হোসেন, রংপুর

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে শক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি রংপুর-৩ (সদর) আসনে লড়বেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেছেন, রংপুরের রাজনীতিতে এক সময় আওয়ামী লীগের জয়জয়কার অবস্থা ছিল। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে সে পরিস্থিতি বদলে যায়। সস্তা আবেগের ওপর ভর করে জনপ্রিয়তা পায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এখন সে পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করেছে। সস্তা আবেগের অবস্থান থেকে জনগণ নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে।



স্থানীয় এ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে, রংপুরের উন্নয়নের প্রায় সবটাই হয়েছে আওয়ামী লীগের শাসনামলে। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা তুলনামূলক বিচারে অনেকটাই দুর্বল হওয়ায় রংপুরে আওয়ামী লীগের বিকল্প কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই। তাই আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে জাতীয় পার্টি চ্যালেঞ্জেই পড়বে।



হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রার্থী হলেও ভিন্নতা আসবে না। নির্বাচনের পর কাছে না পাওয়ায় রংপুরের মানুষ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। তার জনপ্রিয়তাও আগের মতো নেই।



প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির দুই সমর্থক মাহিগঞ্জের ফারুখ মিয়া ও ছালামত উল্লাহ। তারা জানিয়েছেন, রংপুর-৩ আসন থেকে কয়েক দফায় নির্বাচিত এমপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এলাকার কোনো উন্নয়ন করেননি। বেশিরভাগ সময় তিনি ঢাকায় থাকেন। তাকে সুখ-দুঃখে কাছে পাওয়া যায় না। এ বিষয়টি চিন্তা-ভাবনায় রেখেই আগামীতে ভোটাররা তাদের নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা ভাবছেন।



তাজহাট এলাকার দুই ভোটার মাহবুব মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বিজয়ী হতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। কারণ এখানকার মানুষ আর জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাস করতে চাইছে না। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থী থাকলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে আগের মতো সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পেরোনোর ক্ষেত্রে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



এক সময়ের শক্ত ঘাঁটি রংপুরে এখন জাতীয় পার্টির অবস্থা বেহাল। আগে লাঙ্গল মার্কা হলেই জাতীয় পার্টির দুর্বল প্রার্থীও নির্বাচনে জয়ী হতেন। নির্বাচনী প্রচারণারও খুব একটা প্রয়োজন হতো না; কিন্তু সেই এমপিরা নির্বাচিত হওয়ার পর দলের সে অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এসব কারণে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা কিছুটা হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।



অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি বলেন, রংপুরের উন্নয়নে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের যে অবদান রয়েছে, তা আর কোনো এমপির নেই। এরশাদ প্রায় প্রতি মাসে রংপুরে আসেন। মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তা ছাড়া রংপুরের অন্যান্য আসনের মতো এ আসনেও জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাই রংপুর-৩সহ সব আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাই নির্বাচিত হবেন। অন্য কোনো দলের প্রভাব নেই রংপুরে।



রংপুর-৩ আসনে দলীয় মনোনয়নের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাফ ডজনেরও বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের প্রস্তুত করছেন। সবাই দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। তাদের মধ্যে রয়েছেন_ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও নারী নেত্রী লতিফা শওকত।



আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থিতা সম্পর্কে অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া বলেছেন, তিনি রংপুরের উন্নয়নে কাজ করেছেন। রংপুরের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। এ কারণেই জনগণ তার সঙ্গে রয়েছে। তাই তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন। চৌধুরী খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। এমন উন্নয়ন আর কোনো সরকারের আমলে হয়নি। আর উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা রক্ষায় একজন যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন। এ কারণেই তিনি প্রার্থী হতে চাইছেন।



মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকাকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রংপুরের উন্নয়নে কাজ করেছেন। রংপুর বিভাগ, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর সিটি করপোরেশন বর্তমান সরকারের আমলেই হয়েছে। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তিনি প্রার্থী হতে চাইছেন। এ আসনে নারী নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক লতিফা শওকত। তিনি রংপুরের দৃশ্যমান উন্নয়নে আরও অবদান রাখার জন্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।



বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সংগঠনের রংপুর মহানগর সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও সহসভাপতি কাওছার জামান বাবলা। মোজাফ্ফর হোসেন ও শহিদুল ইসলাম মিজু প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন। সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন। কাওছার জামান বাবলা জানিয়েছেন, তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন। এবার সংসদ নির্বাচনে লড়বেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রচারণাও শুরু করেছেন। জনগণের কাছেও যাচ্ছেন।



জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) সাবি্বর আহমেদ ও বাসদের আবদুল কুদ্দুস এ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাবি্বর আহমেদ গত নির্বাচনেও প্রার্থী ছিলেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো অবস্থান নেই। সাবি্বর আহমেদ বলেছেন, গত নির্বাচনে তাকে পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আবদুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, তারা সব সময় জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে থাকেন। জনগণও তাদের চায়। এ কারণেই তিনি রংপুর-১ আসনে লড়বেন। এ জন্য পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved