শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৭, ২৩:২৫:৩৫ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৭, ০৯:৪৫:৫৩

দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যার অবনতি

সমকাল ডেস্ক
দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সেখানে লাখ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি। দুর্গত এলাকায় এখন প্রধান সমস্যা ত্রাণ সংকট। ত্রাণবাহী নৌকা গেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বানভাসি মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
 
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার্তদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
 
বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ৯০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ২০টিতে কমছে। আর ১২টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। সুরমা ও কুশিয়ারার পানি কমছে।
 
 
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে আরও বেড়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার (সে.মি.) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ২১ সে. মি.। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নদী-তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা ও পাশের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।
 
এদিকে, কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের বিলচতল গ্রামে পাউবোর নদীতীর রক্ষা বাঁধের ওপর দিয়ে পানি বুধবার নতুন করে উপচে পড়ায় পাশের ঢেঁকুরিয়া হাটে পানি আরও বেড়েছে। হাটের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় বন্যার্তরা ঢেঁকুরিয়া বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।
 
জেলার সদর, কাজীপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ১৬৭টি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ও সম্পূর্ণরূপে প্লাবিত হয়েছে।
 
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, 'নদীর পানি বাড়ায় যমুনার পশ্চিম পাড়ের বেশ কিছু বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে আমরা এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছি।'
 
বন্যায় জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চৌহালী উপজেলার ওমরপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীতে যাতায়াত ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে ত্রাণ তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমকর্তা আবদুর রহিম দুপুরে জানান, বন্যার্তদের মাঝে ১০৪ টন খয়রাতি চাল এবং তিন লাখ ৩৫ হাজার টাকা এরইমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও প্রায় ১৪৬ টন চাল এবং ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এখনও মজুদ রয়েছে বলে তিনি জানান।
 
এদিকে, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা বলেছেন, 'সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা নেই, আছে যমুনার নিম্নাঞ্চলের প্লাবন। উজানের পানি বাড়ার সঙ্গে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বাঁধের আশপাশে বিশেষ করে নদীর দিকে বা এমনকি চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এটি সত্যিকারে বন্যা নয়, এটিকে প্লাবন বলা যেতে পারে।'
 
গাইবান্ধায় ত্রাণ অপ্রতুল
 
গাইবান্ধা ও সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে এখন বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘটের পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বুধবার প্রবাহিত হয়। তবে তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বাড়লেও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। বন্যার ফলে নদী-তীরবর্তী চার উপজেলার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
 
দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যার অবনতি
ফুলছড়ির পূর্ব রতনপুর গ্রামে বাড়ির উঠোনে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ত্রাণের অপেক্ষায় লাকি বেগম—সমকাল
এদিকে, বন্যায় আক্রান্ত মানুষের অধিকাংশের কাছে এখনও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। আর যেসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে অপ্রতুলতার কারণে বেশিরভাগ লোকের কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না।
 
ফুলছড়ি উপজেলার কাবিলপুর সাদেক আলীর বাজারে বুধবার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ, জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। ওই ইউনিয়নে ২০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে দুই টন চাল বিতরণ করা হয়।
 
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন বলেন, 'অনেকেই ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছে।' তিনি আরও বলেন, তার ইউনিয়নে এক হাজার ৩৬৫ পরিবার পানিবন্দি। দুই টন চাল দিয়ে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয়নি।
 
উড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব রতনপুর গ্রামে লাকি বেগম বাড়ির উঠানে প্রায় কোমর পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে ত্রাণের অপেক্ষায়। তিনি জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি হলেও কেউ তাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেনি।
 
এদিকে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। উপজেলার চরাঞ্চলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার পরিবার। ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে বানভাসী পরিবারগুলো। বুধবার বন্যাকবলিত সাতটি ইউনিয়নের দুই হাজার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
 
নৌকায় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বানভাসীদের কাছে গিয়ে ত্রাণ ও ওষুধ বিতরণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম গোলাম কিবরিয়া, ওসি আতিয়ার রহমান, পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
 
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, স্কুল ভবন ও চত্বরে পানি উঠায় চার উপজেলায় ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, 'প্রশাসনের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে ১০০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে প্রাপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২২৫ টন চাল ও ১৫ লাখ টাকা।'
আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved