শিরোনাম
 আদিলুরকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া   ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন  ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ  আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা শুক্রবার
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৭, ২০:৪৬:২৮

আট বছর ধরে ঘরেই সর্বনাশ হয়েছে মেয়েটির!

সমকাল প্রতিবেদক
ঘরেই সর্বনাশ হয়েছে এক তরুণীর। ঘৃণিত এ ঘটনার শুরু হয় তার ১২ বছর বয়সে। সেইসময় থেকে তার সৎ বাবা আরমান হোসেন ওরফে সুমন (৩৮) তাকে ধর্ষণ করে আসছিলেন।

টানা আট বছর এমন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর মঙ্গলবার রমনা থানায় মামলা করেন ওই তরুণী। অভিযুক্ত সুমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পুলিশ তাকে খুঁজছে।

রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন সমকালকে বলেন, সুমনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন তরুণী। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহারে তরুণী উল্লেখ করেন, আরমান হোসেন ওরফে সুমন তার সৎ বাবা। ২০০৫ সালে তরুণীর মা সুমনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এর এক বছর পর থেকে মা ও সৎ বাবার সঙ্গে বসবাস শুরু করে মেয়েটি। মোহাম্মদপুরের নূর জাহান রোডে এক ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। তার মা চাকরির সুবাদে সকালেই বাসা থেকে বের হয়ে যেতেন অফিসে। ২০০৮ সালে মেয়েটি সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, সেমময় ওই বাসায় তাকে ধর্ষণ করেন তার সৎ বাবা সুমন। মেয়েটির আপত্তিকর ছবি তোলেন মোবাইল ফোনে। কাউকে না জানাতে তিনি হুমকি দেন মেয়েটিকে।

তিনি এতে আরও বলেন, ভয়ে ও মায়ের স্বামী হওয়ায় মেয়েটি বিষয়টি গোপন রাখেন। এরপর নগ্ন ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার মায়ের অবর্তমানে বাসায় দিনের পর দিন মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ২০১২ সালে নূর জাহান রোড থেকে মগবাজার দিলু রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা চলে আসেন। এ বাসাতেও সুমন তাকে প্রায়ই নির্যাতন করে আসছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে মেয়েটি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে সুমন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত ঘটান। এরপরও তার ওপর নির্যাতন থামেনি। ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর তরুণী ওই বাসা ছেড়ে তার মগবাজারে খালার বাসায় ওঠেন। সেখানেও তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে তার কাছে যেতে বলতেন ও নানাভাবে হুমকি দিতেন। কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ক্লিপ তরুণীর এক বন্ধুর ফেসবুক ইনবক্সে পাঠিয়ে হুমকি দেন সুমন। তিনি ওই তরুণীর ছবিযুক্ত করে দু’টি ফেসবুকে দুটি নকল আইডি খোলেন বলেও তরুণীর অভিযোগ।

এবিষয়ে তরুণী  চলতি বছরের ২১ জুন রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও ওই ফেসবুক আইডি দু’টি থেকে তরুণীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তরুণীর মা বিষয়টি জানলেও মেয়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মামলাটির সঙ্গে সাইবার অপরাধযুক্ত। তাই আমরা এ মামলার ছায়া তদন্ত করছি। অপরাধ ঘটেছে তা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved