শিরোনাম
 কাবুলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত ২৪  ৪১৮ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে  ভারি বৃষ্টির সাথে পাহাড় ধসের শঙ্কা, সাগরে ৩ নম্বর সংকেত  জর্ডানে ইসরায়েলি দূতাবাসে গুলি, নিহত ২
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৭, ০১:২৩:০২

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে আড়াইশ' কোটি টাকার সরঞ্জাম

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে গতি আনতে বিশেষ উদ্যোগে কেনা হচ্ছে আড়াইশ' কোটি টাকার সরঞ্জাম। টেন্ডার কার্যক্রম চূড়ান্ত হয়ে থাকায় বন্দরে ২৯টি সরঞ্জাম যুক্ত হবে ছয় মাসের মধ্যে। এর মধ্যে রয়েছে রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রিক্রেন, স্ট্রাডল ক্যারিয়ার, কনটেইনার মুভার, লক হ্যান্ডলার, টেলি হ্যান্ডলার ও আরএমজি। প্রথম চালানে সাতটি সরঞ্জাম আসবে ১৮ জুলাই। চলতি অর্থবছরে এমন আরও ৮০টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম যুক্ত হলে ক্রমবর্ধমান নৌ-বাণিজ্য সামাল দিতে পারবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাড়বে বন্দরের সক্ষমতাও। এর আগে কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়ার পরও এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম আনতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, 'বন্দরে যন্ত্রপাতি সংকট দীর্ঘদিনের। কিছু যন্ত্রপাতি উন্মুক্ত দরপত্রে এবং কিছু যন্ত্রপাতি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা হচ্ছে। এটি নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করলেও সংকট মোকাবেলায়

এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ছিল না।' বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নজমুল হক বলেন, এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে ২৪টি নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের।

সংকট কাটাতে গত অর্থবছরই চট্টগ্রাম বন্দর এনসিটি প্রকল্পের এক হাজার ১২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়। আরও তিন বছর আগে এসব যন্ত্রপাতি কেনার কথা থাকলেও নানা অনিয়মের অভিযোগে তা পিছিয়ে পড়ে। বন্দর কর্তৃপক্ষ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েও একবার যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এরপর বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠালে এ প্রকল্পের সব যন্ত্রপাতি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। উন্মুক্ত দরপত্রের বাইরে গিয়ে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতেও যন্ত্রপাতি কিনতে সম্মতি দেয় মন্ত্রণালয়। এমন সম্মতি পাওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ কিছু যন্ত্রপাতি উন্মুক্ত দরপত্রে এবং কিছু সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কিনতে টেন্ডার আহ্বান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত অর্থবছরে এসেছে কিছু সরঞ্জাম। তবে বেশিরভাগ সরঞ্জাম আসছে আগামী ছয় মাসে।

এনসিটি প্রকল্পের সরঞ্জামের মধ্যে আছে_ ছয়টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রিক্রেন (আরটিজি), আটটি স্ট্রাডল ক্যারিয়ার, চারটি এম্পটি হ্যান্ডলার ফর্ক লিফট, পাঁচটি কনটেইনার মুভার, সিসিটি ইয়ার্ডের আইসিডি পয়েন্টের জন্য দুটি আরএমজি ও দুটি কি গ্যান্ট্রিক্রেন। এ ছাড়া পণ্য ওঠানো-নামানো করাতে বিভিন্ন ধারণক্ষমতার ৩১টি মোবাইল ক্রেন, আরও ৩৮টি ফর্ক লিফট ট্রাক, ১৪টি ট্রাক্টর, ১৮টি ট্রেইলর, চারটি লগ হ্যান্ডলার, চারটি পানির ভাউচার ও দুটি কনজারভেন্সি ট্রাকও কেনার প্রক্রিয়ায় আছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এ প্রকল্পের বাইরেও কিছু যন্ত্রপাতি কিনছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানা যায়, গত অর্থবছরে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৪টি যন্ত্রপাতি কিনেছে তারা।

এ প্রসঙ্গে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, 'বন্দর কর্তৃপক্ষের অনেক আগেই এসব সরঞ্জাম কেনা উচিত ছিল। আড়াইশ' কোটি টাকার যন্ত্রপাতি শিগগির বহরে যুক্ত হবে বলে আশাবাদী আমরা।' সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, 'যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে এখন এক ঘণ্টার কাজ তিন ঘণ্টায় হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি এলে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে।'


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved