শিরোনাম
 আদিলুরকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া   ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন  ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ  আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা শুক্রবার
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৭, ০২:২১:১৫
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন

প্রকল্প নিয়ে মুখোমুখি চসিক ও সিডিএ

আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্প নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিডিএর জমা দেওয়া সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে আজ রোববার পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সম্মতি মিললে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সম্মতি (অনুশাসন) মেলায় সিডিএর এ প্রকল্পটি পিইসি সভায় উঠছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের নেওয়া পাঁচ হাজার কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। এক বছর ধরে সম্ভাব্যতা যাচাই করেই প্রকল্পটি পাঠানো হয়েছে। সিডিএর প্রকল্পে কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। তাই পিইসি সভায় সিডিএর প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তি তুলবে চসিক। শুধু তাই নয়; চসিককে অবহিত না করে নগরে কেউ যাতে কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করে তা জানিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন মেয়র নাছির।



চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সমকালকে বলেন, একটি প্রকল্প প্রস্তাব যেখানে পাঠানো হয়েছে সেখানে আরেকটি সংস্থার নতুন প্রকল্প পাস হওয়ার সুযোগ নেই। পিইসি সভায় এসব তুলে ধরা হবে। অন্য প্রশ্নে তিনি বলেন, নগরে কোনো প্রকল্প নিতে হলে চসিকের সঙ্গে সমন্বয় করতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা আছে। এ বিষয়টি জানিয়ে ৩ জুলাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।



এ বিষয়ে সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ভারি বর্ষণে এখন চট্টগ্রামের রাস্তার ওপর নৌকা চলছে। সুতরাং এটাকে আর জলাবদ্ধতা বলা যাচ্ছে না। এ সমস্যার ওপর সরকারের দৃষ্টি পড়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখবে চট্টগ্রামবাসী। তিনি বলেন, ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তবে সরকার চাইলে যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে।



দুই প্রতিষ্ঠানের এমন মুখোমুখি অবস্থান প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান বলেন, ব্যক্তি বিবেচনায় প্রকল্প অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। সরকারের কাছে যিনি আস্থাভাজন তাকে দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার যে দায়িত্ব তাকে দিয়ে সে কাজ করানো উচিত।



জানা যায়, চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছিল মাস্টারপ্ল্যান। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও জাতিসংঘের মানববসতি কর্মসূচির (ইউএনসিএইচএস) সহায়তায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছিল ড্রেনেজ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা। তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ ধাপে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯২৩ কোটি টাকা। ২২ বছর পেরোলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি খাল খনন প্রকল্প ছাড়া আর কোনো প্রকল্প নিতে পারেনি সিটি করপোরেশন। খাল খনন প্রকল্পও বরাদ্দের অভাবে আলোর মুখ দেখেনি।



গত এপ্রিল থেকে কয়েক দফা বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। গত জুনে 'চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্প তৈরি করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদনের পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় প্রকল্পটি। এ প্রকল্পটিই আজ পিইসি সভায় উপস্থাপন হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৮৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।



এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়নার মাধ্যমে জি টু জি পদ্ধতিতে 'চট্টগ্রাম নগরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি' নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয় চসিক। গত মে মাসে প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার 'চিটাগং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড স্যানিটেশন' প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডও।


মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved