শিরোনাম
 সিদ্দিকুরকে চেন্নাই নেয়া হচ্ছে  ইতিহাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরে উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন: প্রধানমন্ত্রী  সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পাড়ার আরেক শিশুর মৃত্যু  সংবিধানিক অধিকারকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে সরকার: রিজভী
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৭, ২২:৫৮:০৩ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৭, ০১:৩৩:৩৯

সিলেটে বন্যায় ভাসছে সহস্রাধিক গ্রাম

সিলেট ব্যুরো
সিলেট বিভাগের দুই জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে; এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে সহস্রাধিক গ্রাম। অবশ্য সরকারি হিসাবে সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা মিলে ১২ উপজেলায় ৭৮০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে; যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৩৬৯ জন।

টানা ভারি বর্ষণ ও অব্যাহত পাহাড়ি ঢলের ফলে সিলেটে বিভিন্ন উপজেলায় ১০-১৫ দিন ধরে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। সহসা পানি না নেমে গেলে বিপুল পরিমাণ ফসলহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৌলভীবাজার জেলায় কুশিয়ারা নদীর পাশাপাশি হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইলহাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার ৩৩ ইউনিয়নের মানুষ বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে।

শুরুতে দুই জেলার আট উপজেলার মানুষ বন্যাকবলিত হলেও পানি বাড়ায় আরও তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জের পর জকিগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কিছু নিচু এলাকা ডুবে গেছে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিলেটে বিভিন্ন উপজেলায় ৪৬৬ গ্রাম এখন বন্যাকবলিত; যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৩৮ হাজার জন। তিনি জানান, গতকাল বুধবার পর্যন্ত জেলায় দুই লাখ ৭৭ হাজার টন চাল ও দুই লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলায় মোট ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে চারটি করে এবং বালাগঞ্জে তিনটি রয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখনও জেলায় দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিয়ানীবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন সড়ক এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

এদিকে মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষ। এ ছাড়া রাজনগর ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, জেলায় বন্যাকবলিত ৩১৪টি গ্রামে দুই লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিন দিন পানি বাড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তবে বেসরকারি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম ও মানুষের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী দুই জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার ৯৬ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি সিলেটে সবক'টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত কানাইঘাটে সুরমা নদী ৭৭ সেন্টিমিটার, সিলেটে ১০ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারার শেওলায় ৬৭ সেন্টিমিটার, আমলসীদে ৭৬ সেন্টিমিটার, শেরপুরে ১৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চার হাজার ৩৩০ হেক্টর ফসলি জমি; খাদ্য সংকটে মারা গেছে বিপুলসংখ্যক হাঁস-মুরগিসহ গবাদিপশু। ফেঞ্চুগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী সড়কের ওপর ৩-৪ ফুট পানি ওঠায় এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকার যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা।

অবিরাম বর্ষণে ফেঞ্চুগঞ্জের কালাকাটি এলাকায় টিলা ধসে যেকোনো মুহূর্তে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ঘিলাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ বাবুল। তিনি বলেন, হাকালুকির হাওর তীরবর্তী নিজ ঘিলাছড়া ও আশপাশের গ্রামে পানিবন্দি মানুষ ঘরের ভেতর মাচা বানিয়ে বসবাস করছে। বিয়ানীবাজারের বন্যা পরিস্থিতিও অপরিবর্তিত রয়েছে; অনেক এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা। গত সপ্তাহখানেক ধরে পানিবন্দি থাকায় যাদের নৌকা নেই তারা রয়েছেন চরম বিপাকে। কুশিয়ারায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলার সাত ইউনিয়ন ও পৌরসভার মানুষ এখনও পানিবন্দি। খশির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জ্বর নিয়ে গত রোববার আশ্রয় নেন নোয়াপাড়ার আবদুর রহিম তোতা। গত সোমবার দুপুরের দিকে তিনি সেখানেই মারা যান বলে জানান কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত মঙ্গলবার থেকে বিয়ানীবাজার উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এসব ত্রাণ এসে পৌঁছাবে। বালাগঞ্জ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন করে আর বৃষ্টিপাত না হলে পানি কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ। তিনি বলেন, বন্যার্তদের সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved