শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭, ২০:৩৫:৫৫ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৭, ০৯:২১:২৩

বিনা মার্জিনে চালের এলসি খোলা যাবে

সমকাল প্রতিবেদক
চালের সরবরাহ বাড়াতে শূন্য মার্জিনে চাল আমদানির ঋণপত্র খুলতে পারবে ব্যাংক। চালের বাজারে অস্থিরতা রোধে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক থাকবে কি থাকবে না, এ নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে চাল আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে মার্জিন সুবিধা চালের বাজারে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এদিকে, চাল আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারে খাদ্যমন্ত্রীর পর সোমবার পরিকল্পনামন্ত্রীও সুপারিশ করেছেন।

সরকারি-বেসরকারি খাতে চালের মজুদ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে মাত্র এক লাখ ৯১ হাজার টন চাল রয়েছে। বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ লাখ টন কম চাল নিয়ে এ বছর শুরু করেছেন। এর মধ্যে আবার হাওর অঞ্চলে বন্যা চালের বাজার অস্থির করে তুলেছে।

দাম বেড়ে এখন প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে। মানভেদে সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা দরে। তবে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় চালের বাজারে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারছে না। বেশ কিছু দিন ধরে ওএমএস বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবারের সার্কুলারে বলা হয়েছে, যেকোনো আমদানির এলসি স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্জিনের হার নির্ধারণের নির্দেশনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হাওর এলাকায় বন্যা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের স্বাভাবিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বাজারে চালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে শূন্য মার্জিনে ঋণপত্র খোলার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ধান, চাল ব্যবসায়ী ও চাতাল বা মিল মালিকদের ঋণের পরিশোধ সময়সীমা পুনঃনির্ধারণের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘুর্ণায়মান সিসি বা ওডি ঋণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মিল মালিকদের সব ধান, চাল ব্যবসায়ীদের নেওয়া ঋণ সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর-পর আবশ্যিকভাবে সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উক্ত নির্দেশনার যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করার জন্য আপনাদেরকে পুনরায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার চান পরিকল্পনামন্ত্রী

চাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারে খাদ্যমন্ত্রীর পর এবার পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের প্রধান খাদ্যপণ্যে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তিনি এ সুপারিশ করেছেন।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, 'চালের দাম বেড়েছে এটা স্বীকার করছি। আবার কমেও যাবে আশা করি। বাজারে চাল নেই তা না। তবে পরিস্থিতি ভালো হলেও সরকারের, মন্দ হলেও সরকারের। এ বছর হাওড়ে আগাম বন্যা হওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে।'

মুস্তফা কামাল বলেন, 'দেশের কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় সেজন্য সরকার চাল আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। তবে এখন অস্বাভাবিক সময় যাচ্ছে। চালের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়া উচিত। আশা করি, সরকার এ বিষয়টি বিবেচনা করবে।'

তিনি আরও বলেন, 'মিলারদের কাছে পর্যাপ্ত চাল আছে। ওইসব চাল বাজারে আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া সরকারের হাতেও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আবার আমদানিও হচ্ছে। ২/১ দিনের মধ্যে ৫২ হাজার টন চাল দেশে আসছে। চাল নিয়ে যে আশঙ্কা তা শিগগিরই কেটে যাবে।'

আরও পড়ুন
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved