শিরোনাম
 এক মাস কঠোর সংযমের পর এলো খুশির ঈদ  ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত  ঈদের জামাতে দেশের কল্যাণ কামনা
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭, ০০:৫৮:১৮

লোকসানি শাখা কমাতে হবে

সমকাল প্রতিবেদক
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ১৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চুক্তিতে নিজেদের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আর্থিক ও ব্যবস্থাপনা সূচকগুলোতে কতটা অগ্রগতি করতে হবে, তার লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে লাভজনক বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। কমাতে হবে লোকসানি শাখা। এসএমই খাতে ঋণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলাদা চুক্তি হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করতে হবে। বাড়াতে হবে ঋণ আদায়। মামলাও কমিয়ে আনতে হবে। পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে। মানব সম্পদ উন্নয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নে অটোমেশন বাড়ানোর লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল যেসব প্রতিষ্ঠান চুক্তি করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল। রয়েছে বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এ ছাড়া আনসার ভিডিপি ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক চুক্তি করেছে। সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও আইসিবি চুক্তি করেছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিও (এমআরএ) চুক্তি করেছে গতকাল।

সরকার গত তিন বছর ধরে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি করে আসছে। এ চুক্তির মাধ্যমে একটি মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরবর্তী বছরে কী কী কাজ করবে তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পুরো সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে চুক্তি করেন। আর মন্ত্রণালয়গুলো অধীনস্থ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে থাকে। আগামী ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আগামী অর্থবছরের চুক্তি করবেন। আগামীতে সরকারের প্রত্যেক কর্মকর্তাকেও এ ধরনের চুক্তির আওতায় আনা হবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক ২০১৬-১৭ অর্থবছরেই প্রথম এ ধরনের কর্ম সম্পাদন চুক্তি করেছে। আগামী ৩০ জুন প্রথম চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এর পর প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তির লক্ষ্য কতটা অর্জন করতে পেরেছে তার মূল্যায়ন করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নে আগে থেকেই তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়ে আসছিল। এখন কর্ম সম্পাদন চুক্তি হচ্ছে একটু ভিন্নভাবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক সমালোচনা রয়েছে। আবার অনেক অর্জনও আছে। দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ বিভিন্ন খাতে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবামূলক কাজও করে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। আবার এসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণসহ অন্যান্য সূচকে ভালো অবস্থানে নেই। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আশা করা যায়, বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনেক দূর্বলতা কাঠিয়ে উঠতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সামগ্রিকভাবে ব্যাংকসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক সমালোচনা আছে। এ চুক্তি সেই সমালোচনা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

অগ্রণী ব্যংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস উল ইসলাম বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যে আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক :বৈদেশিক বাণিজ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো উদ্বেগজনকভাবে অংশীদারিত্ব হারাচ্ছে বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো। পাঁচ বছর আগে ২০১১ সালে মোট আমদানি ব্যয়ের ২৭ শতাংশ মেটানো হতো এসব ব্যাংকের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে তা কমে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে আগে যেখানে মোট রফতানির ১৮ শতাংশ এসব ব্যাংকের মাধ্যমে হতো, এখন তা নেমে এসেছে ১০ শতাংশে। সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টির কারণে এমন হচ্ছে। একই সময়ে আমদানি-রফতানিতে দেশীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অংশ বাড়ছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংকস শীর্ষক রিভিউ কর্মশালায় এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved