শিরোনাম
 সাত খুন মামলায় ১৫ জনের ফাঁসি বহাল, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  প্রধান বিচারপতির সঙ্গে গওহর রিজভীর সাক্ষাৎ  বিবিএস ক্যাবলসের অস্বাভাবিক দর তদন্তে কমিটি  বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষি ও এসএমই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭

এ সমস্যাও চাপা পড়বে...

আসিফ আহমেদ
বয়স বাড়লে কিছু নারী-পুরুষ একটি ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়_ পড়ে গিয়ে হাত বা পা কিংবা কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়া। তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙা নয়। বরং হাড় ভেঙে গিয়েছে বলেই এভাবে পড়ে যান বয়স্করা। মানুষের হাড় ক্রমে ক্ষয় হয়ে যায়। বাথরুম কিংবা অন্য কোনো পিচ্ছিল স্থানে যে কোনো বয়সের নারী-পুরুষকেই সতর্ক হয়ে চলতে হয়। এসব স্থানে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
বাংলাদেশের রাজনীতি ঘটনাবহুল। পশ্চিমা দেশের একাধিক কূটনীতিকের কাছে শুনেছি, এ দেশে অবস্থানকালে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত নতুন নতুন খবর পাঠাতে হয় এবং তার জোগানে কোনো সমস্যা হয় না। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশে এসেছেন এমন এক কূটনীতিক বলেন, সেখানে এক বা দুই সপ্তাহ রাজধানীর বাইরে থেকে কাজে যোগদান করে দেখেছেন, নতুন কোনো খবর নেই। যেমন ছিল তেমনই আছে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিদিন নতুন কিছু ঘটে। কয়েক ঘণ্টা অনুপস্থিত থাকলেও মনে হতে পারে, বড় কিছু মিস হয়ে গেল।
কিছুদিন আগে আমাদের নজর ছিল হাওর এলাকায়। অকাল বন্যায় কত খাদ্য নষ্ট হয়েছে, সেটা নিয়ে বিস্তর আলোচনা। ক্রমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু স্থানান্তরিত হয় মোটা চালের দাম নিয়ে। এ আলোচনা চলতে চলতেই পাহাড় এলাকায় বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটে। এমন বিপর্যয় অনেক দিন ঘটেনি। এত করুণ মৃত্যু রাঙামাটি দেখেনি। বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি বিষয়ে মোটামুটি সবাই একমত_ পাহাড় কেটে, বন উজাড় করে এমন বিপর্যয় আমরা ডেকে এনেছি। পাহাড়ি এলাকায় 'পাহাড়ি' জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল যুগ যুগ ধরে। 'সেট্লার' বা বহিরাগতও ছিল সেখানে। কিন্তু বাংলাদেশের এক সময়ের সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান সত্তরের দশকের শেষদিকে পাহাড়ে বিভিন্ন চর থেকে হতদরিদ্র ও ভূমিহীনদের বসবাসের জমি ও পাহাড় দিলেন স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের জন্য। এর পেছনে প্রকৃতির নিয়মকে অস্বীকারের প্রবণতা ছিল, শক্তির দাপট ছিল। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষও ছিল। সর্বোপরি ছিল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা। জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের শাসনামলেও এ অপ-নীতি অব্যাহত থাকে। তারা দু'জনে মিলে পাহাড়ের ডেমোগ্রাফি বদলে ফেলতে সক্ষম হন। তাদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল দুটিও এ নীতি অনুসরণ করতে থাকে। তারা পাহাড়ে যাদের বসতির জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগ ওই প্রকৃতির পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে বসবাসের নিয়ম-কানুন জানে না।
আওয়ামী লীগ পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সচেষ্ট হয় এবং চুক্তি সম্পাদন করে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে পরিবর্তন ঘটে গেছে পাহাড়ে, তাকে উল্টোমুখী করে ফেলার কাজে তারা তেমন গা করতে চায়নি। প্রকৃতই যে পাহাড়ে এখন 'পাহাড়িরা' সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়!
রোববার এই পাহাড়ের ধস দেখতে রওনা হয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তারা পথে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর দায় চেপেছে আওয়ামী লীগের ওপর। রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুতই ফোকাস বদলে গেল_ পাহাড়ে ধস নয়, বিএনপির গাড়িবহরে হামলা চলে এলো সামনে। এ জন্য কারা দায়ী, সেটা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে পারস্পরিক দোষারোপ। নতুন একটি ইস্যু সামনে না আসা পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞরা জানেন, নতুন ইস্যু পেতে বেশি সময় দরকার পড়বে না। তারা এটাও জানেন যে, পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙেছে, নাকি হাড় ভেঙে পড়ে গিয়েছে_ এ বিতর্ক এতই প্রবলভাবে এখানে চলে; যখন ভাঙা হাড়ের চিকিৎসার বিষয়টি সহজেই চাপা পড়ে যায়। পাহাড়ের সমস্যাও তেমনি চাপা পড়বে।
মন্তব্য
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved